ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বিতর্কের সমাপ্তির পর অভিশ্রুতি শাস্ত্রী নামে পরিচিত নারী সাংবাদিক বৃষ্টি খাতুনের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
ডিএনএ নমুনা পরীক্ষা করে পরিচয় নিশ্চিতের পর সোমবার বৃষ্টির মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এরপর মরদেহ নিয়ে পরিবারের সদস্যরা গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার বনগ্রামের উদ্দেশে রওনা হন। রাত সাড়ে আটটার দিকে বৃষ্টির মরদেহ পৌঁছানোর পর কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা।
আত্মীয়-স্বজন ছাড়াও আগুনে নিহত নারী সাংবাদিকের মরদেহ দেখতে বিকেল থেকেই ছুটে আসেন আশেপাশের এলাকা বিভিন্ন বয়সী অসংখ্য নারী, পুরুষ।
এরপর রাত পৌনে দিকে গোসল সম্পন্ন করা হয় এবং রাত ১০টায় তার নামাজে জানাজা শেষে বনগ্রামের পশ্চিমপাড়া এলাকার পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়। এসময় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
গত ২৯ ফেব্রুয়ারি পৌনে ১০টার দিকে রাজধানীর বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজ ভবনের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৪৬ জনের মৃত্যু হয়। সেই আগুনে নিহত ওই নারী সাংবাদিক ফেইসবুক ও কর্মস্থলে নিজেকে পরিচয় দিতেন অভিশ্রুতি শাস্ত্রী নামে।
তার মৃত্যুর পর বাবা, ভাইসহ পরিবারের সদস্যরা এসে দাবি করেছেন, আগুনে নিহত সাংবাদিকের নাম বৃষ্টি খাতুন। তার বাড়ি কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায়।
ঘটনার পর অভিশ্রুতির পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার আবেদন করার বিষয় নিশ্চিত করেন রমনা কালীমন্দিরের সভাপতি উৎপল সাহা।
তিনি বলেন, অভিশ্রুতি শাস্ত্রীর পরিচয় নিশ্চিত করতে রমনা থানা ওসি ও ঢাকা জেলা প্রশাসক বরাবর রমনা মন্দির থেকে আবেদন করা হয়েছে।
এই অবস্থার মধ্যে ডিএনএ নমুনা পরীক্ষা করে নিহতের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হতে উদ্যোগ নেয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক বিভাগ। ১১ দিন বৃষ্টির মরদেহ থাকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের মর্গে।
অভিশ্রুতিই বৃষ্টি, পরিবারকে দেহ হস্তান্তর