ভারতের কলকাতায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া বাংলাদেশ ছাত্রলীগের (বর্তমানে নিষিদ্ধ) সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটনের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে তার মরদেহ বাংলাদেশে আসে।
কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট পাসপোর্ট মাধ্যমে বেনাপোল দিয়ে ভারতে পালিয়ে যান রোটন। শনিবার (১০ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল সোয়া সাতটায় কলকাতার রুবি জেনারেল হাসপাতালে তিনি মারা যান।
শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতার জন্য তার মরদেহ বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর অনুমতিপত্র ইস্যু করে কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন।
এরই ধারাবাহিকতায় রবিবার (১১ অক্টোবর) সকাল ১১ টার দিকে রোটনের মরদেহ সড়কপথে ভারতের পেট্রাপোল হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এ সময় তার মরদেহ গ্রহণ করেন বড়ো ভাই নাসিমুল হায়দার চৌধুরী মিল্টন। এর আগে তার বোনের ছেলে সোহানুর রহমানের কাছে কলকাতা থেকে মরদেহ হস্তান্তর করে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অনাপত্তিপত্র দেন বলেও জানায় দূতাবাস। পুলিশ প্রহরায় রোটনের মরদেহ বেনাপোল চেকপোস্ট থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানান বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুর রহমান।
রোটনের মরদেহ হস্তান্তরের সময় পুলিশ, বিজিবি ও প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে ভোর থেকে বেনাপোল চেকপোস্ট সীমান্ত এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়। সীমান্ত এলাকায় সাধারণ মানুষজন চলাচল প্রায় বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এদিন সকাল থেকেই বেনাপোল চেকপোস্ট ও এর আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানো এবং সীমান্ত এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ভারতের কলকাতার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (১০ অক্টোবর) মারা যান মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন। তিনি ২০০৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
ছাত্রলীগের রাজনীতি শেষ করে পরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন তিনি। চট্টগ্রামের রাউজানের এই রাজনীতিবিদ ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন। ২০২১ সালে আওয়ামী লীগের শ্রম ও জনশক্তিবিষয়ক উপকমিটির সদস্য হিসেবেও মনোনীত হন তিনি।
