সিলেট বিভাগে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের প্রাদুর্ভাব। দিন দিন আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। গত ২৪ ঘণ্টায় মৌলভীবাজারের বাসিন্দা সুমাইয়া (১৮) নামে এক তরুণী হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। এ নিয়ে বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫৮ জনে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত মারা যাওয়া ১৫৮ জনের মধ্যে তিনজন প্রাপ্তবয়স্ক এবং বাকি সবাই শিশু। জেলাভিত্তিক হিসেবে—সিলেটে ৬৪ জন, সুনামগঞ্জে ৫৯ জন, হবিগঞ্জে ২১ জন এবং মৌলভীবাজারে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরের এক জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় মোট এক হাজার ৩১ জনের শরীরে হামের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ৩৬৩ জন, সুনামগঞ্জে ৩৫৭ জন, মৌলভীবাজারে ১৫৮ জন এবং হবিগঞ্জে ১৫৩ জন রয়েছেন।
বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ৪৬৬ জন রোগী চিকিৎসাধীন। যার মধ্যে সিলেট শহরের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৯১ জন, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যার কলেজ হাসপাতালে ১৪১ জন এবং সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৩০ জন ভর্তি আছেন। বাকি আক্রান্তরা বিভাগের অন্য উপজেলা ও জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ল্যাব পরীক্ষায় কারও হাম শনাক্ত না হলেও একই সময়ে উপসর্গ নিয়ে নতুন ১১২ জন সন্দেহভাজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
হামের সংক্রমণ ও প্রাণহানি এড়াতে শিশুদের যথাসময়ে প্রতিষেধক টিকা নিশ্চিত করা, ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং আক্রান্তের লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত নিকটস্থ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার জন্য সর্বসাধারণকে আহবান জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
এদিকে স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য বলছে, পাঁচ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ৯১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। যাদের বেশির ভাগই শিশু।
দেশে গত ৪ মে ও ২৫ মে হাম ও উপসর্গে একদিনে সর্বোচ্চ ১৭টি শিশু এবং ২৪ মে একদিনে ১৬টি শিশুর মৃত্যুর কথা জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
