বাংলাদেশ ও ভারতের নৌ প্রটোকলের আওতায় চালু হলো রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সুলতানগঞ্জ নৌ-বন্দর এবং ভারতের মুর্শিদাবাদের মায়া নৌ-বন্দর পর্যন্ত পণ্যবাহী নৌযান চলাচল।
উদ্বোধনের পর এই নৌপথে সুলতানগঞ্জ থেকে ময়ার উদ্দেশে পণ্যবাহী একটি নৌযান ছেড়ে গেছে।
সোমবার পদ্মা ও মহানন্দার মোহনায় সুলতানগঞ্জে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এবং আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। অনুষ্ঠানে বাঙলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা উপস্থিত ছিলেন।
১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের আগ পর্যন্ত সুলতানগঞ্জ-মায়া ও গোদাগাড়ী-ভারতের লালগোলা নৌ-ঘাটের মধ্যে নৌপথে বাণিজ্য চালু ছিল। এক সময় এটি বন্ধ হয়ে যায়। উদ্বোধনের ফলে রাজশাহীর সুলতানগঞ্জ ঘাটটি নদীবন্দরের মর্যাদা পেলো।
সুলতানগঞ্জ নৌ-বন্দরের মাধ্যমে ভারত থেকে পণ্য আমদানিতে সময় ও খরচ কমে যাবে। এতে উপকৃত হবেন বাংলাদেশ-ভারত দুই দেশের ব্যবসায়ীরা। তারা আশা করছেন, বছরে এ নৌপথে দুই দেশের মধ্যে হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য হবে।
সুলতানগঞ্জ নৌ-বন্দর ও সুলতানগঞ্জ-মায়া নৌপথে নৌযান চলাচলের উদ্বোধন উপলক্ষে এক সুধী সমাবেশের আয়োজন করে বিআইডব্লিউটিএ। সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী
ভারতীয় হাইকমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা এই নতুন নদীপথকে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও যোগাযোগ সংযোগের অংশ এবং সম্পর্কের সাম্প্রতিক পরিবর্তনের একটি দৃশ্যমান প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেন।
তিনি দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার প্রকৃত সম্ভাবনা উন্মোচনে মাল্টিমোডাল সংযোগের গুরুত্বের ওপর জোর দেন এবং মায়া-সুলতানগঞ্জ নদী রুট পুনরায় চালু- এর একটি পদক্ষেপ হিসেবে অবহিত করেন যা শুধু সীমান্তের দুই পাশের স্থানীয় অর্থনীতির জন্যই উপকৃত হবে না বরং জাতীয় অর্থনীতিতেও অবদান রাখবে এবং উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং একীকরণ ও জোরদার করবে।
হাইকমিশনার উল্লেখ করেন, ভারত আজ এশিয়ায় বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য। তিনি আশা করেন যে, উন্নত যোগাযোগ সংযোগ এবং ভারতীয় রুপিতে বাণিজ্যের মতো নতুন পদক্ষেপ ভারতে বাংলাদেশি রপ্তানিকে আরও বাড়িয়ে তুলবে।
হাইকমিশনার ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (সিইপিএ) চুক্তির বিষয়ে উল্লেখ করে বলেন, এ বিষয়ে আলোচনা শিগগিরই শুরু হতে যাচ্ছে।
নৌরুট উদ্বোধনের পর সাড়ে ১১ মেট্রিক টন গার্মেন্টস ঝুট কাপড় নিয়ে ভারতের মায়া বন্দরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে এমবি সাইফ সিয়াম শাফিন।
বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক ড. রফিকুল ইসলাম জানান, উদ্বোধনের পর ভারতের মুর্শিদাবাদের মায়া নৌ বন্দর থেকে দেশবাংলা নামে একটি নৌযান ১০০ মেট্রিক টন পাথর নিয়ে সুলতানগঞ্জের উদ্দেশে যাত্রা করে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বারের সভাপতি মো. আব্দুল ওয়াহেদ জানান, ৬০ বছর পর পুনরায় নৌবন্দরটি চালু হলো। এ নৌ বন্দর চালুর ফলে ভারত থেকে পাথর আমদানি সহজ হবে। আমাদের দূরত্ব কমবে প্রায় ১২০ কিলোমিটার। এছাড়া খাদ্যপণ্য আমদানি ও রপ্তানি করা সহজ হবে।
অনুষ্ঠানে রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য জনাব আব্দুল ওয়াদুদ এবং নৌ পরিবহন সচিব জনাব মোস্তফা কামাল বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও বিআইডব্লিউটিএ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
