রাসেলস ভাইপারের আতঙ্ক যাচ্ছেই না। এবার পাবনার এক যুবক কামড় খেয়ে রাসেলস ভাইপার সাপ নিয়ে হাসপাতালে গেছেন।
ওই যুবকের নাম মো. রুবেল। শুক্রবার ঈশ্বরদী উপজেলায় কৈকুন্না গ্রামে কলাবাগানে কাজ করার সময় তাকে ছোবল দেয় বিষধর রাসেলস ভাইপার।
এরপর সাপটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলে হয়। মৃত সাপ একটি বস্তায় ভরে হাসপাতালে হাজির হন তিনি।
সাপের কামড়ের শিকার রুবেল বর্তমানে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
সাংবাদিকদের রুবেল বলেন, সকালে কলাক্ষেতে কাজ করছিলেন তিনি। হঠাৎ তাকে সাপে কামড় দেয়। সাপটি চিনতে পেরে তিনি লাঠি দিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলেন। পরে বস্তায় ভরে হাসপাতালে নিয়ে যান।
সাপেড় কামড় খেয়ে প্রথমে আতঙ্কে পড়ে গেলেও চিকিৎসা শুরু পর থেকে ভালো বোধ করছেন বলে জানান রুবেল।

রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিসক বিল্লাল হোসেন বলেন, রাসেলস ভাইপারের কামড়ে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে আসামাত্র রুবেলের চিকিৎসা শুরু হয়। বর্তমানে পর্যবেক্ষণে রয়েছেন তিনি।
পরিবেশ-প্রতিবেশের ভারসাম্যের অভাবে বাংলাদেশ থেকে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল রাসেলস ভাইপার। এক সময় এদের দেখাই মিলতো না। কিন্তু ২০১৩ সাল থেকে দেশের দুএক জায়গায় আবার দেখা যায়। ২০২১ সালের পর বাড়তে থাকে, এ বছর এদের দেখা মিলছে বেশি।
সাপ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গঙ্গা/পদ্মা অববাহিকা এবং গড়াইয়ে দুই কুলের এলাকাগুলোতে রাসেলস ভাইপার ছড়িয়ে থাকতে পারে। এছাড়া ঢাকার কাছেও এখন দেখা মিলছে এই সাপের।
রাসেলস ভাইপার সরাসরি বাচ্চা দেয় এবং একবারে গড়ে বাচ্চা জন্ম দেয় ২০ থেকে ৪০টি। ফলে দ্রুত বংশবিস্তার করে সারাদেশেই বিষধর এই সাপের ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন অনেকেই।
প্রতিবছর বাংলাদেশে প্রায় সাত হাজার মানুষ সাপের কামড়ে মারা যান। এরমধ্যে কালাচ বা কেউটের ছোবলে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা যান বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মারাত্মক বিষধর রাসেলস ভাইপার থেকে বাঁচার উপায়
রাসেলস ভাইপার নিয়ে নতুন তথ্য দিলো ভেনম রিসার্চ সেন্টার