সিরাজগঞ্জে হামের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় সাত শতের কাছাকাছি গিয়ে ঠেকেছে। তবে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধা, বিশেষ করে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তীব্র সঙ্কট থাকায় রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেয়ে অনেক রোগী বাধ্য হয়ে ঢাকার দিকে ছুটছেন।
সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে আরও ২৫ জন হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় মোট হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯৫ জনে। এর মধ্যে এখনও বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে ৫৮ জনকে।
এদিকে সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ছয়টি ও সিরাজগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১০টিসহ মোট ১৬টি আইসিইউ শয্যা থাকলেও এই মুহূর্তে তা যথেষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
চিকিৎসক ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এবারের হামের প্রাদুর্ভাবে অধিকাংশ শিশু আক্রান্ত হলেও পাশাপাশি বয়স্করাও বাদ যাচ্ছেন না। পরিবারের শিশু ও বয়স্ক সদস্যরা একসঙ্গে আক্রান্ত হওয়ায় চরম দুশ্চিন্তা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন অভিভাবক ও স্বজনেরা। আক্রান্তের হার যেভাবে বাড়ছে, সে অনুযায়ী হাসপাতালে শয্যা ও অন্য সুবিধা না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।
জেলায় হামের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মো. নুরুল আমিন বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৫ জন হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সব মিলিয়ে সিরাজগঞ্জ জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে এখন পর্যন্ত ৫৮ জন হামে আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সিভিল সার্জন আরও জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে ইতিমধ্যে সিরাজগঞ্জ জেলাজুড়ে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষ ও চিকিৎসকদের দাবি, টিকাদানের পাশাপাশি স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে দ্রুত আইসিইউ শয্যা বাড়ানো ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পদায়ন করা না গেলে ঢাকামুখী রোগীর চাপ কমানো সম্ভব হবে না।
