পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র দুই দিন বাকি। প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের ২২ জেলার মানুষ এখন আপন নীড়ে ফিরছেন। ঈদকে কেন্দ্র করে যমুনা সেতু ও সংযোগ মহাসড়কে যানবাহনের চাপ ক্রমশ বাড়ছে। তবে যমুনা সেতু পার হওয়ার পর সিরাজগঞ্জ মহাসড়কে কোনো যানজট নেই। বিপুল সংখ্যক যানবাহনের বাড়তি চাপের মধ্যেও মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক ও স্বস্তিদায়ক রয়েছে।
মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে সিরাজগঞ্জ মহাসড়কের যমুনা সেতুর পশ্চিম পাড়, কোনাবাড়ী মোড়, সায়দাবাদ, কড্ডার মোড় ও নলকা এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কে বাস, ট্রাক, প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। মানুষ যে যেভাবে পারছেন বাড়ির পথে ছুটছেন। তবে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ থাকলেও কোথাও দীর্ঘ যানজট বা ধীরগতির পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
ঢাকামুখী অধিকাংশ বাস যাত্রীবিহীন বা কম যাত্রী নিয়ে ফিরলেও উত্তরবঙ্গগামী বাসগুলো পরিপূর্ণ যাত্রী নিয়ে চলাচল করছে। মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। নির্ধারিত স্থান ছাড়া কোথাও যানবাহন থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করতে দেওয়া হচ্ছে না। ফলে সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, যমুনা সেতু পার হওয়ার পর ঢাকা-রংপুর চারলেন সড়ক এবং হাটিকুমরুল গোলচত্বরের নির্মাণাধীন ইন্টারচেঞ্জের ঢাকা-রংপুরগামী লেনটি চালু থাকায় বিপুল সংখ্যক যানবাহনের চাপও সহজে সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। বিভিন্ন জেলার যানবাহন নির্ধারিত লেন ব্যবহার করে নিজ নিজ গন্তব্যে যাওয়ায় মহাসড়কে কোনো যানজট তৈরি হচ্ছে না।
ঢাকা থেকে রংপুরগামী হানিফ এন্টারপ্রাইজের চালক নজরুল ইসলাম বলেন, আমি গতকালও ঢাকা থেকে যাত্রীবাহী বাস নিয়ে রংপুর গিয়েছিলাম। যমুনা সেতু পার হওয়ার পরে চার লেন ও হাটিকুমরুল হাইওয়ে ইন্টারচেঞ্জের কারণে সিরাজগঞ্জ মহাসড়কে কোনো যানজট পাইনি। প্রশাসন দায়িত্বশীল থাকলে আশা করছি এবার আর যানজটে পড়তে হবে না।”
হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে উত্তরবঙ্গের ঘরমুখো মানুষের দীর্ঘদিনের যানজট ও দুর্ভোগ কমাতে নির্মাণাধীন হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জের বগুড়া-রংপুরগামী ফ্লাইওভার লেন চালু করা হয়েছে। ফলে সিরাজগঞ্জের মহাসড়কে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের যানজট নেই। তবে সময় যতো গড়াচ্ছে, যানবাহনের চাপ ততোই বাড়ছে।
এদিকে যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, ঈদযাত্রার ব্যস্ততম সময়ে গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতুর পূর্ব প্রান্ত দিয়ে উত্তরবঙ্গে ৩২ হাজার ১৮৬টি যানবাহন চলাচল করেছে। এসব যানবাহনের প্রায় সবই উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার উদ্দেশে সিরাজগঞ্জ মহাসড়ক ব্যবহার করেছে। এতো বিপুল সংখ্যক যানবাহন চলাচলের পরও মহাসড়কে স্বস্তিদায়ক পরিবেশ বজায় রয়েছে।
সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন, এবারের ঈদযাত্রায় যানজট নিয়ন্ত্রণ, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, পশুবাহী ট্রাকের চলাচল ব্যবস্থাপনা এবং যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে পুলিশের পাশাপাশি অন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। বিশেষ করে যমুনা সেতুর পশ্চিম সংযোগ মহাসড়ক, বগুড়া মহাসড়ক, পাবনা মহাসড়ক এবং তাড়াশ হয়ে নাটোর সীমান্ত পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ছয় শতাধিক পুলিশ সদস্য মাঠে রয়েছেন।
পুলিশ সুপার আরও জানান, সিরাজগঞ্জ জেলায় তিনটি কানেক্টিং সড়ককে (যমুনা সেতু পশ্চিম থেকে বগুড়া, পাবনা ও তাড়াশের শেষ নাটোরের সীমান্ত পর্যন্ত) বেশি প্রাধান্য দিয়ে নিরাপত্তা বজায় রাখা হচ্ছে। এর ফলে এবার মানুষ যানজটমুক্ত ও নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারছেন।
