সিলেট, সুনামগঞ্জ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে নতুন করে ৯৯ জনকে পুশ ইন করেছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তাদের আটক করে পুলিশের হেফাজতে নেয়া হয়েছে। লালমনিরহাটের তিন উপজেলার পাঁচটি সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে ৫৭ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা করেছে বিএসএফ। তবে তাদের সে প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বিজিবি ও স্থানীয়রা।
বুধবার (২৮ মে) ভোরে লালমনিরহাটের আদিতমারীর চওড়াটারি সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে আসা ১৩ জন বাংলাদেশে প্রবেশ করতে চায়। তাদের দেখতে পেয়ে সীমান্তে জড় হন স্থানীয়রা। লাঠি হাতে তারা জানান দেন, অনুপ্রবেশের নিষেধাজ্ঞা। কাটাঁতারের বেড়ার গেট খুলে এই মানুষদের ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে বিএসএফ।
কিন্তু বিজিবির বাঁধার মুখে তারা বাংলাদেশের সীমানা অতিক্রম করতে পারেনি। এসব লোকজন এখন ভারতের অংশে, খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন। একইভাবে পাটগ্রামশহ বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে অন্তত ২৫ জন প্রবেশ করতে চায়। সেখানেও বাধা দেয় বিজিবি ও গ্রামবাসী।
লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদি ইমাম বলেন, দূর্গাপুর সীমান্ত দিয়ে ভোর পাঁচটার দিকে ১৩ জনকে পুশইনের চেষ্টা করা হয়। তবে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে আমরা তা প্রতিহত করি। তিস্তা ৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক মুজাহিদ মাসুম বলেন, পাটগ্রামের একাধিক সীমান্ত দিয়ে পুশইন চেষ্টার খবর পাওয়া গেছে। তবে বিজিবির তৎপরতায় কাউকে সীমান্ত অতিক্রম করতে দেওয়া হয়নি।
বনচৌকি বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার লুৎফর রহমান বলেন, দুজন নারী ও চারজন পুরুষকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করে বিএসএফ, কিন্তু আমরা এতে বাধা দিই। বিজিবি কর্মকর্তারা বলেন, যাদের পাঠানো হচ্ছিল তারা ভারতের আসাম রাজ্যের বাসিন্দা। এ ঘটনায় সীমান্তজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিজিবি কর্মকর্তারা আর জানান, পতাকা বৈঠকের জন্য বিএসএফকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে ১৭ জনকে বাংলাদেশে পুশইন করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বিএসএফ। মঙ্গলবার সকালে গোমস্তাপুর উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের বিভিষণ সীমান্ত দিয়ে তাদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তাদের আটক করে গোমস্তাপুর থানায় হস্তান্তর করে। তাদের দাবি, তারা বাংলাদেশের নাগরিক। তবে পুলিশ বলছে, তাদের দেয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
সিলেট সীমান্তে আবারও বিএসএফ কর্তৃক পুশ ইনের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার ভোররাতে বিএসএফ একযোগে ৬৮ জন বাংলাদেশি নাগরিককে সীমান্ত অতিক্রম করিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়। বিজিবির সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) অধীনস্থ তিনটি বিওপির সীমান্ত দিয়ে এই পুশ ইন কার্যক্রম সংঘটিত হয়।
রাত আনুমানিক ৩টা ৩০ মিনিটে জৈন্তাপুরের মোকামপুঞ্জি সীমান্ত দিয়ে ১৩ শিশু, ১২ নারী ও ৭ পুরুষসহ মোট ৩২ জন বাংলাদেশে পুশ ইন করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। বিষয়টি টের পেয়ে ৪৮ বিজিবির আওতাধীন শ্রীপুর বিওপির টহল দল তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে।
পরে রাত ৪টা ২০ মিনিটে একই উপজেলার মিনাটিলা সীমান্তে আরও ৭ শিশু, ৭ নারী ও ৬ পুরুষসহ ২০ জন বাংলাদেশে প্রবেশ করে। মিনাটিলা বিওপির বিজিবি সদস্যরা সেখান থেকেও সবাইকে আটক করতে সক্ষম হন।
একই রাতে সুনামগঞ্জের নোয়াকোট বিওপির অধীনস্থ ছনবাড়ি সীমান্ত থেকে আরও ১৬ জন অনুপ্রবেশকারীকে আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে ৫ জন পুরুষ, ৫ জন নারী এবং ৬ শিশু রয়েছে। বিজিবি জানিয়েছে, তারা সবাই কুড়িগ্রাম জেলার ৫টি পরিবারের সদস্য।
শ্রীপুর বিওপির কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার আবুল কাশেম বলেন, রাতের নির্জনতার সুযোগে ভারতীয় বিএসএফ একাধিক দলে ভাগ হয়ে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে পুশ ইনের চেষ্টা চালায়। আমরা তাৎক্ষণিক গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৬৮ জন অনুপ্রবেশকারীকে আটক করতে সক্ষম হই। ইদানীং সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের প্রবণতা বেড়েছে। এ বিষয়ে বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
