রাজধানীর মোহাম্মদপুরে কেয়ার মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষকে রাতভর আটকে রেখে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কলেজের রেজিস্ট্রেশন নেই, ভুয়া কাগজ দেখিয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হয়েছে। এছাড়া কলেজে অভিজ্ঞ শিক্ষকের অভাব ও ইন্টার্নশিপ করার সুযোগ না থাকায় তাদের শিক্ষাজীবন এখন অনিশ্চয়তায়।
শনিবার (২৭ আগস্ট) সারারাত আটকে রাখার পর রোববার (২৮ আগস্ট) সকালের দিকে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. মেহেরুন নেসাকে ছেড়ে দেয়া হয়। বিষয়গুলো দ্রুতই সমাধান করা হবে বলে আশ্বাস দেয়ার পর তাকে ছেড়ে দেয় শিক্ষার্থীরা।
কেয়ার হাসপাতাল, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আর বিএমডিসির গাফিলতিতে প্রায় কয়েকশ' শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ এখন অন্ধকারে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হাসপাতালটির কোনো রেজিস্ট্রেশন নেই। ভুয়া কাগজ দেখিয়ে ভর্তি করানো হয় শিক্ষার্থীদের।
এসব অনিয়মের কারণে ২০১৭ সালে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধের নির্দেশ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এটি নিয়ে মামলাও করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এছাড়া মেডিক্যালের অন্যান্য সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা না হলে মেডিক্যালের সনদ দেয়া হবে না বলেও জানানো হয় প্রতিষ্ঠানটিকে। কিন্তু এরপর পাঁচ বছর পার হয়ে গেলেও, সমস্যার সমাধান করেননি অধ্যক্ষ।
শিক্ষক কিংবা রোগীর অভাবে অনেকেই এখনো ইন্টার্নশিপ শুরু করতে পারেননি, বিএমডিসি থেকে মিলছে না ডাক্তারি সনদও। জানুয়ারি মাসে অধ্যক্ষকে বিষয়গুলো জানানো হলে চার মাস সময় নেন তিনি।
তবে আট মাসেও কোন ফল না পেয়ে শনিবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যা থেকে কেয়ার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষের কক্ষের সামনে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা।
অভিভাবকরা জানান, সন্তানদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছেন এই অধ্যক্ষ। প্রতারণা করেছেন শিক্ষার্থীদের সাথে।
রাত সাড়ে বারোটার দিকে অধ্যক্ষের সাথে দেখা করতে আসেন তার পরিবারের সদস্যরা। এসময় শিক্ষার্থীদের বাঁধার মুখে পড়লে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেন তারা।
প্রায় আট ঘণ্টা পর পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেন কেয়ার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ। বলেন, কাগজপত্রে যিনি সই করবেন তিনি দেশের বাইরে আছেন, তাই দেরি হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চাহিদা অনুযায়ী হাসপাতালে সব সুবিধাই নিশ্চিত করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
আরও পড়ুন: রাজধানীতে ভবন থেকে পড়ে তরুণীর মৃত্যু, অভিযোগ হত্যা
অধ্যক্ষ ও তার স্বজনদের কথায় আশ্বস্ত হতে পারেননি শিক্ষার্থীরা। অন্য মেডিক্যালে মাইগ্রেশনের অনুমতি না দিলে অবস্থান থেকে সরবেন না বলে জানান শিক্ষার্থীরা।
অবশেষে সারারাত অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করে রাখার পর সকালের দিকে সমস্যা সমাধানের আশ্বাসে অধ্যক্ষকে ছেড়ে দেন বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা।
একাত্তর/এসজে
