চাহিদামতো উৎকোচের টাকা না পাওয়ায় ছয় শিক্ষকের বেতন বন্ধ করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে নাটোরের গুরুদাসপুরের বিল চলন শহীদ সামসুজ্জোহা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. একরামুল হকের বিরুদ্ধে।
অধ্যক্ষের কাছে বারবার অনুরোধ করেও বেতন-ভাতা না পেয়ে শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষা সচিব এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন নিরুপায় চার শিক্ষক।
তারা বলছেন, এক দফায় প্রত্যেকে লাখ টাকা করে চেকে পরিশোধ করার পর আবারও অর্থ দাবি করে তাদের বেতন বন্ধ করে রেখেছেন ওই অধ্যক্ষ।
এছাড়া স্বাধীনতার চেতনা বিরোধী কর্মকাণ্ডে ও জঙ্গি সম্পৃক্ততায় জড়িত থাকা এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নানা অছিলায় অতিরিক্ত ফি আদায় করারও অভিযোগ তোলা হয়েছে একরামুলের বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. একরামুল হক বলেছেন, আমার বিরুদ্ধে আনা কোনো অভিযোগই সঠিক নয়। আমাকে ফাঁসানোর জন্যই এসব করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগী চার শিক্ষক বিষয়টির প্রতিকার চেয়ে গত রোববার শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষা সচিব এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক লিখিত আবেদন পাঠিয়েছেন।
আবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে বিলচলন শহীদ সামসুজ্জোহা ডিগ্রি কলেজটি সরকারি করা হয়। ২০১৯ সাল থেকে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীরা সরকারি বেতন ভাতা পাওয়া শুরু করেন।
বিষয় অধিভুক্ত না থাকায় অনার্সের ক্লাস নেওয়া সাত শিক্ষক তখন বেতন পাননি। তবে গত বছরের ২৭শে জুলাই সরকারি প্রজ্ঞাপন দিয়ে তাদেরকে বেতনের আওতায় আনা হয়।
এই সাত শিক্ষকের মধ্যে একমাত্র গণিতের প্রভাষক প্রশান্ত কুমার কুণ্ডুর বেতন যথা সময়ে চালু করা হয়।
বাংলার প্রভাষক মো. শাহীন আলম, মনোবিজ্ঞানের প্রভাষক আব্দুল্লাহ আল মাওদুদ ও মো. শামসুল আলম এবং ভূগোলের প্রভাষক মোহাম্মদ আলী জাফর, মো. আনোয়ার হোসেন ও জিএম কামরুজ্জামানের বেতন প্রায় সাত মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও চালু করেননি অধ্যক্ষ।
অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি অভিযোগ এনে আবেদনে বলা হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে এসব শিক্ষকরা অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বললে তিনি তাদের প্রত্যেকের কাছে এক লাখ টাকা করে উৎকোচ দাবি করেন।
‘নিরুপায় হয়ে প্রত্যেকেই এক লাখ টাকার একটি করে চেক দেন। কিন্তু অধ্যক্ষ যখন জানতে পারেন যে, তারা প্রত্যেকে প্রায় ৪০ লাখ টাকা করে বকেয়া বেতন-ভাতা পাবেন, তখন তিনি আরো বেশি পরিমাণে উৎকোচ দেওয়ার দাবি করেন। এই দাবি না মানায় তাদের বেতন চালু হয়নি,’ বলেছেন ওই শিক্ষকরা।
আবেদনে লেখা হয়েছে, এর আগে কলেজের অনার্সের অন্য দুই শিক্ষক হাফিজুর রহমান ও মো. মোক্তাদিরুল ইসলামের কাছেও অধ্যক্ষ একরামুল হক উৎকোচ দাবি করেন। উৎকোচ না দেয়ায় এই তাদের দুই মাসের বেতন বন্ধ করে রাখেন অধ্যক্ষ।
পরে তারা কলেজের শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদকের মাধ্যমে কলেজের জন্য একটি আইপিএস ও একটি সাউন্ড সিস্টেম কিনে দিলে তাদের বেতন চালু করা হয় বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এতে আরো বলা হয়, সরকারি পরিপত্র অনুসরণ না করে অধ্যক্ষ নিজেই একটি অভ্যন্তরীণ নীতিমালা তৈরি করে কলেজের সকল পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে থেকে অতিরিক্ত ফি আদায় করেন। এছাড়া অতিরিক্ত ভর্তি ফি ও নিবন্ধন ফি আদায় করে পরে সেই টাকা ইচ্ছামতো খরচ করেন।
পাশাপাশি বিনা টেন্ডারে কলেজের গাছ কেটে বিক্রি করা এবং কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের ইন্টারনেট লাইনের ১৫০ ফিট তার টেনে নিজের ভাড়া বাসায় সংযোগ নেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে ওই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে।
অধ্যক্ষের একরামুলের বিরুদ্ধে জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে বলা হয়েছে, বর্তমান কর্মস্থলে ২০২২ সালের ১৬ই মার্চ যোগ দেয়ার আগে এই অধ্যক্ষ ছিলেন রাজশাহীর শহীদ এএইচএম কামরুজ্জামান সরকারি কলেজে। সেখানে তার বিরুদ্ধে জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তিনি বিতাড়িত হন।
ভুক্তভোগী শিক্ষকরা আরো বলেন, অধ্যক্ষ একরামুল মাঝে মাঝে প্রকাশ্যে নিজেকে স্বাধীনতার বিপক্ষের মানুষ হিসেবে পরিচয় দেন। ভূগোল বিভাগে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি টানানোর জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রভাষক আনোয়ার হোসেনকে কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে চরমভাবে অপমানিত করেন।
অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে কেউ কোনো কথা বললেই তিনি নিজেকে ডিসি সমমর্যাদার বিসিএস ক্যাডার দাবি করে সবাইকে হুঁশিয়ার ও সাবধান করে দেন বলেও আবেদনে বলা হয়েছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে অধ্যক্ষ একরামুল হক একাত্তরকে বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ ভুয়া ও অসত্য। এসব শিক্ষকদের বেতনের জন্য তিনি চাহিদাপত্র পাঠিয়েছেন। যেকোনো দিনই তাদের বেতন চলে আসবে।
রাজনৈতিক অভিসন্ধি থেকে কতিপয় শিক্ষক তার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছে বলেও দাবি করেন তিনি।
শহীদ বুদ্ধিজীবীর চতুর্থ তালিকা প্রকাশ
রোজায় অনুষ্ঠানে নিষেধাজ্ঞা নেই: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়