অনির্দিষ্ট কালের জন্য চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বাসে একটি বাসে আগুন দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।
সড়ক দুর্ঘটনায় দুই ছাত্র নিহত হওয়ার পর ক্লাস বর্জন করে শিক্ষার্থীদের অবরোধ ও বিক্ষোভের মধ্যে হল ত্যাগের সিদ্ধান্ত আসে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে।
বৃহস্পতিবার বেলা দেড়টা থেকে সাড়ে তিনটা পর্যন্ত চলা একাডেমিক কাউন্সিলের ১৫১তম জরুরি সভায় ক্যাম্পাস বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার শেখ মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত সবাইকে জানান।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ছাত্রদের বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটার মধ্যে এবং ছাত্রীদের শুক্রবার সকাল ৯টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়।
গত চারদিনে বারবার আলোচনার পরও চুয়েট শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকে ফেরাতে ব্যর্থ হয়েই মূলত ক্যাম্পাস বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় চুয়েট কর্তৃপক্ষ।
হল ছাড়ার নির্দেশনা পেয়ে শিক্ষার্থীরা আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। ক্যাম্পাসের স্বাধীনতা চত্বর এলাকায় থাকা শাহ আমানত পরিবহনের একটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেন। এ সময় কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে আপত্তিকর আচরণ করেন কিছু শিক্ষার্থী। বর্তমানে ক্যাম্পাসে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
গত সোমবার বিকেলে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের সেলিনা কাদের চৌধুরী কলেজ সংলগ্ন এলাকায় বাসের চাপায় নিহত হন মোটর সাইকেল আরোহী চুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শান্ত সাহা ও ২১তম ব্যাচের তৌফিক হোসেন।
দুর্ঘটনায় আহত হন জাকারিয়া হিমু নামে আরেক শিক্ষার্থী। তিনি একটি বেসরকারি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন। ছাত্র মৃত্যুর ঘটনায় ঘাতক চালককে রাঙ্গুনিয়া থেকে আটক করেছে পুলিশ।
দুই ছাত্র নিহত ও একজনের আহতের ঘটনায় সোমবার রাতেই চুয়েট শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি ঘোষণা করে।
মঙ্গলবার সকাল থেকে শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ করে নানা কর্মসূচি পালনে কাপ্তাই এর সাথে চট্টগ্রামের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এতে দুর্ভোগে পড়ে মানুষ। বুধবারও একই কর্মসূচি চালিয়ে যায় তারা।
বৃহস্পতিবারও সকাল থেকেই চতুর্থ দিনের দিনের মতো সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে চুয়েট শিক্ষার্থীরা। চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়ক অবরোধসহ ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে তারা। অবরোধ করায় সড়কে চলাচলকারী যাত্রীরা পড়েন দুর্ভোগে।
উপাচার্য ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম বলছেন, সমস্যা সমাধানে তারা কাজ করছেন। শিগগিরই চুয়েটে একটি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হবে । এছাড়া শিক্ষার্থীদের জন্য একমাসের মধ্যে নতুন দুটি বাস সংযোজন করা হবে।
চুয়েট বন্ধ ঘোষণা, শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ