মাধুরী দীক্ষিত! বলিউডের ধক ধক গার্ল। তার মোহময়ী রূপে এখনও কাত হয়ে যায় পুরুষের দল। নব্বই দশকে তিনি একাই ছিলেন বলিপাড়ার চোখের মণি। নিজের সময়ের সফল অভিনেত্রী মাধুরী দীক্ষিত তার ক্যারিয়ারের শীর্ষে থাকার সময় চিকিৎসক শ্রীরাম নেনের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।
এরপর স্বামীর সাথে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। দীর্ঘ ১০ বছর প্রবাস জীবন কাটানোর পর মাধুরী ফিরে আসেন ভারতে। সঙ্গে অবশ্যই স্বামী সন্তান। তা হঠাৎ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে ভারতে কেনো চলে আসলেন মাধুরী? সম্প্রতি একটি পডকাস্টে এসে অভিনেত্রী নিজেই জানালেন, কী কারণে তারা দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত।
সম্প্রতি দিল্লিভিত্তিক রণবীর আল্লাহবাদিয়ার পডকাস্টে আলাপচারিতার সময় মাধুরী জানান, যুক্তরাষ্ট্রে তার পারিবারিক জীবন কতটা শান্তিপূর্ণ ও চমৎকার ছিল। তিনি বলেন, সেখানে সন্তানদের নিজের খুব কাছাকাছি পেয়ে তিনি আনন্দিত ছিলেন। সেখানকার জীবন ছিলো অনেক শান্ত আর গুছানো।

ভারতে ফেরার কারণ প্রকাশ করে মাধুরী বলেন, আমেরিকা থেকে ফিরে আসাটা একেবারেই আমার মা-বাবার জন্য। কেননা, তাদের বয়স হয়েছে। আমরা না দেখলে, কেউ তাঁদের দেখার নেই। তাই চলে আসা।
তিনি আরও বলেন, রামের (শ্রীরাম নেনে) পরিবারও সেখানেই। কিন্তু আমার বাবা-মা বয়স হয়ে যাচ্ছিল, এবং তারা ভারতে ফিরে আসতে চেয়েছিলেন। আমার সারাজীবনের ক্যারিয়ারে তারা আমার সঙ্গে ছিলেন, তাই আমি তাদের একা ছাড়তে চাইনি।

মাধুরী আরও যোগ করেন, দ্বিতীয়ত, আমার কাজ এখানে ছিল। ভারতে আসতাম, কাজ করতাম এবং আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যেতাম। দূরত্বের কারণে এটি খুব কঠিন হয়ে যাচ্ছিল। নেনের বহু রোগী ভারতে থাকেন। মাঝে মধ্যেই তাকে ভারতে উড়ে আসতে হতো। এছাড়া আমারও ক্যারিয়ার রয়েছে। তাই সব কিছু চিন্তাভাবনা করেই ভারতে ফির আসা। আর নিজের দেশে ফিরে আমরা ভালোই রয়েছি।
মাধুরী উপসংহারে বলেন, তিনি এবং তার স্বামী উভয়েই বিশ্বাস করতেন যে ভারতে ফিরে আসা তাদের জন্য সেরা সিদ্ধান্ত হবে এবং সেই অনুযায়ী তারা ফিরে আসেন।
মাধুরী দীক্ষিত ১৯৯৯ সাল থেকে ডা. শ্রীরাম নেনের সঙ্গে বিবাহিত জীবন যাপন করছেন। যুক্তরাষ্ট্রে থেকে ফেরার পর তার স্বামী একজন ইউটিউবার হিসাবেও কাজ শুরু করেন। এই দম্পতির আরিন নেনে এবং রায়ান নেনে নামে দুটি ছেলে রয়েছে।

গত বছর এক সাক্ষাৎকারে মাধুরী নেনের সঙ্গে তার প্রথম সাক্ষাতের স্মৃতিচারণ করে বলেছিলেন, প্রথম দেখাতেই তিনি অনুভব করেছিলেন যে তিনিই তার জন্য সঠিক মানুষ।
তিনি বলেন, আমি কেবল ভেবেছিলাম যে আমি আমার জন্য সঠিক ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করেছি। এই সেই মানুষ যাকে আমি বিয়ে করতে চাই এবং আমি এই লোককেই বিয়ে করতে যাচ্ছি। কারণ প্রত্যেকেই নিজেকে নিয়ে স্বপ্ন দেখে। আমার জন্য সেটা ছিল একটি ঘর, একজন স্বামী, একটি পরিবার এবং সন্তান- এসব কিছু। আমি বাচ্চাদের খুব ভালোবাসি। তাই সন্তান ধারণ করা সেই স্বপ্নের একটি বড় অংশ ছিল। যখন লোকেরা বলে, ওহ, আপনি দূরে ছিলেন এবং আপনার কি খারাপ লাগেনি?', আমি বলি, 'না, আমার খারাপ লাগেনি, কারণ আমি আমার স্বপ্নে বাঁচছিলাম।

অভিনেত্রী আরো বলেন, ক্যারিয়ারের শিখরে থাকার পরও যুক্তরাষ্ট্রে চলে যেতে তার একটুও ভয় লাগেনি। মাধুরী ২০০৭ সালে 'আজা নাচলে' ছবির মাধ্যমে বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে ফিরে আসেন।
উল্লেখ্য, সঞ্জয় দত্তের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে বাঁধা পড়েছিলেন মাধুরী দীক্ষিত। সেই সময়ই এই প্রেম নিয়ে বলিউডে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। এমনকি, শোনা গিয়েছিল সঞ্জয়ের সঙ্গে নাকি বিয়েও ঠিক হয়ে গিয়েছিল মাধুরীর। তবে বিয়ে ভাগে সঞ্জয় জেলে যাওয়ার পর।

সঞ্জয়ের ক্রিমিনাল রেকর্ডই মাধুরীর প্রেমের মূল অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। ঠিক সেই সময়ই মা-বাবার পছন্দ করা মার্কিন ডাক্তার ডক্টর শ্রীরাম রেনেকে বিয়ে করেন মাধুরী। মাত্র ছয় মাসের আলাপ। আর, কয়েক মাসের মধ্যেই মাধুরী ঠিক করে নেন, বিয়ে যদি করেন, তাহলে ডক্টর নেনেকেই করবেন।
৮৩ বিলিয়ন ডলারের ওয়ার্নার ব্রস কিনবে নেটফ্লিক্স