ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রভাবশালী এবং আইকনিক অভিনেত্রীদের একজন মধুবালা। ১৯৩৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মমতাজ জাহান বেগম দেহলভি নামে জন্ম নেওয়া এই অভিনেত্রী ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি মাত্র ৩৬ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে পরলোকগমন করেন।
সোমবার তাঁর প্রয়াণ দিবসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি পোস্টের মাধ্যমে উঠে এসেছে মুম্বাইয়ে তাঁর শেষ জীবনের স্মৃতিধন্য বাসভবন ‘অ্যারাবিয়ান ভিলার’ কথা।

সম্প্রতি ‘মুম্বাই হেরিটেজ’ পেজ থেকে কুনাল ত্রিপাঠী মধুবালার তৎকালীন বাসভবনের একটি ছবি শেয়ার করেছেন। সেখানে জানানো হয়, মধুবালা মুম্বাইয়ের বান্দ্রার পালি হিল এলাকায় ‘অ্যারাবিয়ান ভিলা’ নামক একটি অত্যন্ত নান্দনিক ‘আর্ট ডেকো’ শৈলীর বাংলোতে থাকতেন।
বর্তমানের জনাকীর্ণ ও আকাশচুম্বী অট্টালিকায় ঠাসা বান্দ্রার বিপরীতে সেই সময়ের শান্ত ও নিরিবিলি পরিবেশে এই বাংলোটি ছিল আভিজাত্যের এক অনন্য নিদর্শন।

মধুবালার বাবা আতাউল্লাহ খান তাঁর পরিবার নিয়ে মুম্বাইয়ের বিভিন্ন জায়গায় বসবাস করেছেন। শুরুতে তাঁরা কান্দিভালি-মালাদ এলাকায় থাকতেন, যেখান থেকে মধুবালার ‘বোম্বে স্টুডিও’-তে যাতায়াত সহজ ছিল। ১৯৪৪ সালের এপ্রিলে এক ভয়াবহ বিস্ফোরণে তাঁদের সেই বাড়িটি ধ্বংস হয়ে গেলে তাঁরা আন্ধেরির ‘কিসমত’ নামক একটি ভিলায় চলে যান। তবে ১৯৫৫ সালে তাঁদের নিজস্ব প্রোডাকশনের সিনেমা ‘নাাতা’ ব্যবসায়িকভাবে ব্যর্থ হওয়ায় সেই বাড়িটি বিক্রি করে দিতে হয়।
পরবর্তীতে তারা বান্দ্রার পালি হিল রোডের জগার্স পার্কের কাছে ‘অ্যারাবিয়ান ভিলা’ ভাড়া নেন। কিংবদন্তি গায়ক কিশোর কুমারের সঙ্গে বিয়ের পরও মধুবালা এই বাড়িতেই থাকতেন। বিশেষ করে যখন তাঁর হৃদযন্ত্রে ছিদ্র ধরা পড়ে, তখন অসুস্থ অবস্থায় তিনি এখানেই তাঁর জীবনের শেষ দিনগুলো কাটিয়েছিলেন। ১৯৬৯ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এটিই ছিল তাঁর স্থায়ী ঠিকানা।

মধুবালার মৃত্যুর পর সেই ঐতিহাসিক বাংলোটি জনশূন্য হয়ে পড়ে এবং এক সময় তা ভেঙে ফেলা হয়। বর্তমানে সেই স্মৃতির ওপর দাঁড়িয়ে আছে একটি সুউচ্চ অট্টালিকা। মধুবালার সেই ‘অ্যারাবিয়ান ভিলা’ এখন শুধু আলোকচিত্র আর ইতিহাসের পাতায় সংরক্ষিত, যা হিন্দি সিনেমার সেই স্বর্ণালী যুগের সাক্ষী হয়ে আছে।
