অস্কারের মঞ্চে টানটান উত্তেজনা! এ বছর হলিউডের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট কার মাথায় উঠবে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। ক্রটিকস চয়েস, গোল্ডেন গ্লোবস এবং বাফটা’র মতো প্রাক-অস্কার আসরগুলো থেকে যে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, তাতে এবারের লড়াইটা হবে সমানে সমান। অস্কারের ১১ হাজার বিচারকের ভোটে কারা বাজিমাত করতে পারেন, তা নিয়ে চর্চা চায়ের কাপ থেকে নেট দুনিয়াতে।

সেরা চলচ্চিত্রের অস্কার জয়ে এবার হতে পারে দুই ঘোড়ার লড়াই! লড়াইটা জমেছে পলিটিক্যাল থ্রিলার ‘ওয়ান ব্যাটেল আফটার অ্যানাদার’ এবং ভ্যাম্পায়ার হরর ‘সিনার্স’-এর মধ্যে। ‘ওয়ান ব্যাটেল’ এখন পর্যন্ত বেশিরভাগ বড় পুরষ্কার জিতে দৌড়ে এগিয়ে থাকলেও, ‘সিনার্স’ কিন্তু দমে যাওয়ার পাত্র নয়।
টাইটানিক ও লা লা ল্যান্ডের রেকর্ড ভেঙে ১৬টি মনোনয়ন পাওয়া রায়ান কুগলারের এই ছবিটি যে কোনো সময় অস্কারের মঞ্চে বড় ধরণের অঘটন ঘটিয়ে দিতে পারে। আর যদি ‘ওয়ান ব্যাটেল’ জিতে যায়, তবে পরিচালক পল থমাস অ্যান্ডারসনের হাতেও উঠতে পারে সেরা পরিচালকের ট্রফি।

সেরা অভিনেতার অস্কার নিয়ে চলছে বড় ধোঁয়াশা! এবারের যদি কোনো ক্যাটাগরি সবথেকে বেশি অনিশ্চিত হয়, তবে তা হলো সেরা অভিনেতা। শুরুর দিকে টিমোথি চালামেত (মার্টি সুপ্রিম) এবং ওয়াগনার মৌরা’র মধ্যে লড়াই চললেও, শেষ মুহূর্তে বাজিমাত করেছেন মাইকেল বি জর্ডান (সিনার্স)। অ্যাক্টর অ্যাওয়ার্ড জিতে বর্তমানে তিনিই এই দৌড়ে এগিয়ে। তবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ফল যে কোনো দিকেই মোড় নিতে পারে।
বাকি সব বিভাগে অনিশ্চয়তা থাকলেও, সেরা অভিনেত্রীর মুকুটটি আইরিশ অভিনেত্রী জেসি বাকলির (হ্যামনেট) জন্য প্রায় বরাদ্দ হয়েই আছে। পুরো অ্যাওয়ার্ড সিজন জুড়ে প্রায় সব আসরেই তিনি জয়ী হয়েছেন। অস্কারের ইতিহাসে কোনো কিছুই শতভাগ নিশ্চিত না হলেও, এবারের আসরে জেসি বাকলিই সবথেকে বড় ফেভারিট।

পার্শ্ব অভিনেতার দৌড়ে শুরুতে জ্যাকব এলর্ডি এবং স্টেলান স্কারসগার্ডের নাম শোনা গেলেও, গত কয়েক সপ্তাহে হাওয়া বদলে গেছে। বাফটা এবং অ্যাক্টর অ্যাওয়ার্ড জিতে নিয়েছেন অভিজ্ঞ অভিনেতা শেন পেন। যদি তিনি অস্কারটিও বগলদাবা করতে পারেন, তবে এটি হবে তাঁর ক্যারিয়ারের তৃতীয় অস্কার।
সবথেকে রোমাঞ্চকর প্রতিযোগিতা হতে যাচ্ছে সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রীর অস্কার নিয়ে। তেয়ানা টেইলর (গোল্ডেন গ্লোবস জয়ী), উনমি মোসাকু (বাফটা জয়ী) এবং অ্যামি ম্যাডিগান (ক্রিটিকস চয়েস ও অ্যাক্টর অ্যাওয়ার্ড জয়ী)- এই তিনজনের মধ্যেই লড়াই সীমাবদ্ধ। তবে অ্যামি ম্যাডিগানের ছবি ‘উইপনস’ সেরা চলচ্চিত্রের দৌড়ে না থাকায় তাঁর ভোটার সংখ্যা কিছুটা কম হতে পারে। ফলে এই বিভাগে বিজয়ী কে হবেন, তা জানতে রবিবার রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই।

অস্কারের মনোনয়নে ‘সিনার্স’ সর্বোচ্চ ১৬টি ক্যাটাগরিতে মনোনীত হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। বিচারক প্যানেলে ১১ হাজারের এরও বেশি চলচ্চিত্র পেশাদার অংশ নিয়েছেন। বৈচিত্র্যের দিক থেকে বিচার করলে দেখা যায়, এবারের প্রধান ক্যাটাগরিগুলোতে কৃষ্ণাঙ্গ এবং ইউরোপীয় অভিনেতাদের মধ্যে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা হলিউডের অন্তর্ভুক্তিমূলক সংস্কৃতির একটি বড় প্রতিফলন।
তথ্যসূত্র: বিবিসি
