ডায়াবেটিস- এক নীরব ঘাতক। এই রোগে সরাসরি মৃত্যু না হলেও ধীরে ধীরে মানবদেহের হার্ট, কিডনির মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ অকেজো করে দেয়। যে কোন রোগে বাড়িয়ে দেয় মৃত্যু ঝুঁকি।
দেশে বর্তমানে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা প্রায় সোয়া এক কোটি। যদিও, সংখ্যাটা অনেক বেশী কারণ ডায়াবেটিস নির্ণয়ে এখনো সচেতন না সাধারণ মানুষ। এজন্য রোগ নির্ণয় আর প্রতিরোধে ব্যক্তি পর্যায়ে সচেতনতার উপর জোর দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।
ডায়াবেটিস রোগটা মরণঘাতি মনে না হলেও হার্ট, ব্রেইন কিংবা কিডনির যে কোন সমস্যায় মৃত্যু ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে এই ডায়াবেটিস। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, কোভিডে মৃত্যু ঝুঁকি দুইগুণ বেশি ডায়াবেটিস রোগীদের।
অথচ প্রতিবছর বেড়েই চলেছে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা। জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা প্রতিষ্ঠান, রিপোর্টের, তথ্য মতে বাংলাদেশে মোট ডায়াবেটিস আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা এক কোটি ১০ লাখ। যদিও প্রতি একশ জনে ৬৮ জন রোগী জানেনই না তারা ডায়াবেটিসে ভুগছেন।
হরমোন এবং ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ ডা. শাহাজাদা সেলিম জানান, মানুষের শরীর যখন ইনসুলিনের অভাবে শর্করা খাবার ভাঙতে পারে না, সেই অবস্থাকেই ডায়াবেটিস বলে।
টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিসে শরীর ইনসুলিন উৎপন্নই করতে পারে না। আর টাইপ টু ডায়াবেটিসে ইনসুলিন উৎপন্ন হলেও তা ব্যবহার করতে পারে না ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীর শরীর।
দেশে টাইপ টু ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীই ৯৫ ভাগ। অথচ, সচেতনতার মাধ্যমে এই রোগ সহজেই প্রতিরোধ করতে পারে বলে জানালেন এই বিশেষজ্ঞ।
আরও পড়ুন: ভোটার আইডি না থাকলেও নেয়া যাবে টিকা
ডায়াবেটিস প্রতিরোধে গ্লোবাল ডায়াবেটস কম্পেক্টে যুক্ত হয়ে প্রান্তিক পর্যায়ে ডায়াবেটিস রোগ নির্ণয় আর চিকিৎসা সহজলভ্য করার আশ্বাস দিয়েছে বাংলাদেশেরও।
শুধু বয়স হলেই ডায়াবেটিসের ঝুঁকি থাকে এমন ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে সাম্প্রতিক এক পরিসংখ্যানে। ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সীদের মধ্যেও ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যাটাও এখন ২৬ লাখ।
একাত্তর/আরএ
