এক সময়ের শহুরে রোগ হিসেবে পরিচিত ডেঙ্গু এখন পৌঁছে গেছে প্রত্যন্ত অঞ্চলে। বছরের প্রথম আট মাসে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীদের প্রায় ৮০ শতাংশই গ্রাম ও মফস্বল এলাকার। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) বলছে, আক্রান্তরা গ্রামেগঞ্জে যাওয়ার ফলে সেখানকার মশা তাদের কামড়িয়ে ডেঙ্গুর জীবাণু বহন করা শুরু করেছে। মশার এই প্রজাতির আবাসস্থল ভিন্ন।
কয়েক বছরের ব্যবধানে গ্রামে ডেঙ্গু বেশি আতঙ্ক ছড়ালেও প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম এখনও নগরকেন্দ্রিক। বিশেষ করে রাজধানীকে ঘিরে। ফলে এই বছর ঢাকায় কিছুটা নিয়ন্ত্রণ এলেও, দক্ষিণের জেলাগুলোতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর মিছিল বেড়ে চলেছে। পুরো বিভাগটির গ্রামে গ্রামে ডেঙ্গুর দাপটে উদ্বেগে আছে সেখানকার মানুষ।
রোগতত্ত্ব ও নিয়ন্ত্রণ গবেষণা প্রতিষ্ঠান- আইইডিসিআর বলছে, এডিস ইজিপ্টি ও অ্যালবোপিকটাস মশার মাধ্যমে ডেঙ্গু ছড়াচ্ছে। ইজিপ্টি শহর এবং অ্যালবোপিকটাস গ্রামাঞ্চলের মশা। অ্যালবোপিকটাস মশা বন-জঙ্গল, বাঁশের ঝাড়, গাছের বাকলের মতো স্থানে থাকে। এই মশা আগে ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলো না। আক্রান্ত রোগীকে কামড় দিয়ে তারাও ডেঙ্গু ভাইরাস বহন করা শুরু করেছে।
আইইডিসিআরের পরিচালক ডা: তাহমিনা শিরীন বলেন, নগরে ডেঙ্গু ছড়ানো ইজিপ্টি মশাও গ্রামাঞ্চলে প্রবেশ করেছে। এখন দুই প্রজাতির মশাই সমান ভাবে ডেঙ্গু ভাইরাস বহন করছে। বিরূপ পরিবেশেও টিকে থাকার সক্ষমতা তৈরি করছে এসব মশা। আর সেটিই হচ্ছে সবচেয়ে বেশি চিন্তার কারণ।
চলতি বছর ডেঙ্গু শনাক্ত ২৭ হাজার ছাড়ালো
ডেঙ্গুর সঙ্গে বাড়ছে চিকুনগুনিয়া, জনস্বাস্থ্যে ক্রমবর্ধমান হুমকি