কিশোরীদের যৌননিগ্রহ করতে প্রয়াত মার্কিন ধনকুবের জেফরি এপস্টিনকে সহায়তা করা ও অল্প বয়সী মেয়েদের পাচারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন গিলেইন ম্যাক্সওয়েল। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত হয়েছে।
বুধবার (২৯ ডিসেম্বর) নিউ ইয়র্কের একটি আদালতের ১২ সদস্যের জুরি বোর্ড পাঁচ দিন ধরে আলোচনার পর ৬০ বছর বয়সী এ নারীকে দোষী সাব্যস্ত করে রায় দেন। তার বিরুদ্ধে আনা ছয়টি অভিযোগের পাঁচটিতে তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। যারমধ্যে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হল, যৌনদাসী হিসেবে অপ্রাপ্তবয়স্ক এক মেয়েকে পাচার।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে বলছে, এই রায়ের ফলে গিলেইন ম্যাক্সওয়েলকে বাকি জীবন কারাগারে কাটাতে হতে পারে। যদিও রায় ঘোষণার সময় ম্যাক্সওয়েলের মধ্যে কোনো ভাবান্তরও দেখা যায়নি।
গিলেইন ম্যাক্সওয়েল ছিলেন লন্ডন এবং নিউ ইয়র্কের উচ্চ সমাজের একজন প্রতিনিধি, যিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের প্রতিতাবৃত্তি করতে উৎসাহ দিতেন এবং নারী পাচারে ভূমিকা পালন করতেন।
স্কাই নিউজের খবরে বলা হয়েছে, রায় ঘোষণার পর গিলেইনের আইনজীবীরা জানান, তারা রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন।
ম্যাক্সওয়েল বিরুদ্ধে আনা পাঁচটি অভিযোগের প্রথমটি হলো, যৌনদাসী হিসেবে অপ্রাপ্তবয়স্ক এক মেয়েকে পাচার। এই অপরাধের দায়ে মার্কিন আইনে তার সর্বোচ্চ ৪০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। এছাড়া বাকি অভিযোগগুলোর জন্য তার আরও ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
চারজন নারী গিলেইনের বিপক্ষে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। তারা বলেছেন, ১৮ বছর হওয়ার আগেই মার্কিন ধনকুবের জেফরি এপস্টিনকে তাদের যৌননিগ্রহ করেছেন আর এই কাজে ম্যাক্সওয়েল সহায়তা করেছেন।

প্রয়াত মার্কিন ধনকুবের জেফরি এপস্টিন ও গিলেইন ম্যাক্সওয়েল।
এদিকে এ রায় ঘোষণার পর মার্কিন অ্যাটর্নি ড্যামিয়েন ইউলিয়ামসসহ একাধিক নারী সংগঠন ও মানবাধিকার সংগঠন এ রায়কে স্বাগত জানিয়েছে।
তবে নারী পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বিচার চলার সময় এপস্টিন ২০১৯ সালের ১০ আগস্ট কারবন্দি অবস্থায় আত্মহত্যা করেন।
ম্যাক্সওয়েলের সাজা কখন ঘোষণা করা হবে সে বিষয়ে এখনও কিছু জানা যায়নি।
একাত্তর/আরবিএস
