হোয়াইট হাউসের জনপ্রিয় প্রেস সেক্রেটারি পদটি আপাতত ফাঁকা রাখছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প! অগাস্টের শেষদিকে ক্যারোলিন লেভিটের আকস্মিক পদত্যাগের পর যে পদটি নিয়ে ওয়াশিংটনের রাজনীতিতে জোর গুঞ্জন চলছিল, সেখানে নতুন কাউকে বসানোর তাড়া আপাতত প্রেসিডেন্টের নেই।
রোববার আয়ারল্যান্ড সফর শেষে ফেরার পথে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প তার এই নতুন কৌশলের কথা জানান। হালকা মেজাজে তিনি বলেন, আপনারা জানেন, আমরা কিছুদিনের জন্য কী করতে যাচ্ছি? আমরা সরকারের বিভিন্ন বিভাগের সচিবদের দিয়েই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করব।

অর্থাৎ, এখন থেকে সাংবাদিকদের সরাসরি মন্ত্রী ও প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তাদের কাঠগড়াতেই দাঁড়াতে হবে! তবে প্রেস সচিবের পদটি চিরতরে বিলুপ্ত হচ্ছে না, আরও চিন্তা-ভাবনা শেষে এই পদে নতুন কাউকেই নিয়োগ দেবেন বলে আভাস দিয়েছেন ট্রাম্প।
প্রসঙ্গত, মাত্র ২৮ বছর বয়সে মার্কিন ইতিহাসের সবচেয়ে কম বয়সী প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে নজর কেড়েছিলেন ক্যারোলিন লেভিট। সাংবাদিকদের তীক্ষ্ণ প্রশ্নবাণকে কড়া ও ঝাঁজালো জবাবে রুখে দিয়ে হোয়াইট হাউসের প্রেস ব্রিফিং রুমে বেশ নাম কামিয়েছিলেন তিনি।
গত মে মাসে নিজের দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের পর পরিবারের সঙ্গে বেশি সময় কাটানোর অজুহাত দেখিয়েই অগাস্টের শেষে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান এই চটপটে কর্মকর্তা।

লেভিটের বিদায়ের পর কে হচ্ছেন হোয়াইট হাউসের পরবর্তী মুখপাত্র—তা নিয়ে যখন ওয়াশিংটনের গণমাধ্যমপাড়ায় নানা সমীকরণ মেলানো হচ্ছিল, ঠিক তখনই ট্রাম্পের এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘোষণা এলো। অন্যদিকে, জনমত জরিপগুলোতে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধারাবাহিক ধস নামছে।
সামনেই নভেম্বরে কংগ্রেসের কঠিন মধ্যবর্তী নির্বাচন, যেখানে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি বড় ধাক্কা খাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। রাজনীতির এমন এক গরম আবহে প্রেস সেক্রেটারির প্রেস ব্রিফিং বন্ধ রেখে সরাসরি স্ব-স্ব বিভাগের সচিবদের মাঠে নামানোর ট্রাম্পীয় চাল আসলে কতটা কাজ দেয়, তা-ই এখন দেখার বিষয়!
তথ্যসূত্র: এএফপি
