রাশিয়ান নৌ বাহিনী আগের মতোই কাজ চালিয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন রুশ নৌবাহিনীর কমান্ডার ইন চীফ নিকোলাই ইয়েভমেনভ। তিনি যুদ্ধজাহাজ মস্কভার নাবিকদের সাথে দেখা করে এ মন্তব্য করেন।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে শনিবার (১৬ এপ্রিল) বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানায়।
গত বৃহস্পতিবার (১৪ এপ্রিল) দিনের শেষ দিকে এক বার্তায় রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বন্দরে টেনে নেয়ার সময় সমুদ্রের ঝোড়ো আবহাওয়ার মধ্যে পড়ে মস্কভা ডুবে যায়। এরপর থেকেই পাল্টাপাল্টি বক্তব্য এসেছে রাশিয়া আর ইউক্রেনের পক্ষ থেকে।
সর্বশেষ মস্কোর প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, প্যারেড গ্রাউন্ডে ১০০ নাবিকের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন অ্যাডমিরাল ইয়েভমেনভ এবং আরো দু’জন অফিসার। তবে এই সাক্ষাৎ পর্ব কখন অনুষ্ঠিত হয়েছে তা স্পষ্ট নয়।
ভিডিওর শেষে দেখানো একটি সাক্ষাৎকারে অ্যাডমিরাল ইয়েভমেনভ বলেন, অফিসার এবং নাবিকেরা এখন সেভাস্তোপোলে তাদের নিজস্ব ঘাঁটিতে অবস্থান করছেন। সেখান থেকেই তারা নৌবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করে যাবেন।
প্রসঙ্গত, ৫১০ নাবিকের মিসাইল ক্রুজার মস্কভাকে রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর শক্তির প্রতীক বিবেচনা করা হয়। ইউক্রেনে হামলায় রুশ নৌবাহিনীর নেতৃত্ব দিচ্ছিল এই যুদ্ধজাহাজ। ১৮৬ দশমিক ৪ মিটার দীর্ঘ যুদ্ধজাহাজটির গতি ঘণ্টায় ৩২ নটিক্যাল মাইল বা ৫৯ কিলোমিটার।
রাশিয়ার বার্তা সংস্থাগুলো বলছে, মস্কভা ১৯৮৩ সালে কমিশন লাভ করে। এই যুদ্ধজাহাজটি ৭০০ কিলোমিটার দূরে আঘাত হানতে সক্ষম ১৬টি ভুলকান ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সজ্জিত। এ ছাড়া এতে রয়েছে সাবমেরিন–বিধ্বংসী ও মাইন-টর্পেডো অস্ত্র।
আরও পড়ুন: সুইডেনে কোরআন অবমাননার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ অব্যাহত
যদি ইউক্রেনের হামলার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়, তাহলে ১২ হাজার ৪৯০ টনের মস্কভা হবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর শত্রুর হামলায় ডুবে যাওয়া সবচেয়ে বড় যুদ্ধজাহাজ। সিরিয়ার যুদ্ধেও মিসাইল ক্রুজারটি মোতায়েন করেছিল রাশিয়া।
একাত্তর/আরএ
