করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে গেল দুই বছর বন্ধ থাকার পর আবারো শুরু হয়েছে স্পেনের ঐতিহ্যবাহী ষাঁড়ের দৌড় বা বুল বের।
এই আয়োজনকে ঘিরে জমে ওঠা উৎসবে অংশ নিতে সারা পৃথিবী থেকে পর্যটকরা জড় হয়েছেন স্পেনে। বুধবার শুরু হওয়া বিপজ্জনক এই রেসে অংশ নিয়ে এরই মধ্যে আহত হয়েছে অনেকে।
স্পেনের উত্তর সীমান্তের শহর পাম্পলোনা। গেলো মঙ্গলবার ষেখানে ভোর এসেছিলো একটু অন্যভাবে। আর এমন ভিন ভোরের জন্য তাদের অপেক্ষা করতে হয়েছে দু’বছর।

সূর্যের আলো ঠিকঠাক ফোটার আগেই স্থানীয়দের পাশাপাশি দুনিয়ার নানা প্রান্ত থেকে সেই শহরে আসা পর্যটকরা জেগে ওঠেন।
সকালের খাবারের পাটটাও চুকিয়ে ফেলে কেউ কেউ। সাদা পোশাকে বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে আয়োজক, গণমাধ্যম আর দর্শক সবাই তৈরি।
এতো সাজসাজ রব পাম্পলোনার ঐতিহ্যবাহি ষাড়ের দৌড়কে ঘিরে, যেখানে খ্যাপাটে তাগড়া এক ঝাঁক ষাড়ের সাথে দৌড়ে অংশ নেয় মানুষও।

সান ফারমিন নামের এই উৎসবে সকাল আটটায় রেসের জন্য প্রথমবারের মতো ছাড়া হয় ষাড়গুলোকে। দৌড়ের দৈর্ঘ্য মাত্র ৮০০ মিটার। শেষ হতে সময় নেয় ৩-৫ মিনিট।
দৌড়ের শেষ মাথায় বুলরিং, যেখানে বিকেলে হয় ষাঁড়ের লড়াই৷ এরপর ষাড়গুলোকে জবাই করা হয়। মজার মজার স্টেক তৈরি করে শুরু হয় রাতের রসনা বিলাস।
এই রেসের দৈর্ঘ্য কম হলেও পাম্পলোনা শহরের সরু গলিতে দুর্ধর্ষ ষাড়ের সামনে দৌড়ানো বেশ বিপদজনক। এবারও ভিড়ের ধাক্কায় এক মার্কিন দর্শণার্থীর হাত ভেঙে গেছে।

আরো পাঁচ জনকে অন্য নানা অসুস্থতায় ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে৷ সবশেষ ২০১৯ সালে ৩৯ জন আহত হয়েছিল এই উৎসবে, এদের মধ্যে তিন জন পড়েছিলেন ষাঁড়ের পায়ের তলায়। গত কয়েক বছরে অন্তত ১৬ জন মারা গেছেন এই উৎসবে।
কেবল দৌড়ে অংশ নেয়া মানুষের নিরাপত্তাহীনতার কারণে নয়, প্রাণী অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এমন যুক্তিতেও এই উৎসবের বিরোধিতা করেন অনেকেই।
এবারের আয়োজনেও পাম্পলোনাতে প্ল্যাকার্ড হাতে প্রতিবাদ করেছেন প্রাণী অধিকারকর্মীরা। তাতে অবশ্য সান ফারমিনের জনপ্রিয়তা কমেনি একচুল।
বরং মহামারীর কারণে গেল দুই বছর উৎসব না হওয়ায় এবারে একটু বাড়তি আগ্রহই দেখা গেছে।

শত শত বছর ধরে স্পেনে এই উৎসব চলে আসলেও ষাড়ের দৌড়কে সারা দুনিয়ায় জনপ্রিয় করে তোলেন মার্কিন সাহিত্যিক আর্নেস্ট হ্যামিংওয়ে।
তার ‘দ্য সান অলসো রাইজেস’ উপন্যাসে ষাড় দৌড়ের বিষদ বর্ননা পড়ার পর থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই উৎসবে দর্শনার্থী আসতে শুরু করেন।
চলতি জুলাই মাসের ছয় তারিখ থেকে শুরু হওয়া এবারের সান ফারমিন উৎসব চলবে আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত।
একাত্তর/এআর
