মিয়ানমারের ৫২ শতাংশ অঞ্চল প্রতিরোধকারী এবং সংখ্যালঘু সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর দখলে। জান্তার নিরাপদ দখলে মাত্র ১৭ শতাংশ। ৩৩০টি উপজেলার মধ্যে সামরিক নিয়ন্ত্রণে ৭২টি।
এক প্রতিবেদনে ইরাবতি এসব তথ্য দিয়েছে। এদিকে জান্তা প্রধান রাশিয়া সফরে গিয়ে বলেছেন, সঙ্কট সরকারের নিয়ন্ত্রণে। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আগামী বছর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
অভ্যুত্থানের পর গত ১৭ মাসে জান্তার থেকে ৯০টি নিরাপত্তা চৌকি দখলে নিয়েছে মিয়ানমারের প্রতিরোধ বাহিনী ও সংখ্যালঘু সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো। যার মধ্যে কৌশলগত চৌকিও রয়েছে।
যেগুলো দিয়ে অস্ত্র, খাবার পাঠানো হতো। কাচিনে ২০টি, শিনে তিনটি, কায়াহতে ১৯টি, কারেনে ১২টি, রাখাইন রাজ্যের ৩৬টি নিরাপত্তা চৌকি নিয়ন্ত্রণে নেয়া হয়েছে।
শুধু মংডুতেই ৩০টি চৌকির নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে মিয়ানমারের জান্তা। বাকি ছয়টি পালেতওয়া ও রাখাইনের সীমান্তবর্তী শিন রাজ্যে।
সম্প্রতি রাখাইনে জান্তার কাছ থেকে পাঁচটি চৌকি দখলে নেয় আরাকান আর্মি। বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মংডুর একটি পুলিশ চৌকিও রয়েছে তাতে। এ সময় ১৯ পুলিশ নিহত হয়।
বিপুল পরিমাণ অস্ত্র জব্দ করে তারা। হারানো অঞ্চল পুনরুদ্ধারে বিমান ও গোলা হামলা জোরদার করেছিলো জান্তা সরকার।
বাংলাদেশে গোলা পড়ায় তাদের রাষ্ট্রদূতে তলব করে ঢাকা। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আরাকান আর্মির দাবির চেয়ে বেশি চৌকির নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে জান্তা।
৫ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের স্বাধীন সরকার জানায়, ৩৩০টি উপজেলার মধ্যে মাত্র ৭২টির নিয়ন্ত্রণ আছে জান্তার হাতে।
সিভিল ন্যাশনাল ইউনিট গভরমেন্ট ও প্রতিরোধকারী দলগুলো মিয়ানমারের ৫২ শতাংশ কার্যকর ভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে। আরও ২৩ শতাংশে জান্তার নিয়ন্ত্রণকে চ্যালেঞ্জ করছে তারা।
১৭ শতাংশে জান্তার নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। মিয়ানমারভিত্তিক এক বিশেষজ্ঞ জানান, আক্রমণের ক্ষমতা জান্তার নেই। এখন শুধুই নিজেদের দখলে থাকা অঞ্চল প্রতিরোধ করতে চাইছে তারা।
সশস্ত্র সংগঠনগুলোকে সরকারের অব্যাহত চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। সতর্কতার জন্য গ্রামে গ্রামে অভিযান আর বাড়িঘরে আগুন দিচ্ছে সামরিক বাহিনী।
এদিকে, সম্প্রতি রাশিয়া সফরে গিয়ে জান্তা সরকার প্রধান মিন অং লাইং জানান, মিয়ানমারের সংকট নিয়ন্ত্রণে। আগামী বছর নির্বাচন আয়োজনে সব কিছু করছে সরকার।
