ব্রিটেনের রাজা হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেছেন সদ্যপ্রয়াত রানি এলিজাবেথের বড় ছেলে তৃতীয় চার্লস ফিলিপ। এ নিয়ে ব্রিটেনজুড়ে চলছে নানা আয়োজন, অন্যদিকে রাজা চার্লস ও ব্রিটিশ রাজতন্ত্র নিয়ে সমালচনায় মেতেছেন অনেকে।
এ সকল সমালোচনাকারীদের প্রতি পুলিশের আচারন দেখে দেশের বাক-স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্রিটিশ নাগরিকরা।
সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এডিনবার্গ শহরে একজন নারী "সাম্রাজ্যবাদ নিপাত যাক, রাজতন্ত্র বিলোপ করুন" লেখা একটি প্লাকার্ড ব্যবহার করায় তাকে শান্তি ভঙ্গের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অন্যদিকে লন্ডনের আরেক নারীকে "আমার রাজা নয়" প্লাকার্ড বহন করার সময় সংসদের গেট থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া স্কটল্যান্ডের রাজধানীতে প্রিন্স অ্যান্ড্রুকে নিয়ে উপহাস করার পর আরও এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে শান্তি ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছিল।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ব্রিটিশ পুলিশ রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করেছে। এর ফলে বাক-স্বাধীনতা নিয়ে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নানা প্রশ্ন উঠছে।
এর আগে অক্সফোর্ডের পিস অ্যাকটিভিস্ট সাইমন হিল "কে তাকে (রাজা চার্লস) নির্বাচিত করেছে?" বলে চিৎকার করায় তাকে হাতকড়া পরানো হয়েছিল।
হিল জানান, তাকে আটক করে একটি পুলিশ ভ্যানে রাখা হয়েছিল এবং তিনি বিপদ বা যন্ত্রণা সৃষ্টি করতে পারে বলে অভিযোগ আনা হয়েছিল। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়েছে।
তিনি বলেন, পুলিশ ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে। একজন রাষ্ট্রপ্রধান নিয়োগের বিরুদ্ধে সামান্য বিরোধিতা করলেই কর্তৃপক্ষ অগণতান্ত্রিকভাবে তা দমন করছে।

আইনজীবী পল পোলেসল্যান্ড জানান, সোমবার সংসদের বাইরে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এ সময় তিনি একটি ফাঁকা কাগজ বহন করেছিলেন।
পোলেসল্যান্ডের তোলা ফুটেজে একজন অফিসারকে বলতে শোনা যায় "এটি (সাদা কাগজ) কাউকে বিরক্ত করতে পারে"। পোলেসল্যান্ড পুলিশের আচরণকে "আপত্তিকর" বলে অভিহিত করেছেন।
নাগরিক অধিকার গোষ্ঠী লিবার্টি বলেছে, বাক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে দমন করার জন্য পুলিশ তাদের ব্যাপক ক্ষমতা প্রয়োগ করছে, যা খুবই উদ্বেগজনক।
রিপাবলিক নামের আরেকটি দল যারা রাজতন্ত্রের বিলুপ্তির জন্য প্রচারণা চালায়, তারা বলেছে, পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হবে এবং আগামী মাসগুলোতে রাজার রাজ্যাভিষেক নিয়ে বিক্ষোভ সংগঠিত করবে তারা।
আরও পড়ুন: চিকিৎসকদের রাজধানী প্রবণতা বাদ দিয়ে উপজেলায়ও সেবা দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
এদিকে ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাসের মুখপাত্র ম্যাক্স ব্লেইন বলেছেন, যদিও এটি একটি জাতীয় শোকের সময় এবং প্রকৃতপক্ষে যুক্তরাজ্যের বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠের জন্য শোকের সময়...তবে প্রতিবাদ করার অধিকার একটি মৌলিক নীতি হিসাবে রয়ে গেছে।
তবে তিনি বলেন যে, এসব পরিস্থিতিতে কি উপযুক্ত হবে, সেটা পুলিশের সিদ্ধান্ত।
যদিও লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশের ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার স্টুয়ার্ট কান্ডি বলেছেন, জনগণের সম্পূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার অধিকার আছে এবং আমরা পুলিশিং অপারেশনের সাথে জড়িত সকল অফিসারদের কাছে এটি স্পষ্ট করে দিয়েছি।
একাত্তর/আরবিএস
