রাশিয়ার দখল করা দক্ষিণাঞ্চলে বড় ধরনের সামরিক সাফলতার পর, এবার পূর্বাঞ্চলেও অবস্থান শক্তিশালী করছে ইউক্রেন।
ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলে রুশ নিয়ন্ত্রিত লুহানস্কের দিকেও অগ্রসর হবার কথা নিশ্চিত করেছেন মস্কোপন্থী কর্মকর্তারা।
তবে রাশিয়া বলছে, তাদের সেনারা অবস্থান ধরে রাখছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, একাধিক এলাকায় নতুন বসতি মুক্ত করা হয়েছে।
বিভিন্ন স্থানে তুমুল লড়াই চলছে। খেরসনে রুশপন্থী নেতা ভ্লাদিমির সালদো স্বীকার করেছেন, ডুডচানি শহরের কাছে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা বলয় ভেঙে দিয়েছে ইউক্রেনীয় সেনারা।

ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চল খেরসনের গুরুত্বপূর্ণ একটি গ্রাম দখলমুক্ত করেছে দেশটির বাহিনী। ৩৫তম মেরিন ব্রিগেড দাভিদিভ ব্রিদ গ্রামে ইউক্রেনীয় পতাকা ওড়াচ্ছে।
ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, দাভিদিভ ব্রিদ গ্রামে আবারও ইউক্রেনীয় পতাকা ওড়ানো হয়েছে। ভিডিওতে দেখা গেছে, ইউক্রেনীয় সেনারা গ্রামের ভেতরে হাঁটাহাঁটি করছেন।
রুশ বাহিনী ইতিমধ্যে ইউক্রেনের উত্তর-পূর্ব দিকে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে। এখন তারা দক্ষিণাঞ্চল থেকেও পিছু হটতে শুরু করেছে।
ইউক্রেনের দক্ষিণের আঞ্চলিক রাজধানী খেরসন শহর এখনো রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকলেও দিনিপ্র নদীর উত্তর দিকের পুরো এলাকায় তাদের অবস্থান ক্রমে নড়বড়ে হচ্ছে।

এর আগে ইউক্রেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয় রুশ সেনাবাহিনী। তারা পিছিয়ে ক্রমেই দক্ষিণের দিকে যাচ্ছে। ইউক্রেনের দাবি, তারা ৫০টি গ্রাম দখলমুক্ত করেছে।
ইউক্রেনের উপ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়েভেন এনিন বলেন, ৫০টি শহর ও গ্রাম পুনরুদ্ধার করা হয়েছে এবং খেরসনে প্রায় সাড়ে তিন হাজার নাগরিককে মুক্ত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার আমেরিকান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইউক্রেনের নাতা জেলেনস্কির সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র কখনই রাশিয়ার সংযুক্তিকে স্বীকৃতি দেবে না।
এছাড়াও হিমার্স রকেট লঞ্চার সহ ইউক্রেনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ৬২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের সহায়তা নিয়েও আলোচনা করেছেন তারা।
এদিকে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সই করার মধ্য দিয়ে বুধবার ইউক্রেনের দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন ও জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চল আনুষ্ঠানিকভাবে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

এরিমধ্যে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়ার জন্য দুই লাখের বেশি মানুষের নাম নতুন সেনা হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে রাশিয়া।
ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়া যে সব অঞ্চল দখলের পর হারিয়েছে তা চিরতরের জন্য ফিরিয়ে আনার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ক্রেমলিন। বুধবার ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
এ নিয়ে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকোভ বলেন, হারানো অঞ্চলগুলো চিরতরের ফিরিয়ে আনা হবে। যেগুলো মস্কো নিয়েছে সেগুলো কখনোই ফিরিয়ে দেওয়া হবে না।
ইউক্রেনের চারটি অঞ্চল রাশিয়া এবং ক্রিমিয়া উপদ্বীপের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থল করিডোর তৈরি করেছে। ক্রিমিয়া ২০১৪ সালে দখল করে রাশিয়া। রাশিয়ার দখল করা এই ৫ অঞ্চলই ইউক্রেনের মোট ভূখণ্ডের ২০ শতাংশ।
একাত্তর/এআর
