মাত্র তিন মাস আগে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীত্ব হারানো বরিস জনসন আবারও প্রধানমন্ত্রী হবার দৌড়ে চলে এসেছেন। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যে তিনজনের নাম শোনা যাচ্ছে তাদের মধ্যে রয়েছেন বরিসও।
দ্বিতীয়বারের মতো বরিস প্রধানমন্ত্রী হলে সেটিকে একরকম অলৌকিক ঘটনাই বলা যাবে, যদিও এর আগেও এমন অলৌকিক প্রত্যাবর্তন ঘটিয়েছেন তিনি।
শেষবার কোনও ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ প্রধানমন্ত্রীর পদ হারানোর পর ফিরে পেয়েছিলেন সেই ১৪০ বছর আগে। সেবার লিবারেল পার্টির নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ফিরে এসেছিলেন উইলিয়াম গ্ল্যাডস্টোন।
নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে বরিস খুব সম্ভবত এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেননি। তবে ইতোমধ্যেই তিনি ডমিনিকান রিপাবলিকে ছুটি কাটানো শেষে যুক্তরাজ্যের পথে রওয়ানা হয়েছেন বলে জানিয়েছেন তার বাবা।
জনসনের সাবেক প্রেস সচিব উইল ওয়ালডেন জানিয়েছেন, নির্বাচনে অংশ নেয়ার ব্যাপারে স্পষ্টতই চিন্তাভাবনা করছেন বরিস।
২০১৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন বরিস জনসন। ব্রিটেনের সংবিধান অনুযায়ী, আরেকটি সাধারণ নির্বাচন ছাড়াই প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তন করতে পারবে ক্ষমতাসীন দল।
এরইমধ্যে বরিসকে ডাউনিং স্ট্রিটে ফেরাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কর্মসূচি চালু করেছেন তার অন্যতম সমর্থক ও বাণিজ্যমন্ত্রী জ্যাকব রিস-মগ। তাকে সমর্থন জানাচ্ছেন বেশ কয়েকজন কনজারভেটিভ এমপি।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সম্ভাব্য আরেক প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী বেন ওয়ালেস জানিয়েছেন, তিনিও জনসনকে সমর্থন করার দিকেই ঝুঁকে আছেন।
কনজারভেটিভ পার্টির নিয়ম অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর পদ পাওয়ার দৌড়ে টিকে থাকতে একজনকে কমপক্ষে ১০০ জন টোরি এমপির সমর্থন পেতে হবে।
তবে গত জুনে যেই বরিসের বিরুদ্ধে তার ১৪৮ জন সহকর্মী ভোট দিয়েছিলেন, তার জন্য এটি করা খুব সহজ হবে না বলে সহজেই অনুমান করে নেয়া যায়।
লকডাউন বিধিনিষেধ ভঙ্গসহ নানা কেলেঙ্কারির কারণে এখনও বরিসের বিরুদ্ধে সংসদীয় কমিটির তদন্ত চলছে। তাকে আবার প্রধানমন্ত্রী পদে ফিরিয়ে আনা হলে পদত্যাগ করার হুমকি দিয়েছেন বেশ কয়েকজন এমপি।
তারপরও সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, লিজ ট্রাসের উত্তরসূরি হিসেবে সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রার্থী এখন বরিস জনসন। শেষ পর্যন্ত দৌড়ে টিকে থাকতে পারলে তার ডাউনিং স্ট্রিটে ফেরার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: যেভাবে নির্বাচিত হবেন ব্রিটেনের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী
আবার বরিস নির্বাচনে অংশ নিলে তা অন্য প্রার্থীদের জন্যও অনুকূল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জরিপ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ইউগভ-এর সহকারী পরিচালক প্যাট্রিক ইংলিশ মনে করেন, যদি শেষ লড়াইটা ঋষি সুনাক, পেনি মরড্যান্ট ও বরিস জনসনের মধ্যে হয়, তাহলে সুনাক ও বরিসকে নিয়ে দলীয় বিভাজনের সুযোগে বিজয়ী হয়ে যেতে পারেন মরড্যান্টও।
একাত্তর/এসজে
