দুইবারের ব্যর্থতার পর অবশেষে সফল উৎক্ষেপণ সম্পন্ন হয়েছে নাসার আর্টেমিস-১ রকেটের। অ্যাপোলো মিশনের ৫০ বছর পর আবারও চন্দ্র অভিযান শুরু করলো নাসা।
স্থানীয় সময় বুধবার (১৬ নভেম্বর) ভোররাত পৌনে দুইটায় ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হয়। তবে এই যাত্রায় কোন মানুষ থাকছে না। সবকিছু পরিকল্পনামাফিক চললে পরবর্তী মিশনগুলোতে মহাকাশচারীরা যোগ দেবেন।
উৎক্ষেপণের প্রায় দেড় ঘণ্টা পর রকেটটির উপরের অংশ 'ট্রান্স-লুনার ইঞ্জেকশন'-এর মাধ্যমে ওরাইয়ন ক্যাপসুলটিকে চাঁদের দিকে ছুঁড়ে দেয়। এর ফলে ২৫ দিন পর এটি চন্দ্রপৃষ্ঠের ৬০ মাইলের মধ্যে পৌঁছে যাবে।
কারিগরি ত্রুটি ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে এর আগে দুইবার আর্টেমিস রকেটটি উৎক্ষেপণের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় নাসা।
তবে তৃতীয়বারের সফল উৎক্ষেপণেও নাটকীয়তা কম হয়নি। কাউন্টডাউনের শেষ কয়েক ঘণ্টায় সম্ভাব্য ফুয়েল লিকের আশঙ্কায় তিনজনের একটি 'রেড টিম' উৎক্ষেপণস্থলে পাঠানো হয়। জ্বালানিতে পূর্ণ একটি রকেটের একদম কাছে গিয়ে অভিযানকে বাঁচানোর জন্য তাদেরকে 'হিরো' বলে আখ্যা দিয়েছেন নাসার কর্মীরা।
উৎক্ষেপণের পর এক সাক্ষাৎকারে নাসার প্রধান বিল নেলসন বলেন, 'এটি একটি অসাধারণ দিন'।
আরটেমিস প্রোগ্রামের নাম রাখা হয়েছে প্রথমবারের মতো চাঁদে মানুষ নিয়ে যাওয়া অ্যাপোলো প্রোগ্রামের সাথে সামঞ্জস্য রেখে। গ্রিক পুরাণ অনুযায়ী, দেবী আরটেমিস ছিলেন দেবতা অ্যাপোলোর যমজ বোন ও চাঁদের দেবী।
আরও পড়ুন: ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কিয়েভের অর্ধেক এলাকা বিদ্যুৎবিহীন: মেয়র
আর্টেমিস-২-এ প্রথম মনুষ্যবাহী মিশন পাঠানোর লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে ২০২৪ সালে। আর আর্টেমিস-৩ ২০২৫ সালের আগে চাঁদে যাবে না।
একাত্তর/এসজে
