ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ার একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধারকারীরা এক নবজাতক মেয়েশিশুকে উদ্ধার করেছে।
বুধবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার ভূমিকম্পটি আঘাত হানার পরপরই শিশুটির মায়ের প্রসব বেদনা দেখা দেয় এবং মারা যাওয়ার আগে তিনি সন্তান জন্মদান করেন।
নাটকীয় একটি ফুটেজে দেখা যায়, জিন্দারিসের ধ্বংসাবশেষ থেকে টেনে বের করার পর ধুলায় ঢেকে থাকা এক শিশুকে এক ব্যক্তি নিয়ে আসছেন।
শিশুটির এক স্বজন জানান, নবজাতকের বাবা, চার ভাইবোন এবং এক খালাও ভূমিকম্পে নিহত হয়েছে। তার মা আফরা, বাবা আবদুল্লাহ এবং তার চার ভাইবোনের জন্য একটি যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আফরিনের কাছে স্থানীয় একটি হাসপাতালের একজন চিকিৎসক জানিয়েছেন, সে এখন স্থিতিশীল রয়েছে।
তুরস্ক সীমান্তের কাছে ইদলিব প্রদেশের বিদ্রোহীদের অধ্যূষিত শহর জিন্দারিসের যে ভবনটিতে তার পরিবার বাস করত সেটি ছিল ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পে ধসে পড়া ৫০টি ভবনের একটি।
শিশুটির চাচা খলিল আল-সুয়াদি বলেন, আত্মীয়রা ধসে পড়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। খনন করার সময় তারা একটি আওয়াজ শুনতে পান। ধুলো পরিষ্কার করে তারা নাভির সাথে থাকা নাড়িতে জড়ানো শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় পান। পরে তারা এটি কেটে ফেলেন এবং তার চাচাতো ভাই তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ হানি মারুফ বলেন, শিশুটিকে তার হাসপাতালে আনা হয়েছে এবং 'তার সমস্ত শরীরে বেশ কিছু আঘাত ও ক্ষত রয়েছে'।
একটি ছবিতে তাকে ক্যানোলা সংযুক্ত অবস্থায় ইনকিউবেটরে শুয়ে থাকতে দেখা গেছে।
আরও পড়ুন: ইউক্রেন পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে: মেদভেদেভ
দামেস্ক-ভিত্তিক সরকার এবং হোয়াইট হেলমেটস এর তথ্য অনুসারে, সিরিয়ায় ভূমিকম্পে নিহত ১৮০০ জনের মধ্যে শিশুটির পরিবার রয়েছে। হোয়াইট হেলমেটস একটি দাতব্য সংস্থা যাদের স্বেচ্ছাসেবকরা বিদ্রোহী অধ্যূষিত এলাকায় প্রথম উদ্ধার কাজে অংশ নেয়।
মঙ্গলবার এক টুইটে তারা বলে, 'সময় ফুরিয়ে আসছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও শত শত লোক আটকা পড়ে আছে। প্রতি সেকেন্ডের অর্থ হতে পারে একটি জীবন বাঁচানো'।
একাত্তর/এসজে
