ভূমিকম্পের পর সিরিয়ায় জাতিসংঘের পদক্ষেপ অত্যন্ত বাজে ছিল বলে অভিযোগ করেছেন বেসামরিক ত্রাণ সংস্থা হোয়াইট হেলমেট-এর প্রধান রায়েদ আল-সালেহ। জাতিসংঘ নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে না বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) জাতিসংঘের প্রথম ত্রাণবাহী গাড়িবহর তুরস্ক থেকে সীমান্ত অতিক্রম করে উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ার বিদ্রোহী-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় প্রবেশ করে।
তবে হোয়াইট হেলমেট বলছে, ঐ রসদপত্র ভূমিকম্পের আগেই সেখানে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল এবং উদ্ধার অভিযান চালানোর জন্য জরুরি রসদপত্র তাতে ছিল না।
ইদলিব থেকে ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে জেনেভায় জাতিসংঘের প্রতিনিধিদের সাথে কথা বলার সময় আল-সালেহ বলেন, ভূমিকম্পের ১০০ ঘণ্টা পর যে ত্রাণবহর উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ায় পৌঁছেছে তাতে ছিল মাত্র ছয় ট্রাক ভর্তি সাহায্য সামগ্রী। এগুলো ভূমিকম্পের আগেই সেখানে যাওয়ার কথা ছিল।
তুরস্ক থেকে সিরিয়া পর্যন্ত স্থল সীমান্তের ক্রসিংগুলো রাশিয়ার পীড়াপীড়িতে কমিয়ে আনা হয়েছে। যার ফলে বিরোধীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা সিরিয় ভূখণ্ডের কিছু অংশে জাতিসংঘের মানবিক ত্রাণ বিতরণ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
রাশিয়া বলেছে, সাহায্য সামগ্রীগুলো দামেস্কের সরকারের মাধ্যমে যাওয়া উচিত। তবে হোয়াইট হেলমেট শুক্রবার দাবি করেছে, ভূমিকম্পের পর সিরিয়ার সরকার উত্তর সিরিয়ায় ‘কিছুই’ পাঠায়নি।
আল-সালেহ আরও কিছু মানবিক করিডোর খোলার জন্য জাতিসংঘকে পরামর্শ দিয়েছিলেন, কিন্তু তারা 'রাশিয়াকে রাগাতে চায়নি' বলে তিনি অভিযোগ করেন।
জাতিসংঘের জরুরি ত্রাণ সংস্থার প্রধান মার্টিন গ্রিফিথস এ সপ্তাহান্তে উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ায় যাচ্ছেন। তবে এই সফরের সময় তিনি হোয়াইট হেলমেট কর্মীদের সাথে দেখা করবেন কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়।
আরও পড়ুন: পুতিনকে দেয়া সর্বোচ্চ ফরাসি পদক কেড়ে নিতে চান ম্যাখোঁ
উত্তর সিরিয়ার একটি হাসপাতালের কর্মরত ডাক্তার মোহাম্মদ হাসাউন বিবিসিকে জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের পর এখন তাদের কাছে যে চিকিৎসা সামগ্রী রয়েছে তা দেশের উত্তরাঞ্চলের ২০ শতাংশ মানুষের চাহিদাও পূরণ হবে না।
এদিকে বার্তাসংস্থা রয়টার্স বলছে, উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ায়, যেখানে ৯০ শতাংশ মানুষ সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল, সেখানে খাদ্যের মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।
একাত্তর/এসজে
