পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণামতো জেড প্লাস ক্যাটেগরির নিরাপত্তা পেলেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এবিপি জানিয়েছে, রোববার জেড প্লাস ক্যাটেগরির নিরাপত্তায় শান্তিনিকেতন থেকে কলকাতায় যান এ অর্থনীতিবিদ। এসময় তার সাথে থাকা আটটি গাড়ির কনভয় সড়ক পথে কলকাতায় পৌঁছায়। পরে সেখান থেকে দিল্লির পথে রওনা হন অধ্যাপক সেন।
নিরাপত্তা প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে অমর্ত্য সেন জানান, এর আগে বিদেশি সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তার সম্পর্কে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের আক্রোশের কথা প্রকাশ্যে আসে। ফলে গত ৩০ জানুয়ারি, বিশ্বভারতীর জমি-বিতর্কে বীরভূমে গিয়ে অমর্ত্য সেনকে জমির নথি দেওয়ার পাশাপাশি, জেড প্লাস ক্যাটিগরির নিরাপত্তা দেওয়ার ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
এর আগে জমি বিতর্কে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের সঙ্গে সংঘাতে জড়ায় বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এমনকি বিতর্ক এমন জায়গায় পৌঁছায় যে, নোবেলজয়ীর নোবেল পাওয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী। এ পরিস্থিতিতে গেলো সপ্তাহে শান্তিনিকেতনে অমর্ত্য সেনের বাড়ি প্রতীচীতে গিয়ে জমির কাগজপত্র তার হাতে তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা।
একইসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য়মন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, উনি (উপাচার্য বিদ্য়ুৎ চক্রবর্তী) কি বিশ্বভারতীর ভিসি হওয়ার উপযুক্ত লোক?
সে সময়ই অমর্ত্য সেনকে জেড প্লাস নিরাপত্তার দেয়ার ঘোষণা দেন মমতা।
এদিকে জমি বিতর্ককে কেন্দ্র করে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন অমর্ত্য সেন। অভিযোগ, তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অসম্মানিত করা হচ্ছে। বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ দ্রুত ক্ষমা না চাইলে, আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে নোটিশে।
তবে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর দাবি, বিশ্বভারতীর জমি কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি হতে পারে না। আমরা সবাইকে লিজ দিই, অধ্যাপক সেন, অধ্যাপক সেনের পিতৃদেব, পিতামহ, সবাই লিজহোল্ড জমিতে থাকেন।
আরও পড়ুন: নতুন কোচ পাচ্ছে ব্রাজিল!
এর আগে অধ্যাপক সেনের শান্তিনিকেতনের বাড়ির কিছু অংশকে বিশ্বভারতীর সম্পত্তি বলে দাবি করেন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী। এ নিয়েই এ নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদকে নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য, ভারতে সাধারণত ভিভিআইপি ব্যক্তিদের জেড প্লাস ক্যাটেগরির নিরাপত্তা দেয়া হয়। এমপি, মন্ত্রী এবং একইরমক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা এ সেবা পেয়ে থাকেন।
একাত্তর/আরবিএস
