ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের শহর জেনিনে রাতভর ড্রোন হামলা চালিয়েছে। সেই সঙ্গে স্থলপথেও চলেছে ইসরাইলি সেনাদের সশস্ত্র অভিযান। এতে এখন পর্যন্ত আটজন ফিলিস্তিনি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে কাতারভিক্তিক আল জাজিরা টেলিভিশন।
সোমবার বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, রোববার দিবাগত রাতে শুরু হয়ে এই অভিযান সোমবার সকাল পর্যন্ত চলেছে। এ শহরে একটি বড় শরণার্থী শিবির রয়েছে। ইসরাইলের দাবি, এই শিবির থেকে পরিকল্পিতভাবে ইহুদিদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানো হচ্ছে।
আর জেনিন শরণার্থী শিবিরকে ঘিরে একাধিক স্বাধীনতাকামী সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত ‘জেনিন ব্রিগেডস’ নামের সংগঠনটি জানায়, তারা ইসরাইলি বাহিনীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াচ্ছে। ইসরাইলি হামলার জবাবে তারাও সশস্ত্র জবাব দেয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
জেনিন শহর ও এর সংলগ্ন শরণার্থী শিবিরকে ঘিরে অন্তত ৬টি ড্রোন উড়তে দেখা গেছে। এই জনবহুল এলাকায় ৫০০ বর্গমিটারের চেয়েও কম জায়গায় ১৪ হাজার মানুষের বসবাস। ড্রোন ছাড়ায় জেনিন ক্যাম্পে ইসরাইলের সেনা সদস্যরা বন্দুক হামলা চালিয়েছে।
ইসরাইলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা একটি মাত্র ভবনে হামলা চালিয়েছে, যেটি জেনিন ব্রিগেডের সদস্যদের সামরিক সদর দপ্তর হিসেবে ব্যবহার হচ্ছিলো। তারা এই অভিযানকে পশ্চিম তীরের ‘সন্ত্রাসবিরোধী’ উদ্যোগের অংশ হিসাবে বর্ণনা করেছে।

ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী ফাতাহ, হামাস এবং ইসলামিক জিহাদের সশস্ত্র সদস্যদের নিয়ে গঠিত জেনিন ব্যাটালিয়ন। প্রতিক্রিয়ায় তারা বলেছেন, আমরা শেষ নিঃশ্বাস এবং বুলেট পর্যন্ত দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করব। সব ফিলিস্তিনি ও সামরিক সংগঠন এক হয়ে লড়বো।
আরও পড়ুন: ‘অ্যানিউরিজম’ কেড়ে নিলো বডি বিল্ডার লিন্ডনারের জীবন
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী গেলো মাসে জেনিন ক্যাম্পে একটি অভিযান চালালে কমপক্ষে ছয় ছয় ফিলিস্তিনি নিহত হয়। কয়েক বছরের মধ্যে সেবার প্রথমবারের মতো পশ্চিম তীরে আক্রমণকারী হেলিকপ্টার ব্যবহার করে ইসরাইলি বাহিনী। এ সময়ই সাত ইসরাইলি সেনা আহত হয়।
একাত্তর/আরএ
