উত্তর ভারতজুড়ে প্রবল বর্ষণের দিল্লিতে যমুনার পানি এখন সর্বকালের উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে বলে খবর দিয়েছে দেশটির গণমাধ্যমগুলো। পানি বাড়তে থাকায় যমুনা নদীর তীরের কয়েকটি এলাকায় বন্যা দেখা দিয়েছে। ৪৫ বছর আগে ২০৭.৪৯ মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে রেকর্ড করার এখন নদীটি ২০৭.৫৫ মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
ফুসে ওঠা নদীতে বাড়িঘর ও বাজার প্লাবিত হয়েছে, যার ফলে বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। নদীর ধারে বসবাসকারী বাসিন্দাদের অনেকেই এখন ক্রমেই বাড়তে থাকা পানির কাছে অসহায় হয়ে পড়েছেন। অনেকেই ঘর ছেড়ে জিনিসপত্র নিয়ে বারান্দায় চলে গেছে।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল একটি জরুরি বৈঠক করেছেন এবং হরিয়ানার হাতনিকুন্ড ব্যারেজ থেকে যাতে আর পানি না ছাড়া হয় তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রকে অনুরোধ করেছেন। গত দুদিনে দিল্লিতে কোন বৃষ্টিপাত হয়নি, তবে হরিয়ানার হতনিকুন্ড ব্যারেজে অস্বাভাবিকভাবে উচ্চ পরিমাণে পানি ছাড়ার কারণে যমুনার স্তর বাড়ছে। যমুনার স্তর যাতে আরও বাড়ে না তা নিশ্চিত করার জন্য কেন্দ্রকে হস্তক্ষেপ করতে অমিত শাহকে বার্তা পাঠিয়েছেন কেজরিওয়াল।

দিল্লি পুলিশ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বন্যাপ্রবণ এলাকায় জনসমাগমের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। বুধবার সকাল ১১টায় যমুনার পানি পুরনো রেলওয়ে সেতুর ২০৭.৩৮ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছিলো। এটি ২০১৩ সালের পানি স্তরের ৩০৭.৩২ মিটার থেকে বেশি। সে সময়ে রাজধানী দিল্লিতে বন্যা দেখেছিল। ১৯৭৮ সালে যমুনা ২০৭.৪৯ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হয়েছিলো, সেই রেকর্ড বুধবার ভেঙ্গে গেছে বলে জানিয়েছে দিল্লি কর্তৃপক্ষ।
সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশনের কর্মকর্তারা পূর্বাভাস দিয়ে বলেছেন, যমুনা নদীর পানির স্তর আরও বাড়তে পারে, যা দিনের শেষভাগে ২০৭.৫৭ মিটারে পৌঁছতে পারে। ক্রমাগত পানি বাড়তে থাকলে পুরনো দিল্লি এলাকায় বন্যা সতর্কতা জারি করা হতে পারে।
দিল্লি গত তিন দিনে, যমুনার পানি দ্রুত বাড়ার কারণে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। প্রশাসন বন্যা প্রবণ এলাকা থেকে বসবাসকারী লোকজনকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে এবং পুরাতন রেলওয়ে সেতুতে যান ও ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে।

পানি ঢুকে পড়ার কারণে নিচু এলাকাতে জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা। বন্যাপ্রবণ অক্ষরধামের মতো এলাকা থেকে সরিয়ে বহু বাসিন্দাকে ময়ূর বিহার এলাকায় নিয়ে আসা হয়েছে।
আরও পড়ুন: আন্ত:মহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়লো উত্তর কোরিয়া
দিল্লি সরকার আশ্বস্ত করেছে, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য তৈরি তারা। কিন্তু যমুনার পানি যে এতো দ্রুত সমস্যায় ফেলবে, সেটা সম্ভবত অনেকেই ভাবেননি। তাই মঙ্গলবার সকাল থেকে একনাগাড়ে চলছে বাসিন্দাদের সরানোর কাজ।
একাত্তর/এসজে
