প্রায় চার কোটি বছর আগে সাগরের বুকে দাপিয়ে বেড়াতো এক দৈত্যাকার তিমি। 'পেরুসেটাস কোলোসাস' নামের ওই তিমিটিই ছিল এখন পর্যন্ত পৃথিবীতে জন্মানো সবচেয়ে ভারী প্রাণি। যার ওজন নীল তিমির চেয়েও বেশি হতে পারে।
পেরুতে আবিষ্কৃত একটি তিমির জীবাশ্ম পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সম্প্রতি এ তথ্য জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। বুধবার বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকী 'নেচার' -এ এই আবিষ্কারের কথা প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীদের আন্তর্জাতিক একটি দল।
১০ বছর আগে পেরুর দক্ষিণাঞ্চলের মরুভূমিতে তিমিটির মেরুদণ্ডের অংশ বিশেষ ও পাঁজরের হাড়সহ জীবাশ্মের সন্ধান পান গবেষকরা। তারপর চলে দীর্ঘ গবেষণা।
গবেষকরা বলছেন, প্রায় ৩ কোটি ৯০ লাখ বছর আগের প্রাচীন তিমিটির ওজন ছিল প্রায় ৩০০ টন। এটা হতে পারে যে, পৃথিবীতে আজ পর্যন্ত এর চেয়ে ভারী কোনো প্রাণি জন্মায়নি।

নেচারের নিবন্ধে বলা হয়েছে, তিমিটির দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ২০ মিটার (৬৫ ফুট) এবং দেহের ওজন ছিল ৮৫ থেকে ৩৪০ টনের মধ্যে।
গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস অনুযায়ী, সবচেয়ে বড় নীল তিমির ওজন ১৯০ টন। যেটিকে এখন পর্যন্ত পৃথিবীর সবচেয়ে ভারী প্রাণি হিসেবে ধরা হয়।
অন্যদিকে, প্রাচীন প্রজাতির পেরুসেটাস কোলোসাসের ওজন ৮৫ থেকে ৩৪০ টন পর্যন্ত হতে পারে, অর্থাৎ এ প্রজাতির তিমিগুলো বর্তমানের নীল তিমি থেকেও ভারী ছিল।

বুধবার পেরুর রাজধানী লিমায় ন্যাচারাল হিস্ট্রি জাদুঘরে প্রথমবারের মতো প্রাচীন প্রজাতির এ তিমির জীবাশ্ম প্রকাশ্যে আনা হয়েছে।
আরও পড়ুন: চীনের কাছে তথ্য বিক্রির অভিযোগে দুই মার্কিন নাবিক গ্রেপ্তার
উত্তরপূর্ব ওহিও মেডিকেল ইউনিভার্সিটির জীবাশ্মবিদ হ্যান্স থিউইসেন এএফপিকে বলেন, এটি এমন একটি দৈত্যাকার প্রাণি ছিল, যা দেখতে পাওয়া খুবই উত্তেজনাপূর্ণ। আমাদের জানা কিছু থেকে আলাদা।

গবেষক এলি আমসন বলেন, পেরুসেটার কোলোসাস প্রজাতির তিমির মাথা তাদের শরীরের তুলনায় অনেক ছোট। তবে এটা নিশ্চিত করে বলার মতো কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে কোনো দাঁত না পাওয়া যাওয়ায় এ প্রজাতির তিমি কী খেত, সেট বলা সম্ভব হচ্ছে না।
গবেষকদের বিশ্বাস, তিমিটি তুলনামূলক অল্প পানিতে বসবাস করতো।
তারা বলছেন, তিমির জীবাশ্ম থেকে পাওয়া নতুন সব তথ্য স্তন্যপায়ী প্রাণিদের বিবর্তনের ইতিহাসের খুবই গুরুত্বপূর্ণ দলিল। জানা যাবে অনেক অজানা তথ্য।
একাত্তর/আরবিএস
