কথায় আছে, শখের তোলা আশি টাকা। নেই তার কোনো সীমা-পরিসীমা। ছোট থেকে বড় সব বয়সী মানুষের রয়েছে নিজস্ব শখ। সেই শখ পূরণ হতেই হবে এমন কোনো কথা নেই, তাই বলে শখ হতে নেই বারণ। যেমন মালয়েশিয়ার এক শতবর্ষী নারীর শখ হয়েছে বিয়ে করার। আর এনিয়ে তোলপাড় দেশটির মিডিয়া।
মালয়েশিয়ার নাগরিক সিতি হাওয়া’র বয়স এখন ১১২! নিজের ভাই-বোন বা বন্ধুবান্ধব বলতে আর কেউ বেঁচে নেই। তবে আছে ৩০ জনের বেশি পুতি। সিতির শখ হয়েছে অষ্টমবার বিয়ে পিঁড়িতে বসার। এর আগে সাত বার বিয়ে হয়েছিলো। জীবনের শেষ ক’টি দিনে তার আরও এক সঙ্গী চাই তার।
সিতি হাওয়ার পঞ্চাশোর্ধ্ব পাঁচ সন্তান, ১৯ জন নাতি-নাতনি এবং ৩০ জন গ্র্যান্ড চিল্ড্রেন বা পুতি রয়েছে। সাত বার বিয়ে হয়েছিলো বটে। তবে সবই এখন প্রাক্তন, হয় মারা গিয়েছেন, কিংবা মনের মিল হয়নি বলে ছড়াছাড়ি হয়ে গেছে। ১১২ বছর বয়সেও ভীষণ 'অ্যাক্টিভ' এই মালয় নারী আবার বিয়ে করতে আগ্রহী।

এখন শুধু একটি প্রস্তাবের অপেক্ষা। তাহলেই তিনি বিয়ের পিঁড়িতে উঠে বসবেন। ব্লাড প্রেসার ছাড়া শরীরে অন্য কোনো অসুখ বাসা বাঁধেনি। বয়সের ভারে কানে কিছুটা কম শোনেন, দৃষ্টিও ঝাপসা, তাতে কি, শতবর্ষী এই নারী জানাচ্ছেন, একাকিত্ব আর ভালো লাগে না। বান্ধবহীন জীবনে তাই পাত্রের খোঁজে এই ‘তরুণী’।
বয়স হয়েছে বটে, কিন্তু এখনও কারও সাহায্য ছাড়াই দিব্যি হাঁটাচলা করেন। বেশির ভাগ সময়ে মেঝের ওপর মাদুর বিছিয়ে ঘুমান। সুযোগ পেলেই ঈশ্বরের ধ্যান করেন। এত বয়স পর্যন্ত কীভাবে বেঁচে রয়েছেন, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন মাঝে মাঝেই। তবে বাঁচার সাধও বিস্তর তার। তবে আর ‘একা’ নয়, এ বার মরিয়া হয়েই ‘মনের মানুষ’ চাইছেন তিনি। বৃদ্ধার পাঁচ সন্তানের বয়স ৫৮ থেকে ৬৫-র মধ্যে।
মালয়েমিয়ার কেলাংতান প্রদেশে বাসিন্দা সিতি। সেখানের টুম্পাটের কাম্পুং কাজাং সেবিডাংয়ে তার বাড়িতে বসে তিনি বলেছিলেন, আমার আগে সাতবার বিয়ে হয়েছিলো। এদের মধ্যে কয়েকজন স্বামী মারা গেছেন। আর বাকিদের সঙ্গে বনিবনা হয়নি বলে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে। তাই বলে আমি দমে যাবার পাত্রী নই।
বার্ধক্য সত্ত্বেও সিতি হাওয়া এখনও উদ্যমী এবং দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে সক্ষম। ৫৮ বছরের ছোট ছেলে আলি সেমের সঙ্গে থাকেন। দীর্ঘ ও স্বাস্থ্যকর জীবনের টিপস সম্পর্কে জানতে চাইলে সিতি হাওয়া বলেন, তিনি তার স্বাস্থ্যের যত্ন নেন এবং ঝোল দিয়ে ভরা ভাত খান না।

তার ছেলে আলী বলেন, সিতি হাওয়া কখনই কোনো বেলার খাবার বাদ দেন না। উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ তিনি নিয়মতি সেবন করেন। তিনি এখনও বসে বসে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে পারেন। যদিও তার স্মৃতিশক্তি কিছুটা দুর্বল, তবুও তিনি তার সন্তান এবং নাতি-নাতনিদের সাথে গল্প করতে ভালোবাসেন।
এই বয়সে পাত্র মিলবে কী-না তা নিয়ে সংশয় থাকলেও সিতির ৪৭ বছরের পুত্রবধূ জাইনুরা আরফিন যথেষ্ট আশাবাদী। তার কথায়, আমার শাশুড়ি মা এই বয়সেও আমাদের চেয়ে অনেক বেশি হাসি-খুশি, পজিটিভ। মাঝে মাঝে স্মৃতিবিভ্রমহলেও বাচ্চাদের সামনে বসলে যুদ্ধের গল্প এখনও নাগাড়ে বলে যেতে পারেন।
বয়স হলেও কারও সাহায্য ছাড়াই হাঁটাচলা করেন। বেশিরভাগ সময়ে মেঝের উপর মাদুর বিছিয়ে ঘুমান। সেই সঙ্গে সুযোগ পেলেই প্রার্থনা করেন। এত বয়স পর্যন্ত কীভাবে বেঁচে রয়েছেন, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন মাঝে মাঝেই। তবে বাঁচার সাধও বিস্তর তার। তবে আর একা নয়, এবার মরিয়া চাইছেন মনের মানুষ।
দক্ষিণ কোরিয়ায় কুকুর খাওয়া নিষিদ্ধ করে বিল পাস