এক ইমামের আল্লাহু আকবার, তাকবির রুকু-সিজদায় যাচ্ছেন কয়েক লাখো ধর্মপ্রাণ মুসল্লি। এক সাথে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নামাজ আদায় করছেন তারা। এ দৃশ্য হজের নয়। পবিত্র রমজান মাসের দ্বিতীয় শুক্রবার রাতে ইসলামের অন্যতম পবিত্র স্থান- মক্কার মসজিদ আল হারামে লাখো লাখো ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের তারাবিহ নামাজ আদায়ের দৃশ্য এটি।
সারাবিশ্বে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে পালিত হচ্ছে পবিত্র মাহে রমজান। এ মাস এলেই ইসলামের প্রাণকেন্দ্র মক্কা ও মদিনায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের আনাগোনা বেড়ে যায়। প্রতি বছর রমজান মাসে লাখ লাখ মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মক্কায় ছুটে আসেন। মহিমান্বিত ও পবিত্র এ মাসটিতে কাবার কাছে কাটাতে চান তারা। এছাড়াও অনেকে যান ওমরাহ পালনের উদ্দেশে।
এবারও তার ব্যতিক্রম নয়, রমজানে মাসে সৌদি আরবে মক্কার মসজিদ আল হারামে মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের উপচে পড়া ভিড়। গত শুক্রবার রাতে তারাবির নামাজের সময় মানুষের ঢল নামে হেরেম শরীফে। কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, মক্কার ইতিহাসে সমস্ত রেকর্ড ছাপিয়ে গিয়েছে এবারের ভিড়। সেদিন মক্কার গ্র্যান্ড এই মসজিদে লাখ লাখ মুসল্লিকে একসাথে তারাবির নামাজ আদায় করতে দেখা যায়।
গত শনিবার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটিতে বার্ডস আই ভিউতে ধরা পড়েছে লাখ লাখ মুসল্লির তারাবি নমাজ আদায়ের অভূতপূর্ব এক দৃশ্য। সেখানে আরও দেখা যায়, মক্কার পবিত্র মসজিদ আল হারামে একসঙ্গে তারাবির নমাজ আদায় করছেন অসংখ্য মুসল্লি। মুসল্লিদের সংখ্যা এতটাই বেশি ছিল যে প্রথমবারের মতো কাবার মসজিদ আল হারাম পেরিয়ে, নামাজের কাতার পৌঁছে গিয়েছিল, প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটারেরও বেশি দূরের আল মা’লা এলাকায়।

যদিও মাত্রাতিরিক্ত এই ভিড়ে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। নিয়ম মেনেই সুশৃঙ্খলভাবে পবিত্র মক্কায় তারাবির নমাজ আদায় করার সুযোগ পেয়েছেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। সেই দৃশ্য এখন নেট দুনিয়ায় ভাইরাল।
আল মা’লায় সৌদি আরবের একটি অতি পরিচিত জেলা। যেখানে দূরদূরান্ত থেকে আল্লাহর উদ্দেশে প্রার্থনা করতে আসা মুসলিমরা আশ্রয় নেন। এ বারের রমজান মাসেও গিজগিজে ভিড় আল মা’লায়। সেখানকার হোটেল, ধর্মশালা, গেস্ট হাউসগুলিতে কার্যত পা রাখার জায়গা নেই।
মক্কার পবিত্র মসজিদের মুখপাত্র মেহের আল জাহরানি জানান, এবার মক্কায় ওমরাহ পালনের উদ্দেশে অসংখ্য মানুষ আসছেন। আমরা সকলকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত। সকলেই আল্লাহর ইবাদত করতে পারছেন। কারও কোনও সমস্যা হচ্ছে না।
এদিকে, সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় জানাচ্ছে, রমজানে একবারের বেশি ওমরাহ পালনের জন্য অনুমতি দেয়া হবে না। পবিত্র মাসে ওমরাহ পালনকারীদের মক্কা-মদিনায় দীর্ঘ সময় ধরে না থাকার অনুরোধও করেছে সৌদি সরকার। জানা যায়, অতিরিক্ত ভিড় সামলাতেই নেয়া হয়েছে এমন সিদ্ধান্ত।
ইসরাইলের ওপর চটেছে বন্ধু যুক্তরাষ্ট্র!