প্রায় সাত মাস ধরে ইসরাইলি হায়েনাদের হামলায় ধ্বংসস্তুপে পরিণত হওয়া গাজার মানুষজন রয়েছেন চরম মানবেতর অবস্থায়। বাস্তুচ্যুত মানুষজন নিজ এলাকায় ফিরে গিয়ে দেখছেন বাড়িঘরের ধ্বংসাবশেষ। স্কুল ভবনগুলোও গুড়িয়ে দেয়ায় কষ্ট আর অনিশ্চয়তা ভর করেছে শিশুদের মনেও।
ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় গাজা উপত্যকার বেশিরভাগ এলাকারই এখন ভগ্নদশা। পুরোপুরি ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে বেশিরভাগ এলাকা। মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা ফিরে এসে দেখেন তাদের চিরচেনা জায়গার কোন অস্তিত্বই নেই।
তাদের ভাষায়, আমার একটা বাড়ি ছিলো। আমার স্বপ্ন! টুকরো টুকরো পাথর হয়ে গেছে পুরোটা। আমি শুধু একবার আমার পুরোনো ঘরটায় ফিরতে চাই। এক মুহূর্তেই আমাদের সব পরিকল্পনা, আনন্দ, বেঁচে থাকা, সবকিছু কেড়ে নিয়েছে। এতো পরিশ্রমে তিলে তিলে গড়ে তোলা সবকিছু ধ্বংস হয়ে গেছে।
একই দৃশ্য দেখা যায় রাফাহ শহরেও। সবাইকে হারিয়ে অসহায়ত্বের চূড়ান্ত সীমায় দাঁড়িয়ে বহু নারীর একজন উম বাসিল আল ফারানি। তিনি বলেন, সাতটা মাস চলে গেলো।
প্রতিনিয়ত মানুষ মরছে। আমার পরিবারের কেউ বেঁচে নেই। আমাদের সবাই কাউকে না কাউকে হারিয়েছে। তারপরও ওদের দয়া হয় না। এরা এতো নির্মমভাবে শিশুশূণ্য করছে গাজা। আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মই মেরে শেষ করে দিয়েছে।
এদিকে, হামলা শুরুর পর থেকে গাজা উপত্যকার শিশুদের মানসিক অবস্থাও শোচনীয়। নেই স্কুল, কোন কাজ, নেই বাড়িঘর, বা পরিবার। যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি শিশুর মৃত্যুতে অনেক শিশুই হারিয়েছে প্রাণের বন্ধু। তারা বলছে, স্কুলে আমি সব সময় প্রথম হতাম। ৯৮ বা ৯৯ শতাংশ মার্কস আসতো। আমাদের স্কুলের কতো স্মৃতি। যুদ্ধ শেষ হলে আমরা পড়বো কোথায়? আমাদের কি আর পড়ালেখা হবে না?
এমন অনেক প্রশ্ন গাজার বেশিরভাগ শিশুর মনে। বলছেন, আমার অনেক বন্ধু শহীদ হয়েছে। আমরা একসাথে স্কুলে যেতাম, বাড়ি ফিরতাম, টিফিন খেতাম। ওরা কি অপরাধ করেছে? কেন ওদের মরতে হলো? এখন তো আর স্কুলেও যাওয়া হবে বলে মনে হচ্ছে না, নতুন বন্ধুও পাওয়া যাবে না।
বাস্তুচ্যুত গাজাবাসীর সবাই ছুটে ছুটে, কেঁদে কেঁদে ক্লান্ত। এখন প্রার্থনা একটু মুক্তির। বেঁচে থাকার আকুল আকুতিতে ইসরাইল সরকারকে হামলা থামানোর অনুরোধ জানাচ্ছেন ফিলিস্তিনিরা। কিন্তু তাদের কথা কী আদৌ পৌঁছাবে তেল আবিবের কর্তাদের কাছে, এই প্রশ্নের উত্তর জানা নেই কারো।
