ডেল্টাকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে, করোনা মহামারী ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এমন হুশিয়ারীর মধ্যেই ভাইরাসটির আতুরঘর হিসাবে পরিচিত চীনের আরো দুই অঞ্চলে সংক্রমণের খবর এসেছে। শুধু চীন নয়, মাশরুমের মতো ডেল্টা ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বের ১৩২ টি দেশ ও অঞ্চলে। ফলে কঠোর বিধিনিষেধে ফিরতে হয়েছে বহু দেশকে।
গেল এক মাসের মধ্যে চীনে করোনা সংক্রমণের উর্ধ্বগতির মধ্যে, শনিবার দেশটির আরো দুই অঞ্চলে ডেল্টার উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। চীনের মেগাসিটি হিসাবে খ্যাত চোংকুয়িং এবং ফুজিয়ান প্রদেশে ডেল্টার সংক্রমণ পাওয়া গেছে।
এই দুই অঞ্চলে নিয়ে বেইজিংসহ চীনের পাঁচ অঞ্চলে শনিবার পর্যন্ত করোনা শনাক্তের সংখ্যা দুইশ'র ওপরে দাঁড়িয়েছে। আর এতেই নড়েচড়ে বসেছে বেইজিং। এখনই কঠোরতম বিধিনিষেধ জারির মাধ্যমে ভাইরাসটিকে নিয়ন্ত্রণের নির্দেশ দিয়েছে বেইজিং।
মহামারীর শুরুতে গণপরীক্ষা ও কঠোল লকডাউনের মতো পদক্ষেপ নিতে উপদ্রুত অঞ্চলের প্রশাসকদের কাছে নির্দেশনা পাঠিয়েছে, চীনের স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়।
শুধু চীনেই নয়, বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ আবারো বাড়ছে শুরু করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, গত চার সপ্তাহে গোটা বিশ্বে করোনার যতো নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে, তার ৮০ শতাংশই ডেল্টার সংক্রমণ।
আরও পড়ুন: চীনে ডেল্টা ধরন নিয়ে বাড়ছে শঙ্কা, নতুন আক্রান্ত ৫৫
সংস্থাটির ইমার্জেন্সি বিভাগের পরিচালক মাইকেল রায়ান এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ডেল্টা শুধু ছড়াচ্ছেই না, সেই সঙ্গে আরো মারাত্মক ধরন তৈরি হবার সতর্কবার্তাও দিচ্ছে। নতুন আরো মারাত্মক ধরন তৈরি হবার আগেই কার্যকরি পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে মহামারী নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যেতে পারে।
তিনি জানান, ডেল্টাকে প্রতিহত করার জন্য পুরনো চার বিধিই যথেষ্ট। সামাজিক দুরত্ব, মাস্ক পরা, নিয়মিত হাত ধোয়া এবং টিকা নেয়া। এসব ঠিক মতো পালন করতে পারলে এবং করাতেই পারলে ভাইরাসের বিরুদ্ধে জয়ী হওয়া সম্ভব বলে মনে করে তিনি।
তবে, মাইকেল রায়ান মনে করেন, উন্নয়নশীল অনেকে দেশেই টিকাকরণের চিত্র খুব ভালো নয়। এর প্রধান কারণ, দেশগুলো টিকা পাচ্ছে না। তাই গরীব ও উন্নয়নশীল দেশের টিকা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে ধনী দেশগুলোর প্রতি আহবানও জানিয়েছেন তিনি।
