পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা শহরে টালমাটাল করে দেয়া আরজি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে ডাকা নবান্ন অভিযানকে অনুমতি দেয়টি রাজ্যটির পুলিশ।
মঙ্গলবার নবান্ন অভিযানের ডাক দিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ ছাত্র সমাজ এবং সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এই অভিযানের অনুমতি দেয়নি রাজ্য পুলিশ।
সোমবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে পশ্চিমবঙ্গে পুলিশের এডিজি (দক্ষিণবঙ্গ) সুপ্রতিম সরকার বলেন, ওই অভিযানের জন্য প্রথমে পুলিশের কাছ থেকে কোনো অনুমতি চাওয়া না হলেও, সোমবার দুপুরে দুইটি ইমেইল আসে। কিন্তু তাতে বেশ ঝামেলা থাকায় দুই সংগঠনকেই নবান্ন অভিযানের অনুমতি দেয়া হয়নি।
এর আগে, সকালে পশ্চিমবঙ্গে রাজ্য পুলিশের এডিজি (দক্ষিণবঙ্গ) সুপ্রতিম এবং এডিজি মনোজ বার্মা এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন, তাদের কাছে ওই মিছিলের জন্য কোনও অনুমতি নেয়া হয়নি। এমনকি, তাদের জানানোও হয়নি। এই কারণে মিছিল কর্মসূচিতে অবৈধ বলে ঘোষণা দেন তারা।
তারা জানিয়েছিলেন, নবান্নের কাছে ওই মিছিলের অনুমতি দেয়া সম্ভব নয়। কারণ, সেখানে নতুন ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা আইনে ১৬৩ ধারা (পুরোনো ফৌজদারি দণ্ডবিধির ১৪৪ ধারা) জারি থাকে। অর্থাৎ সেখানে পাঁচ জন বা তার বেশি জমায়েত বেআইনি।
তাদের ওই বক্তব্যের পরেই তাদের কাছে দুইটি ইমেইল এসে পৌঁছায় বলে জানিয়েছেন সুপ্রতিম। এরমধ্যে একটি ইমেল পাঠিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ ছাত্র সমাজ। কিন্তু তারা কোনও অনুমতি চায়নি। তারা শুধু পুলিশকে জানিয়েছে যে, মঙ্গলবার একটি অরাজনৈতিক কর্মসূচি নিতে চলেছে তারা।
সংগঠনটি জানায়, ধর্ষণকাণ্ডের প্রতিবাদে নবান্নে অভিযান যাবে শিক্ষার্থীরা। পুলিশ জানিয়েছে, ছাত্র সমাজের ওই ইমেইলে অনুমতি চাওয়া হয়নি। পাশাপাশি কলকাতা হাইকোর্টের নিয়ম মেনে কর্মসূচি সংক্রান্ত যেসব তথ্য দেয়ার প্রয়োজন হয়, সেসব তথ্যও জানানো হয়নি। আর সেজন্যই ওই অনুমতি বাতিল করা হয়েছে।
দ্বিতীয় ইমেলটি পাঠিয়েছিলো সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ থেকে। সেই ইমেলে নিয়ম মেনে অনুমতি চাওয়া হলেও তাদের অনুমতি দেয়া হয়নি। কারণ নবান্নের কাছে ওই ধরনের কর্মসূচির অনুমতি দেয়া সম্ভব নয়।
সুপ্রতিম জানিয়েছেন, দুই সংগঠনকেই জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার রাজ্যে নেট পরীক্ষা রয়েছে। একটি পূর্ণ কর্মদিবস। তাই পরীক্ষার্থী এবং সাধারণ জনগণের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই তাদের ওই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
কিন্তু অন্য যে কোনোদিন নবান্ন ছাড়া হাওড়ার যে কোনও জায়গায় যদি তারা কর্মসূচি পালন করতে চায়, তাহলে পুলিশ আন্দোলনকারীদের সাহায্যই করবে। একই সঙ্গে সুপ্রতিম জানিয়েছেন, নবান্নে মঙ্গলবার স্বাভাবিক কাজকর্ম হবে। আর পরিস্থিতি যাতে স্বাভাবিক থাকে সে ব্যাপারে সম্পূর্ণ ব্যবস্থা করবে পুলিশ।
সর্বাত্মক যুদ্ধের শঙ্কায় তেল আবিবে ২৪০ বোমা শেল্টার চালু