দখলদার ইসরাইলের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালিয়েছে লেবানন প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহ। এ অভিযানে অন্তত ১২ জন জায়নবাদী সেনা নিহত হয়েছে। গুরুতর আহত হয়েছে ডজনের বেশি।
তেহরানভিত্তিক প্রেসটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা ইসরাইলের সেনা সমাবেশ ও কয়েকটি অবৈধ ইহুদি বসতি লক্ষ্য করে হামলা চালায়।
হিজবুল্লাহর অভিযানের পর ইসরাইলের ঘাতক বাহিনী স্বীকার করেছে যে, দক্ষিণ লেবাননে স্থল অভিযান চালাতে গিয়ে তাদের এক ডজনের বেশি সেনা নিহত হয়েছে।
আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি সেনাসমাবেশ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও মর্টার দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। প্রতিরোধ যোদ্ধারা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে ইসরাইলের গভীর অভ্যন্তরে বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি ও অবৈধ ইহুদি বসতিতে হামলা চালিয়েছে। দখলদারদের ওপর তাদের এই হামলা প্রতিদিন বাড়ছে বলে হিজবুল্লাহ জানায়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা উচ্চ পর্যায়ের নেতৃত্ব এবং কমান্ড সেন্টারের সাথে পূর্ণাঙ্গ ও সময়মতো যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের সমস্ত অভিযান পরিচালনা করেছে।
এছাড়া ইসরাইলি সেনাদের দক্ষিণ লেবাননে অনুপ্রবেশের বেশ কয়েকটি প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়েছে হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা।
ইরান সমর্থিত সংগঠনটি বলছে, বেশ কয়েকদিন ধরে ইসরাইল দক্ষিণ লেবাননে স্থল অভিযান চালানোর দাবি করলেও বাস্তবতা হচ্ছে, তারা এবং তাদের ট্যাংক কিংবা অন্য সামরিক যান এখনও লেবাননের ভেতরে ঢুকতে পারেনি।
গেলো বছরের অক্টোবর মাসের ৭ তারিখে ইসরাইলে এই দশকের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান চালায় গাজার হামাস সরকার। এর পরপরই গাজায় বিমান হামলা ও স্থল হামলা শুরু করে ইসরাইল। এ আগ্রাসনে ৪২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এছাড়া আহত হয়েছেন এক লাখের বেশি মানুষ।
চলমান এ গণহত্যার প্রতিবাদে গেলো বছর ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে হিজবুল্লাহ। এর জেরেই লেবাননের বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে প্রায় দুই মাস ধরে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে আসছে ইসরাইল। এসব হামলায় নিহতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে।
পরমাণু বোমা বানিয়ে ফেলেছে ইরান?
হিজবুল্লাহর আল রিদওয়ান বাহিনী কতটা দুর্ধর্ষ?