ইউক্রেনের নিরাপত্তায় চার দফা কর্মসূচি ও জোট গঠন

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০২৫, ০৩:১১ পিএম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বাগবিতণ্ডার পর আমেরিকা ও ইউরোপের সঙ্গে টানাপোড়ন চলছেই। ট্রাম্প ও তার ভাইস প্রেসিডেন্টের তীব্র রোষের মুখে পরা জেলেনস্কির পাশে দাঁড়িয়েছে ইউরোপ। আর এতে নেতৃত্ব দিচ্ছে যুক্তরাজ্য।

এরিমধ্যে ইউক্রেনে যুদ্ধের অবসান ও দেশটির নিরাপত্তা নিশ্চিতে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার চার দফা কর্মসূচি ও নতুন জোটের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং আরও কিছু দেশ একসাথে জোট গঠন করছে এবং ইউক্রেনকে সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্রকে যুক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

রোববার (৩ মার্চ) লন্ডনে ১৮টি পশ্চিমা দেশের নেতাদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এক শীর্ষ সম্মেলনের অংশ নেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। এসময় চার দফা পরিকল্পনার বিষয়ে একমত হন ইউরোপীয় নেতারা।

এই পরিকল্পনার মূল বিষয়বস্তুগুলো হলো ইউক্রেনে সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখা এবং রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধি করা, ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে কোনো শান্তিচুক্তি না করা এবং আলোচনায় ইউক্রেনের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।

এর বাইরে, সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির পর ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ান, যাতে ভবিষ্যতে নতুন করে কোনো আগ্রাসন প্রতিরোধ করা যায় এবং সবশেষ ইউক্রেনে শান্তি চুক্তি কার্যকর রাখতে ও তা নিশ্চিত করতে জোট গঠন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে কোন কোন দেশ প্রস্তাবিত জোটে যোগ দিতে রাজি হয়েছেন তা এখনো জানা যায়নি। সম্মেলনে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে কোন দুর্বল চুক্তি মেনে নেয়া হবে না।

তিনি বলেন, আমরা অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিতে চাই। এমন কোনো দুর্বল চুক্তি আমরা মেনে নিতে পারি না, যা রাশিয়া সহজেই লঙ্ঘন করতে পারে। শান্তি চুক্তি অবশ্যই শক্ত ভিত্তির ওপর থাকতে হবে।

বৈঠকের পর সাংবাদিক সম্মেলনে স্টারমার জানান, শীর্ষ বৈঠকে চার দফা কর্মসূচি নিয়ে মতৈক্য হয়েছে। এই চার দফা কর্মসূচি হলো, ইউক্রেনকে সামরিক সাহায্য দেয়া হবে এবং রাশিয়ার উপর আর্থিক চাপ বহাল রাখা হবে। ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা বজায় রেখে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি আনতে হবে এবং শান্তি আলোচনায় ইউক্রেনের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। শান্তিচুক্তিতে ইউক্রেনের আত্মরক্ষার ক্ষমতা বৃদ্ধির কথা থাকবে। ভবিষ্যৎ আগ্রাসন বন্ধ করতে এটা জরুরি।

এই চুক্তি যাতে ঠিকভাবে কার্যকর হয় সেটা নিশ্চিত করতে ‘কোয়ালিশন অফ দ্য উইলিং’ গঠন করা হবে এবং তারা পরবর্তীকালে শান্তি বজায় রাখার নিশ্চয়তা দেবে।

স্টারমার বলেছেন, যুক্তরাজ্য ইউক্রেনকে দুইশ’ কোটি ডলার দেবে, যাতে তারা পাঁচ হাজার এয়ার ডিফেন্স মিসাইল কিনতে পারে। এছাড়াও রাশিয়ার ফ্রিজ করা সম্পদের লভ্যাংশ থেকে ২২০ কোটি ইউরো ইউক্রেনকে ঋণ হিসেবে দেয়া হবে। আমাদের অতীতের ভুল থেকে শিখতে হবে। আমরা কোনো দুর্বল চুক্তি চাই না, যা রাশিয়া আবার ভঙ্গ করতে পারে। বরং শক্তিশালী অবস্থানে থেকে চুক্তি করতে চাই।

স্টারমার বলেন, চুক্তির শর্ত রাশিয়া ঠিক করবে তা হবে না। আমরা চাই, অ্যামেরিকাও এই চুক্তি সমর্থন করুক। ট্রাম্পের সঙ্গে আমি এই বিষয়ে একমত যে, স্থায়ী শান্তি প্রয়োজন। ট্রাম্প কি বন্ধু হিসেবে নির্ভরযোগ্য? এই প্রশ্নের জবাবে স্টারমার বলেন, শুক্রবার যা হয়েছে, সে রকম ঘটনা কেউই চায় না। তবে অ্যামেরিকা নির্ভরযোগ্য নয়, এমন কথা আমি মানতে চাই না।

আর রাশিয়াকে মোকাবেলায় ইউক্রেনের দক্ষ সেনাবাহিনী প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎজ। তিনি বলেন, একটি বিষয় পরিষ্কার যে সবাই ইউক্রেনের সমর্থনে রয়েছে। দেশটির ওপর হামলা করা হয়েছে, রাশিয়া সেখানে আগ্রাসন চালাচ্ছে। এক্ষেত্রে রাশিয়ার দেয়া শর্তে কোনো চুক্তি সম্ভব নয়।

ইউরোপের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক। একই সুরে বক্তব্য দিয়েছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডান লিয়েনও। সম্মেলনে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি সতর্ক করে বলেন, এমন কোন চুক্তিতে সম্মত হওয়া যাবে না তা ভঙ্গ করার সুযোগ থাকে।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ বলেছেন, ইউরোপের দেশগুলিকে প্রতিরক্ষাখাতে জিডিপি-র তিন থেকে সাড়ে তিন শতাংশ অর্থ খরচ করতে হবে। গত তিন বছর ধরে রাশিয়া ১০ শতাংশ অর্থ প্রতিরক্ষায় খরচ করছে। তাই ইউরোপকেও প্রস্তুত থাকতে হবে।

বৈঠকের পর কিয়েভের নেতা জেলেনস্কি রাজা চার্লসের সঙ্গে দেখা করতে যান। তারপর তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, লন্ডনের শীর্ষ বৈঠক থেকে তার মনে হয়েছে, ইউরোপ এক হয়ে ইউক্রেনের পাশে আছে। তিনি বলেছেন, আমরা একযোগে কাজ করব এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতার ভিত্তিতে শান্তি ফেরাতে চাইবো।

এআরএস
রাশিয়ার সঙ্গে চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ শেষ করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘দৃঢ়সংকল্প’ চেয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস তথা চার জুলাইয়ের ছুটির...
কাতারের রাজপরিবারের কাছ থেকে ‘উপহার’ হিসেবে পাওয়া এবং পরে মার্কিন জনগণের টাকায় খোলনলচে বদলে ফেলা ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ উড়োজাহাজে অবশেষে প্রথমবার রাজকীয় উড়াল দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড...
যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ক্ষমতার মূল কেন্দ্রগুলোতে প্রেসিডেন্টের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করার জন্য কয়েক দশক ধরে চলা রক্ষণশীল আইনি প্রচেষ্টার বড়ো জয় হয়েছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে...
এক সময়ের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্র মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে এবার চরম ধস নেমেছে। একটি ইতালীয় টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া...
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফেরত চেয়ে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
স্পেনের কাছে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল হেরে ট্রফি হাতছাড়া করার পর এবার বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল দল! নিউ জার্সির স্টেডিয়ামে স্প্যানিশ ব্রিগেড যখন...
ফ্যাসিবাদ বিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে শরিক নেতাদের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে ঘটে গেল বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের অন্যতম এক নাটকীয় ও বিতর্কিত ঘটনা! স্পেনের কাছে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে হেরে যখন মেডেল নেওয়ার জন্য একে একে মঞ্চে উঠছিলেন...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর