গাজায় দীর্ঘ দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অবসানের সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইসরাইল ও হামাস যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপে একমতে পৌঁছেছে।
বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে আল জাজিরা জানিয়েছে, ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন— ইসরাইল ও হামাস গাজা যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপের চুক্তিতে সম্মত হয়েছে।
বিশ্ব নেতারা ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে এই যুদ্ধবিরতি এবং জিম্মি-মুক্তি চুক্তির ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ
ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধ বন্ধে চলমান এ সংলাপকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ।
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বাংলাদেশ বিশ্বাস করে, কূটনীতি ও সংলাপই যে কোনো সংঘাত সমাধানের একমাত্র উপায়। এই মর্মান্তিক সংকটের অবসানে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক উদ্যোগকে সহজতর করার জন্য সব স্টেকহোল্ডারের প্রচেষ্টার প্রশংসা করে বাংলাদেশ।
এতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ আশা করে, এই প্রক্রিয়া অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি, মানবিক সহায়তা পুনরুদ্ধার এবং গাজার জনগণের প্রচণ্ড দুর্ভোগের অবসান ঘটবে। গাজায় চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়া একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র বাস্তবায়নের পথ প্রশস্ত করবে।
বাংলাদেশ গাজায় শান্তি ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় অবদান রাখতে প্রস্তুত এবং পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী করে ১৯৬৭ সালের পূর্ববর্তী সীমান্তের ওপর ভিত্তি করে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের জন্য তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে বাংলাদেশ।
ফিলিস্তিনি
ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেছেন, তিনি আশা করেন, এই চুক্তি ‘স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছানোর একটি সহায়ক ভূমিকা’ হবে, যা একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দিকে পরিচালিত করবে।
জাতিসংঘ
জাতিসংঘ মহাসচিব অ্য্যান্তোনিও গুতেরেস সকল জিম্মিকে ‘মর্যাদার সাথে’ মুক্তি দেওয়ার এবং স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, ‘যুদ্ধ চিরতরে বন্ধ করতে হবে।’ তিনি গাজায় অবিলম্বে নিরবচ্ছিন্নভাবে মানবিক সাহায্য প্রবেশের আহ্বান জানিয়েছেন।
তুরস্ক
প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশংসা করেছেন এবং ‘যুদ্ধবিরতির জন্য ইসরাইলি সরকারকে উৎসাহিত করার জন্য প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তি’ প্রদর্শনের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন
ইইউ’র পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা ক্যালাস এই চুক্তিকে ‘একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, এই চুক্তির ফলে সংঘাতের অবসান এবং জিম্মিদের মুক্তির ‘একটি বাস্তব সুযোগ’।
ইউরোপীয় নেতাদের মধ্যে, ট্রাম্পের মিত্র ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এটিকে ‘অসাধারণ খবর’ বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, তিনি আশা করছেন এটি ‘রাজনৈতিক সমাধানের’ পথ প্রশস্ত করবে।
জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ বলেছেন, উন্নয়নগুলো ‘উৎসাহজনক’ এবং তিনি এই সপ্তাহে একটি সমাধানের বিষয়ে ‘আত্মবিশ্বাসী’।
গাজায় ইসরাইলি আক্রমণের ইউরোপের অন্যতম সোচ্চার সমালোচক স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেছেন, বেসামরিক জনগণকে এখন সমর্থন করা উচিত এবং ‘যে নৃশংসতা আরো কখনো পুনরাবৃত্তি হবে না’।
যুক্তরাজ্য
প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার মধ্যস্থতাকারী মিশর, কাতার, তুরস্ক এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘অক্লান্ত কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন। সেইসাথে আঞ্চলিক অংশীদারদের ‘অক্লান্ত কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন। এই চুক্তিকে তিনি ‘গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেছেন।
তিনি আরও বলেছেন, ‘এই চুক্তিটি এখন সম্পূর্ণরূপে, বিলম্ব ছাড়াই বাস্তবায়ন করতে হবে এবং গাজায় জীবন রক্ষাকারী মানবিক সহায়তার ওপর থেকে অবিলম্বে সমস্ত বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করতে হবে’।
চীন
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেছেন, বেইজিং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব গাজায় ‘স্থায়ী এবং ব্যাপক’ যুদ্ধবিরতি আশা করে। তিনি আরো বলেছেন, ‘চীন ‘ফিলিস্তিনিদের ফিলিস্তিন শাসন করা উচিত’ এই নীতি মেনে চলার পক্ষে।’
হামাস-ইসরাইলের চলমান সংলাপকে স্বাগত জানালো বাংলাদেশ
তৃতীয় দিনে গড়ালো হামাস ইসরাইল শান্তি আলোচনা
যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপে একমত ইসরাইল-হামাস: ঘোষণা ট্রাম্পের