পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বেনিনে একদল সেনা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ক্ষমতা দখলের ঘোষণা দেয়ার পরপরই, দেশটির সরকার রোববার দাবি করেছে, তাদের সশস্ত্র বাহিনী সফলভাবে অভ্যুত্থানের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।
আফ্রিকায় গণতান্ত্রিক শাসনের ওপর সামরিক হস্তক্ষেপের এটি সর্বশেষ হুমকি। গত কয়েক বছরে বেনিনের প্রতিবেশী নাইজার, বুরকিনা ফাসো, মালি, গিনি ও গিনি-বিসাউতেও সামরিক অভ্যুত্থান দেখা গেছে।
রোববার সকালে অন্তত আটজন সশস্ত্র সেনা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে উপস্থিত হয়ে ঘোষণা করে, কর্নেল টিগরি প্যাসকেলের নেতৃত্বে একটি সামরিক কমিটি ক্ষমতা দখল করেছে। তারা জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বিলুপ্ত করা, সংবিধান স্থগিত করা এবং আকাশ, স্থল ও সামুদ্রিক সীমান্ত বন্ধ করার ঘোষণা দেন।
'সামরিক পুনর্গঠন কমিটি' নামে পরিচিত সেনা ঘোষণা করে, তারা বৈঠকে বসেছে এবং সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে প্যাট্রিস টালনকে প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্টের পদ থেকে অপসারিত হয়েছেন।
সেনাদের পাঠ করা এক বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সেনাবাহিনী বেনিনের জনগণকে সত্যিকারের নতুন যুগের আশা দেয়ার জন্য আন্তরিকভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেখানে ভ্রাতৃত্ব, ন্যায়বিচার এবং কাজ প্রাধান্য পাবে।
কয়েক ঘণ্টা পরই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলাসানে সাইদু জানান, পশ্চিম আফ্রিকার সশস্ত্র বাহিনী এই অভ্যুত্থানের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে। তিনি জনগণকে স্বাভাবিকভাবে তাদের দৈনন্দিন কাজ চালিয়ে যাবার আহ্বান জানান।

এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওলুশেগুন অ্যাডজাদি বাকারী রয়টার্সকে জানান, একটি ছোট দল সরকার উৎখাতের চেষ্টা করেছিল, কিন্তু প্রেসিডেন্ট প্যাট্রিস টালনের প্রতি অনুগত বাহিনী পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, অভ্যুত্থানের চক্রান্তকারীরা কেবল রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হয়, যা তাদের বিবৃতি পাঠের পরই সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই সম্প্রচার আবার শুরু হয়, যার ফলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভ্যুত্থান ব্যর্থ হওয়ার বিবৃতি পড়তে সক্ষম হন।
পশ্চিম আফ্রিকার আঞ্চলিক জোট ইকোওয়াস এবং আফ্রিকান ইউনিয়ন এই অভ্যুত্থানের চেষ্টার নিন্দা জানিয়েছে।
রোববার ভোরের দিকে বেনিনের বৃহত্তম শহর এবং অর্থনৈতিক কেন্দ্র কটোনৌর বেশ কয়েকটি এলাকায় গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়, ওই সময়ে শহরগুলোর বাসিন্দারা চার্চে যাচ্ছিলেন। ফরাসি দূতাবাস টালনের বাসভবনের কাছে গোলাগুলির খবর নিশ্চিত করেছে এবং নাগরিকদের ঘরে থাকার অনুরোধ জানায়।
বিকেলের দিকে শহরের প্রধান মোড়গুলোতে পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং গোলাগুলি কমে আসে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। কটোনৌর এক আসবাবপত্র বিক্রেতা জানান, তিনি সকাল ৮টার দিকে প্রথম গুলির শব্দ শোনেন এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের দ্রুতবেগে যেতে দেখেন। তিনি বলেন, আমি ভয় পেয়ে দোকান বন্ধ করে ভেতরে ছিলাম। এখন পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত, তাই আমি আবার খুলেছি।

বেনিনে এপ্রিল মাসে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হবার কথা রয়েছে, যা ২০১৬ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট টালনের মেয়াদ শেষ হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। যদিও টালন অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য প্রশংসিত, তবুও তার দেশে জঙ্গি হামলার সংখ্যা বেড়েছে, যা মালি এবং বুরকিনা ফাসোতেও বিপর্যয় ঘটিয়েছে। গত এপ্রিলে আল কায়েদার সহযোগী সংগঠনের হামলায় ৫৪ জন সৈন্য নিহত হয়েছিল।
বিদ্রোহী সেনা সদস্যরা তাদের টিভি বিবৃতিতে উত্তর বেনিনে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি এবং নিহত ভাইদের প্রতি অবহেলার কথা উল্লেখ করেছিল।
গত মাসে বেনিন একটি নতুন সংবিধান গ্রহণ করে, যা প্রেসিডেন্টের মেয়াদ পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে সাত বছর করেছে। সমালোচকরা এটিকে ক্ষমতাসীন জোটের ক্ষমতা দখলের চেষ্টা বলে অভিহিত করেন, যারা অর্থমন্ত্রী রোমাল্ড ওয়াদাগনিকে তাদের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছেন।
বেনিনের স্বাধীনতা লাভের পর প্রথম কয়েক দশকে একাধিক সামরিক অভ্যুত্থান দেখা গিয়েছিল, তবে ১৯৯১ সালে বহু-দলীয় নির্বাচন শুরু হওয়ার পর থেকে জোরপূর্বক ক্ষমতা দখলের ঘটনা আর ঘটেনি।
