অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ বন্দুক হামলার পর দ্রুততম সময়ে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজটিতে দেখা যায় এক ব্যক্তি পেছন থেকে ছুটে গিয়ে সিডনির বন্ডি বিচের বেক বন্দুকধারীকে জাপটে ধরেন এবং গুলির শব্দ চলার সময় তার কাছ থেকে বন্দুকটি ছিনিয়ে নিচ্ছেন।
নাটকীয় সেই মুহূর্তের ভিডিও ভাইরাল হতেই তিনি ‘নায়ক’ হিসেবে পরিচিতি পান। তার নাম আহমেদ আল আহমেদ। দ্রুততম সময় ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার কারণে তার পরিচয় নিয়েও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ে।
প্রাথমিকভাবে বলা হয়েছিল, রোববার রাতে বন্ডি বিচে ইহুদিদের সমাবেশে হামলায় এক আক্রমণকারীকে যিনি সাহসের সঙ্গে মোকাবিলা করে নিরস্ত্র করেন, সেই ৪২ বছর বয়সী আহমেদ আল আহমেদ সিডনির সাদারল্যান্ড শায়ারের ফল বিক্রেতা। কিন্তু এটি ভুল তথ্য। তিনি আসলে একটি তামাক এবং বিশেষায়িত সুবিধার দোকানের মালিক, যা তিনি ২০২১ সাল থেকে পরিচালনা করছেন।

অস্ট্রেলিয়াবাসীরা যখন শোকের পরে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পথ খুঁজছিলেন, তখন এই ভুল পরিচয় দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল। শুভাকাঙ্ক্ষীরা ভুলবশত সিডনির দক্ষিণে একটি ফলের দোকানে সমর্থনের বার্তা পাঠাতে শুরু করেন, এই ভেবে যে এটি আল আহমেদের মালিকানাধীন।
সাদারল্যান্ড বেস্ট ফ্রেশ নামের ওই ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত ফেসবুকে একটি পোস্টের মাধ্যমে ভুলটি শুধরে নেয়, বন্ডিতে এই মর্মান্তিক ঘটনা দেখে খুবই দুঃখিত... এই মহান অস্ট্রেলিয়ান নায়কের ফলের দোকানের অবস্থান সম্পর্কে ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে। আমরা আহমেদকে চিনি না বা তার ফলের দোকানের অবস্থানও জানি না। আমরা এই নায়ককে অভিনন্দন জানাই এবং তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।
এই বীরত্বপূর্ণ সংঘাতের সময় আল আহমেদ দুবার গুলিবিদ্ধ হন এবং বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তার সেই সাহসী পদক্ষেপ বহু মানুষের জীবন বাঁচিয়েছে বলে ব্যাপকভাবে মনে করা হচ্ছে। এই হামলায় কমপক্ষে ১৫ জন নিহত এবং আরও কয়েক ডজন আহত হয়েছেন।

রোববার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬:৪৫ মিনিটের কিছু পরে এই আক্রমণ শুরু হয়। গ্রীষ্মের দিনের শেষে বন্ডি বিচে তখন হাজার হাজার মানুষের ভিড়। তাদের মধ্যে শত শত মানুষ হানুক্কাহ উৎসবের সূচনা উপলক্ষে একটি ছোট পার্কে অনুষ্ঠিত 'চানুকাহ বাই দ্য সি' নামক জনসমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা পুলিশকে জানান, দু’জন বন্দুকধারী সৈকতের দিকে যাওয়ার একটি উঁচু ফুটব্রিজ থেকে গুলি চালাতে শুরু করে। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, গুলির শব্দে সাঁতারের পোশাকে থাকা মানুষজন বালি পেরিয়ে ছুটছেন। পুলিশের হস্তক্ষেপে আক্রমণটি প্রায় ১০ মিনিট স্থায়ী হয়েছিলো।
এই বিশৃঙ্খলার মধ্যেই আল আহমেদ, যিনি এক বন্ধুর সঙ্গে কফি খেতে বন্ডি বিচে গিয়েছিলেন, তিনি আক্রমণকারীদের একজনের খুব কাছাকাছি চলে আসেন।

এবিসি অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে কথা বলার সময়, আল আহমেদের বাবা মোহাম্মদ ফতেহ আল আহমেদ জানান যে, তার ছেলে এবং তার বন্ধু সশস্ত্র ব্যক্তিদের ভিড়ের মধ্যে গুলি চালাতে দেখে হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন তাদের জীবন বিপন্ন ছিল।
পরিবারের মতে আল আহমেদ দেখতে পান, কিছু লোক মাটিতে পড়ে আছে এবং তাদের শরীর থেকে প্রচুর রক্তপাত হচ্ছে। তার বাবা বলেন, সেই মুহূর্তে তার বিবেক এবং আত্মা তাকে তাড়া করে। মোহাম্মদ ফতেহ আল আহমেদ বলেন, যখন সে দেখল মানুষজন মাটিতে পড়ে আছে এবং চারিদিকে রক্ত, তখনই তার বিবেক ও আত্মা তাকে বাধ্য করল সন্ত্রাসীদের একজনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তার অস্ত্র ছিনিয়ে নিতে।
