২৭ বছর আগে হায়দারাবাদ ছাড়েন সিডনির বন্দুকধারী সাজিদ

আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৮:৩৯ পিএম

সিডনির বন্ডি বিচে রোববার ইহুদি হানুক্কা উৎসবে বন্দুক হামলায় ১৫ জনের মৃত্যুর ঘটনার পেছনে থাকা দুই ব্যক্তির মধ্যে একজন ছিলেন ভারতের হায়দারাবাদের বাসিন্দা। প্রায় তিন দশক আগে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি দিলেও ৫০ বছর বয়সী এই সন্দেহভাজন সাজিদ আকরাম সব সময় ভারতের পাসপোর্ট বহন করতেন।

সাজিদ আকরামকে হামলার সময় পুলিশ গুলি করে হত্যা করে। তাঁর পুত্র, ২৪ বছর বয়সী নাভিদ আকরামও হামলায় অংশ নিয়েছেন এবং সিডনি কর্তৃপক্ষের দাবি তিনি এখনও বেঁচে আছেন এবং পুলিশ হেফাজতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অস্ট্রেলিয়ান তদন্তকারীরা এই হামলাকে তথাকথিত ইসলামিক স্টেট (আইএস) দ্বারা অনুপ্রাণিত একটি সন্ত্রাসী কাজ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

সাজিদ আকরামের পরিচয়

তেলেঙ্গানার ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ জানিয়েছেন, ৫০ বছর বয়সী সাজিদ আকরাম হায়দারাবাদের আদি বাসিন্দা এবং ১৯৯৮ সালের নভেম্বরে প্রথমে ছাত্র ভিসায় অস্ট্রেলিয়ায় চলে যান। পুলিশ জানায়, তিনি হায়দারাবাদে ব্যাচেলর অফ কমার্স ডিগ্রি শেষ করার পরই চাকরির সন্ধানে ভারত ত্যাগ করেন।

আকরাম প্রায় ২৭ বছর ধরে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করছিলেন এবং এই সময়ে হায়দারাবাদে তাঁর পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ সীমিত ছিল। তেলেঙ্গানার ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা বলেছেন, আকরামের কথিত উগ্রপন্থার সঙ্গে ভারতের কোনো অপারেশনাল বা আদর্শগত সংযোগের কোনো ইঙ্গিত নেই।

আকরাম শেষবার ২০২২ সালে হায়দারাবাদে গিয়েছিলেন। তিনি ভারতীয় পাসপোর্টধারী ছিলেন, যদিও তাঁর সন্তানরা- এক ছেলে ও এক মেয়ে অস্ট্রেলিয়ায় জন্মগ্রহণ করেছে এবং তারা অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক।

তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, পারিবারিক বিবাদের কারণে বহু বছর আগে হায়দারাবাদের বর্ধিত পরিবারের সঙ্গে আকরামের সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায়। হামলার অনেক আগেই আত্মীয়-স্বজনরা তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করে। পুলিশ জানায়, ২০১৭ সালে তাঁর বাবার মৃত্যুর পর আকরাম তাঁর জানাজার নামাজেও যোগ দেননি।

অস্ট্রেলিয়ায় চলে যাওয়ার পর আকরাম ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত নারী ভেনেরা গ্রোসোকে বিয়ে করেন। এই দম্পতির দুটি সন্তান রয়েছে- নাভিদ এবং এক মেয়ে। পরিবারটি অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে।

সিডিনির বন্ডি সৈকতের হামলা

রোববার সিডনির বন্ডি বিচে হানুক্কা উদযাপনের সময় এই ব্যাপক বন্দুক হামলা ঘটে। অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম পরিচিত এই জনবহুল স্থানে পরিবারের সদস্য এবং সম্প্রদায়ের মানুষজন জড়ো হওয়ার সময় বন্দুকের গুলিতে ১৫ জন নিহত হন।

মঙ্গলবার অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল পুলিশ কমিশনার ক্রিসি ব্যারেট বলেন, এই হামলাটি ইসলামিক স্টেট দ্বারা অনুপ্রাণিত এক সন্ত্রাসী হামলা। ব্যারেট আরও বলেন, এই সন্দেহভাজন খুনিরা, যারা নাকি তাদের আক্রমণ সমন্বয় করার ক্ষেত্রে কঠোর ছিল, তাদের শিকারদের বয়স বা সক্ষমতার প্রতি কোনো খেয়াল ছিল না। মনে হচ্ছে অভিযুক্ত খুনিরা কেবল মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টায় আগ্রহী ছিল।

হামলাকারীদের ব্যবহার করা একটি গাড়ি, যা নাভিদের নামে নথিভুক্ত ছিল, সেটি পুলিশ জব্দ করেছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, গাড়ির ভেতরে তারা ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস এবং তথাকথিত ইসলামিক স্টেট গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্কিত দুটি হাতে তৈরি পতাকা খুঁজে পেয়েছেন।

অস্ট্রেলিয়ান পুলিশ হামলার এক মাস আগে দুই সন্দেহভাজন ব্যক্তির ফিলিপাইন ভ্রমণের বিষয়েও তদন্ত করছে।

বিবিসিকে ফিলিপাইনের ব্যুরো অফ ইমিগ্রেশন নিশ্চিত করেছে, সাজিদ আকরাম এবং তাঁর ছেলে ১ নভেম্বর ফিলিপাইনে প্রবেশ করেন এবং ২৮ নভেম্বর প্রস্থান করেন। বিবিসি জানিয়েছে, ইমিগ্রেশন মুখপাত্র ডানা স্যান্ডোভালের মতে, সাজিদ আকরাম ভারতীয় পাসপোর্ট ব্যবহার করে ভ্রমণ করেছিলেন, আর নাভিদ আকরাম অস্ট্রেলিয়ান পাসপোর্ট ব্যবহার করেছিলেন।

তাঁরা দক্ষিণ ফিলিপাইনের দাভাও শহরকে তাদের চূড়ান্ত গন্তব্য হিসেবে ঘোষণা করেন এবং সিডনিতে ফিরে যাওয়ার টিকিট বুক করেছিলেন। দাভাও হল মিন্দানাও দ্বীপের একটি বড় শহর, যেখানে অতীতে ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলো দরিদ্র এলাকাগুলোতে কাজ করত। আবু সায়াফের মতো গোষ্ঠীগুলো অতীতে তথাকথিত ইসলামিক স্টেটের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছিল এবং স্বল্প সংখ্যক বিদেশি জঙ্গিকে আশ্রয় দিত।

তবে, ফিলিপাইনের সামরিক বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি যে, দুই ব্যক্তি সেখানে থাকার সময় সামরিক-শৈলীর প্রশিক্ষণ পেয়েছিলেন কিনা। ফিলিপাইনের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা আরও বলেছেন, কয়েক দশকের সামরিক অভিযানের ফলে এই অঞ্চলের জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং সম্প্রতি সেখানে বিদেশি জঙ্গিদের কার্যকলাপের কোনো ইঙ্গিত নেই।

একাত্তর/এসি
অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বিখ্যাত বন্ডি বিচে গত ১৪ ডিসেম্বর হানুকা উৎসব চলাকালীন ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ১৫ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে পুলিশ। আদালতে জমা দেওয়া নথি অনুসারে, দুই বন্দুকধারী...
গত সপ্তাহে সিডনির বিখ্যাত ও জনপ্রিয় বন্ডি বিচে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বন্দুক হামলার ক্ষত কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই কঠোর আইনি পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার।
অষ্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডি বিচে ভয়াবহ বন্দুক হামলার সময় নিজের জীবন বাজি রেখে ঘাতককে নিরস্ত্র করা সেই ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ্যে এসেছে। ৪৪ বছর বয়সী আহমেদ আল আহমেদ নামক ওই ব্যক্তি সিরিয়ার প্রাক্তন পুলিশ...
অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ বন্দুক হামলার পর দ্রুততম সময়ে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজটিতে দেখা যায় এক ব্যক্তি পেছন থেকে ছুটে গিয়ে সিডনির বন্ডি বিচের বেক বন্দুকধারীকে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সরকার তাদের ভাতা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেবে। রাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে আগামীতে এ ভাতা বাড়ানো হবে, যাতে...
ম্যাচের শুরুটা হয়েছিল দারুণ এক ঝড় দিয়ে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই ঝড় এসে থামলো এক অচেনা ও করুণ ধ্বংসস্তূপে! ত্রিদেশীয় সিরিজে দুর্দান্ত বোলিং প্রদর্শনী দেখিয়ে বাংলাদেশকে এক কথায় উড়িয়ে দিয়েছে...
শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হলো গভীর শোকে। ভারতের কলকাতার একটি জনপ্রিয় পূজামণ্ডপে অতিরিক্ত ভিড় ও বৃষ্টির জেরে সৃষ্ট পদদলনে ঘটনায় অন্তত ১৭ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত...
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী পাটোয়ারটেক সৈকতসংলগ্ন এলাকায় কাঠের তৈরি তিনতলা টুপটুপ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্তোরাঁয় সংঘটিত ভয়াবহ আগুনে ১০ জন পর্যটকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্যকর সব তথ্য সামনে এসেছে।...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর