ইরানের ওপর সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক হামলা ঠেকাতে সৌদি আরবের নেতৃত্বে কাতার ও ওমান একযোগে একটি কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শুরু করেছে এবং প্রাথমিকভাবে সফল হয়েছে। মঙ্গলবার, যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদপত্র 'দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল' এক প্রতিবেদনে এমন দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরব আশঙ্কা করছে যে কোনো ধরনের সংঘাত কেবল তাদের অর্থনীতিরই ক্ষতি করবে না, বরং দেশের অভ্যন্তরেও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করবে, বিশেষ করে যদি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনী এই হামলায় নিহত হন।
আরব রাষ্ট্রগুলো আরও উদ্বিগ্ন, ইরানের ওপর হামলা হলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী ট্যাঙ্কার চলাচল বিঘ্নিত হতে পারে। পারস্য উপসাগরের প্রবেশপথে অবস্থিত এই সরু জলপথটি ইরান ও তার আরব প্রতিবেশীদের আলাদা করেছে। বিশ্বের তেল চালানের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তার উপসাগরীয় মিত্রদের সম্ভাব্য যুদ্ধের প্রস্তুতির কথা জানানোর পরেই দেশগুলো এই উদ্যোগ নেয়। ওয়াশিংটনের এই সতর্কবার্তা উপসাগরীয় দেশগুলোর রাজধানীতে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
তারা মনে করছে, এর ফলে আঞ্চলিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়বে এবং যে কোনো তেজস্ক্রিয় বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তাদের নিজ নিজ ভূখণ্ডে আঘাত হানতে পারে।
একই সূত্র জানায়, সৌদি আরব, কাতার ও ওমান হোয়াইট হাউসকে সোজা জানিয়ে দিয়েছে যে, ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা উপড়ে ফেলার যে কোনো চেষ্টা তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি করবে, যা শেষ পর্যন্ত স্বয়ং মার্কিন অর্থনীতিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
সৌদি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে 'দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল' আরও জানিয়েছে, রিয়াদ ইতিমধ্যে তেহরানকে আশ্বস্ত করেছে যে, তারা এই সম্ভাব্য দ্বন্দ্বে নিরপেক্ষ থাকবে।
এমনকি যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের আকাশসীমা ব্যবহার করে হামলা চালাতেও অনুমতি দেওয়া হবে না। মূলত মার্কিন নেতৃত্বাধীন এই সংঘাত থেকে নিজেদের নিরাপদ রাখতেই রিয়াদ এই অবস্থান নিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, উপসাগরীয় দেশগুলো ওয়াশিংটনকে তেহরানে ‘শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের’ লক্ষ্য থেকে বিরত থাকার বিষয়েও সতর্ক করেছে। তাদের মতে, এমন পদক্ষেপ পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। আরব দেশগুলো মনে করে, ইরানের বর্তমান শাসন ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই।
উপসাগরীয় দেশগুলো সঙ্গে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আলোচনা
সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ গত বৃহস্পতিবার অঞ্চলের বেশ কয়েকজন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে টেলিফোনে আলাপ করেন। এসব আলোচনায় বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে আলাপকালে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী অঞ্চলের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। প্রিন্স ফয়সাল কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও একই বিষয়ে কথা বলেন। এই ফোনালাপে তাঁরা আঞ্চলিক উন্নয়নের পর্যালোচনা করেন এবং নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা অর্জনে দেশ দুটির যৌথ প্রচেষ্টার ওপর জোর দেন। একই প্রেক্ষাপটে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওমান সালতানাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেন। তাঁরা বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা রক্ষায় পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে মতবিনিময় করেন।
ইরানে হত্যাকাণ্ড বন্ধের খবর পেলেও সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
রেজা পাহলভিকে ভালো মানুষ বললেও জনসমর্থন নিয়ে সংশয়ে ট্রাম্প
রাজতন্ত্র বনাম বামপন্থীদের পুরনো দ্বন্দ্বে বিভক্ত ইরানের বিরোধী শিবির
অভ্যন্তরীণ কোন্দলে পতনের মুখে তালেবান সরকার