ইরানের বিশাল গণবিক্ষোভ দেশটির শাসন ব্যবস্থার নির্বাসিত শত্রুদের ঐক্যবদ্ধ করলেও, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের আগের পুরনো তিক্ত বিভেদ এখনও প্রধান বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে রয়ে গেছে। এই বিভক্তি মূলত ক্ষমতাচ্যুত শাহর পুত্র রেজা পাহলভির সমর্থক রাজতন্ত্রী এবং তুলনামূলক সুসংগঠিত বামপন্থী দল মুজাহেদিন-ই খালকের (এমইকে) মধ্যে। এই দ্বন্দ্ব বর্তমানে অনলাইন জগত থেকে শুরু করে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার রাজপথের বিক্ষোভেও উত্তপ্ত বাদানুবাদে রূপ নিয়েছে। খবর রয়টার্সের।
ইরানের ভেতরে এই দুই গোষ্ঠীর কার জনসমর্থন কতটুকু, অথবা ভবিষ্যতে তারা দেশটির পরিস্থিতি নির্ধারণে কতটা ভূমিকা রাখতে পারবে- তা পরিমাপ করা বেশ কঠিন। যদিও কয়েক দশক ধরে বিশ্লেষক ও কূটনীতিকরা মনে করেন, এই দুই গোষ্ঠীই ইরানের ভেতরের চেয়ে প্রবাসীদের কাছে অনেক বেশি জনপ্রিয়। এছাড়া দেশের বাইরে থাকা অনেক ইরানি নাগরিক রাজতন্ত্রী এবং এমইকে- উভয় পক্ষকেই সন্দেহের চোখে দেখেন, কিন্তু তাদের নিজস্ব কোনো সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক নেই।

স্বীকৃত বিরোধীদল বা নেতার অভাব বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহলে ইরানের প্রাণঘাতী অস্থিরতা মোকাবিলা করাকে জটিল করে তুলেছে। এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইরানে বিমান হামলার কথা ভাবছেন, তখনও তিনি পাহলভির জনসমর্থন নিয়ে সংশয় জানিয়েছেন। লন্ডনের চ্যাথাম হাউসের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক প্রধান সানাম ওয়াকিল বলেন, সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এমন কোনো অন্তর্ভুক্তিমূলক সংগঠন নেই যা ধর্মীয়, জাতিগত ও আর্থ-সামাজিক ভেদাভেদ ভুলে সব স্তরের ইরানিদের একত্র করতে পারে।
সমর্থন পরিমাপ করা দুঃসাধ্য
গত দুই সপ্তাহের সহিংস অস্থিরতার মধ্যে ইরানের বিভিন্ন শহর থেকে আসা ভিডিওগুলোতে দেখা গেছে, কিছু বিক্ষোভকারী ক্ষমতাচ্যুত রাজতন্ত্র এবং শাহর পুত্রের সমর্থনে স্লোগান দিচ্ছে। শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভি, যিনি ১৯৭৯ সালে নির্বাসনে যান এবং এক বছর পর মৃত্যুবরণ করেন, তিনি ছিলেন পশ্চিমা বিশ্বের এক ঘনিষ্ঠ মিত্র। তিনি নিজেকে একজন আধুনিকায়নকারী নেতা হিসেবে উপস্থাপন করতেন। তবে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক বৈষম্য ও গণতান্ত্রিক সংস্কারে তাঁর অনীহা দেশটিকে অস্থিতিশীল করে তুলেছিল।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত তাঁর ৬৫ বছর বয়সী পুত্র রেজা পাহলভি বলছেন, তিনি ইরানে গণতন্ত্র চান। বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন হলে তিনি নিজে কী ভূমিকা নেবেন, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করে কিছু বলেননি। তাঁর সমর্থকরা ইরানের ভেতরে সম্প্রচারিত হওয়া অন্যতম প্রধান একটি ফারসি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল পরিচালনা করেন।

পশ্চিমে থাকা পাহলভির সমর্থকরা বিক্ষোভের ভিডিওগুলোকে প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরে বলছেন, তাঁর জনপ্রিয়তা বাড়ছে এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতন হলে একমাত্র তিনিই দেশকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারবেন।
তবে ইরান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী বিদেশি কর্মকর্তা ও কূটনীতিকদের মধ্যে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। একজন পশ্চিমা কূটনীতিকের মতে, রাজপথে কোনো স্বীকৃত বিরোধী মুখ না থাকায় বিক্ষোভকারীরা পাহলভির নাম ব্যবহার করে থাকতে পারেন, কিন্তু এর মানে এই নয় যে দেশীয়ভাবে তাঁর কোনো সুসংগঠিত সমর্থন রয়েছে। অন্যদিকে, একজন ইউরোপীয় কর্মকর্তা মনে করেন, পাহলভি সহ বিদেশি বিরোধীদের আহ্বানে বিক্ষোভের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়াটা ইঙ্গিত দেয় যে তাঁর প্রভাব আগের চেয়ে বেড়েছে।
রেজা পাহলভিকে ভালো মানুষ বললেও জনসমর্থন নিয়ে সংশয়ে ট্রাম্প