মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন এক অগ্নিগর্ভ রূপ নিয়েছে। একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক অভিযানের হুমকি এবং অন্যদিকে ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর চূড়ান্ত যুদ্ধের প্রস্তুতি- সব মিলিয়ে অঞ্চলটিতে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিংকনের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী নৌবহর পারস্য উপসাগরে অবস্থান নিয়েছে। ট্রাম্পের মতে, এই ‘বিশাল আর্মাডা’ যে কোনো সময় তেহরানের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করতে সক্ষম।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি জানিয়েছেন, তিনি পেন্টাগন ও হোয়াইট হাউস থেকে ইরানের রাষ্ট্রীয় স্থাপনা এবং ইসলামি রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) ওপর সম্ভাব্য হামলার বিকল্প পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। ট্রাম্প ইরানকে পুনরায় আলোচনার টেবিলে ফেরার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন এবং স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরান যদি পারমাণু কর্মসূচি ত্যাগ না করে, তবে ভয়াবহ হামলার শিকার হবে।
মার্কিন হুমকির মুখে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইরানের অন্য কারো সাহায্যের প্রয়োজন নেই এবং যে কোনো ধরনের উত্তেজনা মোকাবিলায় তেহরান পুরোপুরি প্রস্তুত।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকেও জোরালো হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। সেনাপ্রধান আমির হাতামি বলেন, গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধের পর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে এবং এটি এখন ‘অবিনশ্বর’। সেনাবাহিনী বর্তমানে পূর্ণ যুদ্ধ প্রস্তুতিতে রয়েছে।
আইআরজিসি’তে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার আলী খামেনির প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ হাজি সাদেকী বলেছেন, ইরানের ওপর কোনো আগ্রাসন চালানো হলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সব সামরিক অবকাঠামো এবং তাদের মিত্রদের ওপর পাল্টা হামলা চালানো হবে।
গত এক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে অন্তত ১০টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে এবং ৪২টি কার্গো বিমান পাঠিয়েছে। এই ব্যাপক সামরিক প্রস্তুতি দেখে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র কেবল চাপের কৌশল নয়, বরং সরাসরি যুদ্ধের প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছে।

ইরানের প্রতিবেশী আজারবাইজান এই পরিস্থিতির ওপর গভীর নজর রাখছে। তারা আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও পরিবহন করিডোরের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মনে করিয়ে দিয়েছেন, গত বছরের জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছিল। এবার হামলা হলে তা হবে আরও বেশি বিধ্বংসী। অন্যদিকে ইরান বলছে, তারা আলোচনা করতে রাজি থাকলেও তাদের প্রতিরক্ষা বা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা নিয়ে কোনো আপস করবে না।
ওয়াশিংটন যখন আলোচনার প্রস্তাবের সাথে সামরিক চাপ বাড়িয়ে চলেছে, তেহরান তখন ‘কঠিন এবং সিদ্ধান্তমূলক’ জবাব দেওয়ার জন্য প্রহর গুনছে। দুই দেশের এই অনড় অবস্থান যে কোনো মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যকে এক নতুন ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মুখে ঠেলে দিতে পারে।
