মরক্কোতে ধ্বংসস্তূপে আটকা বহু মানুষ, উদ্ধার তৎপরতা নিয়ে ক্ষোভ

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০২:১২ পিএম

মরক্কোতে মৃত্যু মিছিল দীর্ঘ হওয়ার সাথে সাথে বাড়ছে ক্ষোভ। দেশটির নাগরিকদের অভিযোগ, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অনেকেই চাপা পড়ে আছেন, তাদের উদ্ধারে নেই তেমন কোনো উদ্যোগ। অধিকাংশ অঞ্চলে ভেঙে পড়েছে যোগযোগ ব্যবস্থা। বিদ্যুৎ না থাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। 

এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, ভূমিকম্পে বাড়িঘর হারিয়ে অনেকেই টানা তৃতীয় দিনের মতো খোলা আকাশের নিচে রাত কাটিয়েছেন। অনেক এলাকায় ওষুধ ও খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।

ছয় দশকের সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভূমিকম্পে দেশটির আল-হাউজ, মারাকেশ, কোয়ারজাজাতে, আজিলাল, চিচাওয়া ও টারোডেন্ট এলাকা রীতিমতো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। 

অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পর্যটন নগরী মারাকেশ। এ শহরের অধিকাংশ ভবন পুরোনো এবং জাতিসংঘ ঘোষিত একাধিক বিশ্ব ঐতিহ্যের নিদর্শন রয়েছে। ভূমিকম্পের ঝাঁকুনিতে সেখানকার অসংখ্য বাড়িঘর ধসে পড়েছে। এসব এলাকায় এখনও পৌঁছাতে পারেনি উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা। 

মরক্কোয় ৬ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প

মারাকেশের দক্ষিণে প্রত্যন্ত পাহাড়ি গ্রামে উদ্ধারকারীরা শুক্রবার রাতের মারাত্মক ভূমিকম্পের পর বেঁচে যাওয়া বাসিন্দাদের খুঁজে বের করার জন্য রীতিমতো লড়াই করছে।

মারাকেশ থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার (৩০ মাইল) দূরের আসনি এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, তাদের জরুরি সহায়তা প্রয়োজন।

এক বাসিন্দা বলেন, আমাদের কাছে খাবার নেই, রুটি বা শাকসবজি নেই। আমাদের কিছুই নেই। 

তিনি আরও বলেন, আমাদের কাছে কেউ আসেনি। আমাদের আছে শুধু ঈশ্বর এবং রাজা।

মারাকেশের এক হাসপাতালে কর্মী মানেল বিবিসিকে জানান, ভূমিকম্পে তিনি তার ১০ আত্মীয়কে হারিয়েছেন। যারা শহরের বাইরের গ্রামে বসবাস করতেন। 

তিনি বলেন, আমরা এখন থেকে কিছু করতে পারছি না। আমার আত্মীয়দের সাহায্য করতে চেয়েছিলাম কিন্তু রাস্তা বন্ধ থাকায় আমরা সেখানে যেতে পারছি না।

'কর্তৃপক্ষের উচিত রাস্তাগুলো খুলে দেয়া, যাতে আমরা সেখানে যেতে পারি।'

তিনি আরও বলেন, আপাতত আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই, কারণ ইন্টারনেট পরিষেবা এবং যোগাযোগের সব রাস্তা বন্ধ। 

পরিস্থিতি খুবই কঠিন উল্লেখ করে মানেল বলেন, কিন্তু আমরা একটা সমাধান বের করার চেষ্টা করছি। মরক্কোর নাগরিক হিসেবে আমরা আমাদের ভাইদের এবং আহত বা নিহতদের পরিবারকে সাহায্য করতে চাই। 

মরক্কোতে দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যু মিছিল

মারাকেশের কাছের আরেকটি ছোট্ট গ্রাম তাফেঘাঘেতে। ভূমিকম্পে গ্রামটি প্রায় সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। মারা গেছেন প্রায় অর্ধেক বাসিন্দা। 

স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, এই গ্রামের মানুষ হয় হাসপাতালে অথবা মৃত।

তাফেঘাঘেতের আরেক বাসিন্দা আবদু রহমান জানান, তিনি তার স্ত্রী এবং তিন ছেলেকে হারিয়েছেন। কিন্তু সে অর্থে কোনো সহায়তা পাননি। 

কর্তৃপক্ষ বলছে, উদ্ধারকর্মীরা এখনও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে প্রতি মুহূর্তে আটকে পড়াদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা কমে আসছে। 

এরইমধ্যে স্পেন, যুক্তরাজ্য, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাহায্যের প্রস্তাব গ্রহণ করেছে মরক্কো। ফ্রান্স, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং আরও কয়েকটি দেশ বলেছে যে তারাও সাহায্য করতে প্রস্তুত।

স্পেন দুটি দলে ৮৬ জন বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারী পাঠিয়েছে, যার প্রত্যেকটিতে চারটি স্নিফার কুকুর রয়েছে।

যুক্তরাজ্য সরকার একটি ছোট মেডিকেল টিমসহ দুটি বিমানে চারটি কুকুরসহ ৬০ জন উদ্ধারকর্মীকে পাঠাচ্ছে। সাথে রয়েছে সিসমিক লিসেনিং ডিভাইস এবং কংক্রিট কাটার সরঞ্জাম। 

পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্বীকার মরক্কো সরকার জানিয়েছে, তারা সাহায্যের প্রস্তাবগুলো যত্নসহকারে মূল্যায়ন করছে, কারণ "সমন্বয়ের অভাব বিপরীতমুখী হতে পারে"।

অনেক এলাকায় পৌঁছাতে পারেননি উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা

এর আগে স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত ১১টার দিকে মরক্কোর পশ্চিমাঞ্চলে ৬ দশমিক ৮ ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। 

মরক্কোর ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের অ্যাটলাস পর্বতমালা ঘেঁষা প্রদেশ আল হাউজের পার্বত্য শহর ইঘিলে, ভূপৃষ্ঠ থেকে ১৮ দশমিক ৫ মিটার গভীরে।  

দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর থেকে এ পর্যন্ত দুই হাজার ১২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যদিকে আহত দুই হাজারের মধ্যে ১৪০০ জনেরও বেশি মানুষের অবস্থা গুরুতর। 

ভূমিকম্পে হতাহতের ঘটনায় রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ দেশটিতে তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেছেন। 

আরবিএস
নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তে সৃষ্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ধসে অন্তত ১৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের কারণে প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে বলে উভয় দেশের কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা...
নেপালের মধ্য অঞ্চলের রসুয়া জেলায় ভোটেকোশী নদীতে আচমকা সৃষ্টি হওয়া ভয়াবহ ও নজিরবিহীন বন্যার মূল কারণ চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। কাঠমান্ডু ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক এবং বিশিষ্ট জলবায়ু গবেষক রিজান...
বাংলাদেশ-ভারতের উপকূলজুড়ে বিস্তৃত বঙ্গোপসাগরে বাড়ছে ভূকম্পনের ঝুঁকি! বঙ্গোপসাগরের তলদেশে পরিবর্তনশীল টেকটনিক প্লেট, বিপুল পরিমাণ পলির আস্তরণ এবং প্রাচীন ফাটলগুলোর নতুন করে পুনরুজ্জীবিত হওয়ায়...
ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পের দুই মাস পর মৃতের সংখ্যা বেড়ে ছয় হাজার ৫০৯ জনে দাঁড়িয়েছে। তবে এখনো বহু মানুষ নিখোঁজ থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। 
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সরকার তাদের ভাতা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেবে। রাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে আগামীতে এ ভাতা বাড়ানো হবে, যাতে...
ম্যাচের শুরুটা হয়েছিল দারুণ এক ঝড় দিয়ে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই ঝড় এসে থামলো এক অচেনা ও করুণ ধ্বংসস্তূপে! ত্রিদেশীয় সিরিজে দুর্দান্ত বোলিং প্রদর্শনী দেখিয়ে বাংলাদেশকে এক কথায় উড়িয়ে দিয়েছে...
শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হলো গভীর শোকে। ভারতের কলকাতার একটি জনপ্রিয় পূজামণ্ডপে অতিরিক্ত ভিড় ও বৃষ্টির জেরে সৃষ্ট পদদলনে ঘটনায় অন্তত ১৭ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত...
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী পাটোয়ারটেক সৈকতসংলগ্ন এলাকায় কাঠের তৈরি তিনতলা টুপটুপ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্তোরাঁয় সংঘটিত ভয়াবহ আগুনে ১০ জন পর্যটকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্যকর সব তথ্য সামনে এসেছে।...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর