ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ‘সভ্যতা ধ্বংসের’ হুমকিতে এখন উত্তাল আমেরিকার রাজনীতির অন্দরমহল। ইরানের ওপর চূড়ান্ত ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর এই আল্টিমেটামকে শুধু ‘যুদ্ধংদেহী মনোভাব’ নয়, বরং একজন ‘মানসিকভাবে অসুস্থ’ ব্যক্তির প্রলাপ হিসেবে দেখছেন ঝানু ডেমোক্র্যাট রাজনীতিকরা। ট্রাম্পের এই রক্তপিপাসু মন্তব্যের পর ক্যাপিটল হিল থেকে ধেয়ে আসছে একের পর এক কড়া বাক্যবাণ।
সিনেটের ডেমোক্র্যাট দলীয় নেতা চাক শুমার সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছেন ট্রাম্পের ব্যক্তিত্বের ওপর। তিনি ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, এটি একজন অত্যন্ত অসুস্থ ও বিকারগ্রস্ত মানুষের কাজ। যারা এই ইচ্ছাকৃত ও ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের বিরুদ্ধে ভোট দিতে নারাজ, সেই প্রত্যেক রিপাবলিকানকে এই ভয়াবহ পরিণতির দায়ভার নিতে হবে। শুমারের মতে, ট্রাম্পের এই খামখেয়ালি যুদ্ধের মাশুল দিতে হবে পুরো বিশ্বকে।
প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফরিস একে ‘পাগলামি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প আমাদের তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের খাদের কিনারে ঠেলে দেয়ার আগেই কংগ্রেসকে এই অবিবেচনাপ্রসূত যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। রিপাবলিকানদের প্রতি আমার আহ্বান- দলীয় আনুগত্য ছেড়ে দেশের প্রতি ভালোবাসা দেখান এবং এই উন্মাদনা এখনই থামান। অনেক হয়েছে, আর নয়!
কংগ্রেসম্যান জেসন ক্রো ট্রাম্পের ‘সভ্যতা মুছে দেয়ার’ হুমকিকে সরাসরি ‘যুদ্ধাপরাধ’ বলে দেগে দিয়েছেন। তিনি মার্কিন সামরিক বাহিনীকে মনে করিয়ে দেন, তাদের শুধু ‘আইনসংগত’ নির্দেশ মানা উচিত। অন্যদিকে, কংগ্রেসম্যান জিম ম্যাকগভার্ন ট্রাম্পের এই মানসিকতাকে ‘বিশুদ্ধ শয়তানি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের এই জাতিগত নির্মূলের হুমকি বা জেনোসাইডাল থ্রেট ফেডারেল ও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ অবৈধ।
সব মিলিয়ে ট্রাম্পের ‘ডেডলাইন’ যত ঘনিয়ে আসছে, ওয়াশিংটনের অন্দরমহলে উত্তেজনা ততই নাটকীয় মোড় নিচ্ছে। ডেমোক্র্যাটদের এই ‘সাউসি’ বা কড়া মেজাজের প্রতিক্রিয়া স্পষ্ট করে দিচ্ছে, ট্রাম্পের এই ‘সভ্যতা বিনাশী’ পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই বিভক্তির দেয়াল এখন হিমালয় সমান উঁচু। বিশ্ব এখন দেখছে এক প্রেসিডেন্টের একরোখা জেদ বনাম একদল আইনপ্রণেতার শেষ মুহূর্তের প্রতিরোধের লড়াই।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
