কারাবন্দি সাবেক থাই প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার সাজা কমিয়ে ডিক্রি জারি করেছেন থাইল্যান্ডের রাজা। শীর্ষস্থানীয় এই ধনকুবেরের আট বছরের সাজার সাত বছর মওকুফ করে এক বছরে আনা হয়েছে।
শুক্রবার থাকসিনের সাজা কমানো নিয়ে এক বিবৃতিতে থাই সরকার জানায়, ‘রাজা মহা ভজিরালঙ্কম থাকসিনের সাজায় কাটছাঁট করেছেন। তার সাজা সাত বছর কমিয়ে এক বছর করা হয়েছে।’ খবর এএফপি’র।
সাজা কমানোর জন্য ৭৪ বছর বয়সী এই ধনকুবের ক্ষমা চেয়ে রাজার কাছে আবেদন করেন। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে থাই রাজা তার সাজা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
শুক্রবার প্রকাশিত সাজা কমানোর রাজকীয় গেজেটে বলা হয়েছে, ‘থাকসিন তার অপরাধ স্বীকার করেছেন এবং অনুশোচনা করেছেন।’ থাকসিন যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তখন দেশ ও জনগণের জন্য ভালো কাজ করেছেন এবং রাজতন্ত্রের প্রতি অনুগত ছিলেন বলেও গেজেটে উল্লেখ করা হয়েছে।
গেজেটে আরও বলা হয় ‘থাকসিন আদালতের রায়কে সম্মান করেছেন এবং অপরাধ স্বীকার করেছেন। তিনি অনুতপ্তও হয়েছেন। তিনি এখন বৃদ্ধ এবং অসুস্থ। এই মুহূর্তে তার চিকিৎসা ও সেবার প্রয়োজন।’
রয়্যাল গেজেটে উল্লেখ, ‘মহারাজা তাকে সাধারণ ক্ষমা দিয়েছেন এবং সাজা কমিয়েছেন যাতে তিনি তার দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়ন করতে পারেন।’
স্বেচ্ছায় ১৫ বছর নির্বাসনে থাকার পর গত ১৫ আগস্ট থাইল্যান্ডে ফেরেন থাকসিন। বিমানবন্দর থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
তিনটি অভিযোগে আদালত থাকসিন সিনাওয়াত্রাকে আট বছরের সাজা দিয়েছিল। আসামির অনুপস্থিতিতে থাকসিনের বিরুদ্ধে সাবেক শিন কর্প প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট মামলা, একটি ব্যাংক ঋণ ও একটি লটারির মামলার বিচারের রায়ে আট বছরের সাজা দেওয়া হয়।
থাকসিন দুইবার থাইল্যান্ডের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ২০০৬ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হন। দুর্নীতির মামলায় কারাগারে যাওয়া এড়াতে ২০০৮ সালে দেশ ছাড়েন তিনি।
থাইল্যান্ডে ফিরেই গ্রেপ্তার থাকসিন সিনাওয়াত্রা
হাসপাতালে থাকসিন সিনাওয়াত্রা