অবশেষে আবারও পাকিস্তানের মাটিতে পা রাখলেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ। চার বছরের স্বেচ্ছা নির্বাসন কাটিয়ে পাকিস্তানে ফিরেছেন তিনি। শনিবার দুবাই থেকে চাটার্ড বিমানে চড়ে ইসলামাবাদে ফেরেন পাকিস্তান মুসলিম লিগ- নওয়াজ (পিএমএল-এন) দলের নেতা ও দেশটির তিনবারের প্রধানমন্ত্রী।
আগামী বছরই পাকিস্তানের অনুষ্ঠিত হবে সাধারণ নির্বাচন। তার আগে নওয়াজের ফিরে আসাকে দেশটির রাজনীতিতে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে মনে করে হচ্ছে। এই মুহূর্তে পাকিস্তানির সরকার প্রধান শাহবাজ শরীফ নওয়াজের ছোট ভাই। অন্যদিকে প্রধান প্রতিপক্ষ ইমরান খান জেলে আছেন।
নওয়াজ শরীফের সঙ্গে এসেছেন তাঁর পরিবারের কিছু সদস্য এবং দলের শীর্ষ পদস্থ কিছু নেতা। পাকিস্তানে ফিরতে পেয়ে নিজের খুশির কথা আগেই জানিয়েছিলেন নওয়াজ শরিফ। তার দেশে সহজ করতে বিশেষ আইনও পাস করিয়ে দেন তার ছোট ভাইয়ের নেতৃত্বাধীন সরকার।

দুবাই থেকে বিমানে চাপার আগে নওয়াজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, চার বছর পর পাকিস্তানে ফিরছি আমি। আমি যখন পাকিস্তান থেকে বিদেশে গিয়েছিলাম তখন মনের মধ্যে কোনও আনন্দ ছিলো না। কিন্তু আজ আমি খুশি। দেশের মাটিতে ফিরতে পারার আনন্দের সঙ্গে কোন কিছুর তুলনা হয় না।
এর পাশাপাশি দেশের পরিস্থিতি নিজের হতাশার কথাও জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশের পরিস্থিতি দেখে আমি খুব হতাশ। অর্থনীতি এবং একতার নিরিখে দেশ এগিয়ে যাওয়ার বদলে পিছিয়ে যাচ্ছে। তিনি জানান, দুর্নীতি থেকে দেশকে বাঁচাতে এবং অর্থনীতি পুনরুদ্ধারই হবে তার প্রধান কাজ।
প্রসঙ্গত দুর্নীতি মামলায় জেলসাজা এড়িয়েছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। এ সপ্তাহের শুরুতে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট তাঁকে মঙ্গলবার অবধি জামিন দেন। এখনই তাকে গ্রেপ্তার না করতে আদেশ দেয়। তারপরই দেশে ফেরার কথা জানান নওয়াজ। চার বছরের নির্বাসন কাটিয়ে অবশেষে শনিবার দেশের মাটিতে পা দিলেন তিনি।
নওয়াজ শরীফ দেশে ফিরছেন একথা ছড়াতেই পাকিস্তান মুসলিম লীগ (নওয়াজ) সমর্থকরা ভিড় জমিয়েছেন ইসলামাবাদের । সেখানকার গ্রেটার ইকবাল পার্কে বহু পিএমএল-এন সমর্থকরা জড়ো হয়। সে ভিড় ঠেকাতে ইসলামাবাদে সাত হাজার অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনও করা হয়।
দুর্নীতির দায়ে ২০১৮ সালে ৭ বছর কারাদণ্ড দেয়া হয় নওয়াজকে। সর্বশেষ পাকিস্তানে কারাগারে তিনি সাজা ভোগ করেন। কিন্তু পরে অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে জামিনে মুক্তি দেয়া হয়। ২০১৯ সালের নভেম্বরে চিকিৎসার জন্য আদালত তাকে যুক্তরাজ্য যাওয়ার অনুমতি দেয় এবং এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তিনি লন্ডন চলে যান।

নওয়াজ ১৯৯০ থেকে ১৯৯৩, ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৯ এবং ২০১৩ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত তিন দফায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন, যদিও কোনোবারই তিনি মেয়াদ পূরণ করতে পারেননি। দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে নানা সময়ে নওয়াজ দেশটির প্রভাবশালী সেনাবাহিনীর সঙ্গে বিরোধে জড়িয়েছেন।
২০২২ সালে অনাস্থা ভোটে ইমরান খান ক্ষমতা থেকে উৎখাত হওয়ার পর পুনরায় রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন নওয়াজ। নওয়াজের স্থলাভিষিক্ত হয়েই ২০১৮ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন ইমরান। ইমরান ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হলে পাকিস্তানের সরকার পরিচালনায় চলে আসে নওয়াজের দল পিএমএল-এন। দলটির বর্তমান নেতা নওয়াজের ভাই শাহবাজ শরীফ।
ফিলিস্তিনিদের ভূমি ফিরিয়ে দিতে বললেন সালমান