এখন রোহিঙ্গাদেরই সহায়তা চাইছে মিয়ানমারের জান্তা

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০২৪, ০২:০৩ পিএম

রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর চালানো দমন-পীড়ন ও নির্যাতন এতোটাই তীব্র ছিল যে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীটির লাখো সদস্যকে প্রাণ বাঁচাতে প্রতিবেশী বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নিতে হয়। এখন সেই রোহিঙ্গাদের কাছেই সহায়তা চাইছে দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া মিয়ানমারের জান্তা।

প্রায় সাত বছর ধরে পরিকল্পিতভাবে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী হাজারো রোহিঙ্গা হত্যা করেছে। এখন পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দেশটির সামরিক জান্তা এই নৃগোষ্ঠীর সহায়তা চাইছে। সোমবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে বিবিসির সাংবাদিকরা জানতে পেরেছেন, সম্প্রতি অন্তত ১০০ জন রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একাধিক সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে চলমান লড়াইতে সামরিক শক্তিমত্তা বাড়াতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

সশস্ত্র সেনাদের মদদে জ্বালিয়ে দেয়া হচ্ছে একটি রোহিঙ্গা গ্রাম। ছবি: সংগৃহীত।

তবে এই ১০০ জন রোহিঙ্গাকে সুরক্ষিত রাখতে তাদের নাম-পরিচয় বদলে দেওয়া হয়েছে। বিবিসি বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গার সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হয়েছে, সেনা কর্মকর্তারা তাদের বিভিন্ন ক্যাম্পে এসে অপেক্ষাকৃত তরুণ সদস্যদের সামরিক প্রশিক্ষণে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে দেশটির নাগরিকত্ব দেওয়া হয়নি। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রকমের বৈষম্যমূলক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, যার ফলে তারা নিজেদের সম্প্রদায়ের বাইরে যেতে পারেন না।

২০১২ সালে অন্যান্য সম্প্রদায়ের সঙ্গে বসবাসরত হাজারো রোহিঙ্গাকে আলাদা করে কিছু ক্যাম্পে এনে রাখা হয়। এসব ক্যাম্পে তারা মানবেতর পরিস্থিতিতে বসবাস করছেন। ২০১৭ সালের আগস্টে সামরিক বাহিনীর ‘নির্মূল’ অভিযানের মুখে সাত লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে চলে যায়। এসময় হাজারো রোহিঙ্গাকে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয়। তাদের গ্রামগুলো আগুনে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। তা সত্ত্বেও, এখনও প্রায় ছয় লাখ রোহিঙ্গা সেখানে টিকে আছে।

জ্বলতে থাকা গ্রাম ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বাংলাদেশের পথে রোহিঙ্গারা। ছবি: সংগৃহীত।

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে। এই মামলার কার্যক্রম এখনও চলছে।

সম্প্রতি আরাকান আর্মি নামের একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর কাছে রাখাইন অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ভূখণ্ডের দখল হারানোর পর মিয়ানমারের সেনাবাহিনী বিপর্যস্ত হয়ে পরেছে। রোহিঙ্গাদের সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ হারানো ভূখণ্ড ফিরে পাওয়ার মরিয়া প্রচেষ্টার উদাহরণ বলে উল্লেখ করেছেন বিশ্লেষকরা।

দেশের অন্যান্য অংশেও ক্ষতির শিকার হয়েছে দেশটির সামরিক জান্তা। শনিবার পূর্বাঞ্চলে থাইল্যান্ড-মিয়ানমার সীমান্তে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ শহর মায়াবতীর দখল হারিয়েছে জান্তা। বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে এই স্থলবন্দরটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সাম্প্রতিক সংঘর্ষগুলোতে সামরিক জান্তা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে সেনাও হারিয়েছে। বিরোধী পক্ষের হাতে তারা নিহত, আহত হয়েছেন এবং কেউ কেউ আত্মসমর্পণ, এমনকি বিরোধী পক্ষেও যোগ দিয়েছেন। যার ফলে নতুন সেনা খুঁজে পেতে হিমশিম খাচ্ছে জান্তা।

ইনদিন গ্রামে ২ সেপ্টেম্বর ২০১৭ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের পাহারায় দশজন রোহিঙ্গা পুরুষকে হাত বেঁধে হাঁটু গেড়ে বসিয়ে রাখা হয়েছে। ছবি: রয়টার্স।

রোহিঙ্গারাও বিষয়টি নিয়ে শঙ্কিত। তারা আশঙ্কা করছেন, জান্তার পক্ষে যুদ্ধ করতে যেয়ে তারাও প্রাণের ঝুঁকিতে থাকবেন।

বিবিসি জানতে পেরেছে, নতুন রোহিঙ্গা সেনাদের বন্দুকে গুলি ভরা ও গুলি ছোড়ার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। মূলত মিয়ানমার সেনাবাহিনীর প্রথাগত অস্ত্র বিএ-৬৩ রাইফেল ব্যবহার করা শিখছেন তারা।

তবে, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে রোহিঙ্গাদের ব্যবহারের বিষয়টি অস্বীকার করেছে। জান্তার মুখপাত্র জাও মিন তুন বিবিসিকে জানান, রোহিঙ্গাদের সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও তাদেরকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা নেই।

রোহিঙ্গারা যাতে নিজেদেরকে সুরক্ষিত রাখতে পারে, সে উদ্দেশে তাদেরকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

সর্বস্ব হারিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে দেশ ছাড়ছে রোহিঙ্গারা। ছবি: সংগৃহীত।

এদিকে, বিবিসির সাক্ষাৎকারে পাঁচটি ভিন্ন ক্যাম্পের সাত রোহিঙ্গার প্রত্যেকেই নিশ্চিত করেন, অন্তত ১০০ জন রোহিঙ্গাকে এ বছর সেনাবাহিনীতে নিয়োগ দিয়ে যুদ্ধে পাঠানো হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সংঘাতে রোহিঙ্গাদের আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে যুদ্ধে নিয়োজিত করে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা দেশটিতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টির ঝুঁকি তৈরি করছে, বিশেষত, দেশটির বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী রাখাইন জনগোষ্ঠীর সঙ্গে- যাদের বেশিরভাগই বিদ্রোহীদের পক্ষে।

গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখলের পর থেকেই সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম চালাচ্ছে বিদ্রোহী গোষ্ঠীরা। প্রায় তিন বছর ধরে মিয়ানমারে জ্বলছে গৃহযুদ্ধের আগুন।

 

একাত্তর/জো
প্রকৃতির তাণ্ডবে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একাধিক দেশ। থাইল্যান্ড, ভারত এবং মিয়ানমারে টানা মুষলধারে বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যায় অন্তত ১৩০ জনের মর্মান্তিক...
বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের যুদ্ধবিধ্বস্ত রাখাইন রাজ্যে জান্তা বাহিনীর এক নৃশংস ও রক্তক্ষয়ী বিমান হামলায় অন্তত ৩৩ জন নিরীহ নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। সোমবার রাখাইনের উত্তরাঞ্চলীয় ক্যাওকটাউ শহরের...
ইরানে সম্ভাব্য যেকোনো ধরনের মার্কিন স্থল অভিযানের বিরুদ্ধে কঠোর হুঙ্কার দিয়ে অভিনব এক পুরস্কারের কথা ঘোষণা করেছে ইরানি সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানি ভূখণ্ডে অনধিকার...
চীন সংলগ্ন উত্তর-পূর্ব মিয়ানমারের শান রাজ্যে একটি ভয়াবহ খনি বিস্ফোরণে শিশুসহ কমপক্ষে অর্ধশতাধিক মানুষ নিহত এবং বহু মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় গত রোববার দুপুরের দিকে শান রাজ্যের কাওং তাত...
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সরকার তাদের ভাতা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেবে। রাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে আগামীতে এ ভাতা বাড়ানো হবে, যাতে...
ম্যাচের শুরুটা হয়েছিল দারুণ এক ঝড় দিয়ে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই ঝড় এসে থামলো এক অচেনা ও করুণ ধ্বংসস্তূপে! ত্রিদেশীয় সিরিজে দুর্দান্ত বোলিং প্রদর্শনী দেখিয়ে বাংলাদেশকে এক কথায় উড়িয়ে দিয়েছে...
শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হলো গভীর শোকে। ভারতের কলকাতার একটি জনপ্রিয় পূজামণ্ডপে অতিরিক্ত ভিড় ও বৃষ্টির জেরে সৃষ্ট পদদলনে ঘটনায় অন্তত ১৭ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত...
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী পাটোয়ারটেক সৈকতসংলগ্ন এলাকায় কাঠের তৈরি তিনতলা টুপটুপ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্তোরাঁয় সংঘটিত ভয়াবহ আগুনে ১০ জন পর্যটকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্যকর সব তথ্য সামনে এসেছে।...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর